গন্ধ
প্রকাশিত: অগাস্ট ৪, ২০১৮
লেখকঃ

 22 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখা: ফাইজা আক্তার সুবনা

বিষন্নমনে দুর্গন্ধময় নদীর পাড় ঘেঁষে হেঁটে হেঁটে এদিকওদিক তাকিয়ে কী যেনো ভাবছেন জাফর সাহেব! উনার পুরো নাম জাফর হায়দার চৌধুরী। পেশায় প্রাইমারি স্কুলের একজন প্রধান শিক্ষক। বছর কয়েক হলো রিটায়ার্ড হয়েছেন। সবাই সম্মানার্থে উনাকে জাফর সাহেব বলে ডাকেন। আজ প্রায় চল্লিশ বছর পর শিক্ষকতা থেকে অবসরযাপন করছেন। জীবনের মোড় পাল্টাতেই শহরের পথে যাত্রা করেন তিনি। উদ্দেশ্য হলো উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে গ্রামের বাড়ি এসে শিক্ষকতা করা। উনি সেই কাজটাই করেন। উনার বাবা সামান্য একজন মুদির দোকানদার ছিলেন। উনাদের সংসারে সদস্য সংখ্যা তখন মাত্র তিনজন। জাফর সাহেব, উনার মা আর বাবা। ভাইবোন কেউ নেই। উনার বাবা সেকালের প্রাইমারি পাশ। মোটামুটি শিক্ষিত বলা যায়। উনি অবশ্য এতটুকু বুঝেন নিজের মত ছেলেকে সামান্য প্রাইমারি পর্যন্ত পড়াতে চান না। সেজন্য শত টানাপোড়নের সংসারেও জাফর সাহেবকে পাঠিয়ে দেন শহরে উচ্চশিক্ষা নিয়ে গ্রামের স্কুলে এসে শিক্ষকতা করার জন্য। বাধ্য ছেলের মত জাফরও তার বাবার সব কথা পালন করে। তবে পরবর্তী সময়ে উনার বাবার সব কথা কী ঠিকমত পালন করতে পারবেন! সেই দ্বিধায় প্রায় সময় জাফর অন্যমনস্ক থাকতেন। এখন উনার সংসার হয়েছে। চাকুরী পাওয়ার বছর পাঁচেক পরে বিয়ে করেন। উনার স্ত্রী সেকালের মেট্রিক্স পাশ। এখন সংসার জীবনে উনার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী আর দুই ছেলে সন্তানদের নিয়ে বেশ ভালো কাটিয়ে যাচ্ছেন জীবনেরপথ! কিন্তু এটি যে পরবর্তী সময়ে উনার জীবনের মোড় সম্পূর্ণ পাল্টে দিবে কে জানে!
জাফর সাহেবের শৈশবের সময়টা গ্রামেই কাটিয়েছেন। যখনি মেট্রিক্সে সেসময় ভালো ফলাফল নিয়ে পাশ করেছেন, তখন মাস্টারমশাই হায়দার চৌধুরীকে বলেন;
– আপনার ছেলেতো সবার চেয়ে এবছর ভালো ফলাফল অর্জন করেছে, আপনি বরং তাকে শহরে পাঠিয়ে দেন। সেখানে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আপনার মুখ উজ্জ্বল করবে।
– হ্যাঁ মাস্টারমশাই, আমিও তেমনটি ভাবছি। নিজের তো সেকালে পড়া হলো না, দেখি একালে আমার ছেলেটাকে মানুষ করতে পারি কিনা!
– নিশ্চয় নিশ্চয় হায়দার সাহেব। চেষ্টা চালিয়ে যান ছেলেটা মানুষের মত মানুষ হবে।
চায়ের দোকানে বসে একে অন্যের সাথে কথা বলা শেষ করে হায়দার সাহেব বিদায় নিয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ান।
.
সেদিনের পরপরই জাফর সাহাবকে উচ্চ শিক্ষার জন্য শহরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা শহরে সেদিনই প্রথম যাত্রা জাফরের। রেলস্টেশনে পৌঁছেই চারদিকটা অবাক হয়ে চেয়ে দেখে সে। একদম নুতন! সবকিছু অচেনা। তবে আসার আগে তাদের গ্রামের সেই মাস্টারমশাই উনার পরিচিত এক বন্ধুর ঠিকানা লিখে দেন। সময় মত সেখানে পৌঁছালেই হয়! তবে খুব ভয়ংকর একটি ঘটনা সেসময় ট্রেনে সবার সাথে ঘটে যায়। আর সেটি হলো উনার মালামাল সহ টাকা কড়ি সব ছিনতাই হয়। একদম অপদস্থ হয়ে যান উনি। কী করা যায় ভেবে পান না! এই প্রথম যাত্রা, তারমাঝে জীবনের ঝুঁকি, একসাথে দশবারোজন ছিনতাইকারী ট্রেনের সব বগিতেই ছিনতায়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রীতিমত সব মানুষ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। কেউ বুঝতে পারে না কিভাবে এমন পরিস্থিতি থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখবে। জাফরের বগি থেকে একটু দূরে একটা ছেলেকে ওরা প্রকাশ্যে খুন করে। সবার সামনে এমন মর্মাহত ঘটনা দেখে অনেকে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। ভোর আনুমানিক তিনটা থেকে চারটা হবে। গভীর রাতের ট্রেনটা সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে ঢাকাগামী হয়ে যাচ্ছে। ট্রেন মাস্টার সহ সবাই জিম্মি হয়ে আছে একদল ছিনতাইকারীর হাতে। অবশ্য এদের ছিনতাইকারী বললে ভুল হবে। এরা দস্যু কিংবা ডাকাত হবে। আচার আচরণ খুব ভয়ংকর। বিশ পঁচিশ বছর বয়সের ছেলেটাকে ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত করে দেয়। দোষটা ছিলো সে বারবার বলছে; ‘তার মায়ের জন্য একটা হালকা সাদা রংঙের সবুজ পাড়ের নুতন শাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। তার যাত্রা সিলেট থেকে ঢাকা, আর ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ। খুব কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে সবেমাত্র শাড়িটা কিনে ট্রেনে উঠেছে। পিচ্ছিল হয়ে ধরে আছে শাড়িটা সেই ছেলে। কিছুতেই দিবে না তার মায়ের জন্য কিনা শাড়ি!’ কিন্তু ওরা না নিয়ে যাবেই না। শেষ পর্যন্ত ছুরির আঘাতে লাল রক্তে মাখামাখি হলো হালকা সাদা রঙের সবুজ পাড়ের সেই শাড়িটা। জাফরের চোখ বেয়ে মনের অজান্তেই পানি অবিরত ঝরে পরছে। ভেতরে ভেতরে দস্যুদের প্রতি ঘৃণা আর নিরীহ ছেলেটার প্রতি অচেনা মায়ায় মোচড়ে যাচ্ছে সে। ডানাকাটা পাখির ন্যায় ছটফট করে প্রায় পনেরো বিশ মিনিটের ভেতরে ছেলেটা বাঁচাও বাঁচাও বলতে বলতে মারা যায়। কান্নার একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যায়। এর প্রায় ঘন্টাখানেকের মধ্যে সবার থেকে যা আছে সব চিনিয়ে নিয়ে ভৈরবের কাছাকাছি আসতেই দস্যুরা ব্যাঙের মত লাফালাফি করে জঙ্গলের মাঝে নেমে পরে সবাই। সাথে সাথে দৌঁড়ে আশপাশের মানুষরা কাছে যায়, যুবকটাকে এসে ধরাধরি করে দেখে ছেলেটা এতসময়ে মারা গিয়েছে। সবার মনেই একটা বুকছেঁড়া দীর্ঘশ্বাস আসে। কেউবা হাউমাউ করে কেঁদে দেয়। তখন প্রতিটা মুহূর্ত জাফরের কাছে পাহাড় সমান যন্ত্রণাময় মনে হয়। পড়ালেখার জন্য না আসলে হয়তো তখনই ফিরতি টিকিটে গ্রামের বাড়ি পাড়ি জমাতো। অনেক কষ্ট করে সেদিন রেলস্টেশনে কাটাতে হয় তাকে। সে একটা চিঠি লিখে গ্রামের মাস্টারমশাই জলিল স্যারের কাছে । তিনচার দিন খেয়ে না খেয়ে রেলস্টেশনে কাটাতে হয় জাফরকে।
চিঠিতে ট্রেনে ছিনতাই করার কথা কিছুটা বলেছিল সে, তবে সেটা শুধু তার নিজের ব্যাগটা চুরির কথা বলে। আর নিষেধ করে যেনো তার বাবা-মাকে উনি না বলেন। নুতন করে উনার বন্ধুর ঠিকানাটা লিখে দেন রেলস্টেশন বরাবর পোষ্ট অফিসে। সেখানের ঠিকানায় চিঠি আর কিছু টাকাও পাঠিয়ে দেন তার বাবার কাছ থেকে চেয়ে। জাফর তিন চারদিন পর হাতে কিছু টাকা আর ঠিকানা নিয়ে অনেক খোঁজে জলিল স্যারের মন্ধুর বাসায় আসে। উনি আবার ব্যবসায়ী। মোটামুটি ভালো ব্যবসা করেন, তাহলো কাপড়ের। অবস্থাও ভালো। উনার নাম রহমত উদ্দিন। পুরান ঢাকায় বাসা। কাপড়ের দোকানও সেখানে। বাসাটা একতলা বিশিষ্ট। উনার পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলেমেয়ে, আর উনি নিজে। ঠিকানা খোঁজে বাসায় পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে যা জাফরের। একজন টিউটর দরকার। উনার ছেলেমেয়ে দুজনই প্রাইমারি ছাত্র। যখন উনার বন্ধু চিঠি দিয়ে জাফরের কথা বললেন তখন তিনি রাজি হয়ে যান। পড়ালেখাও করলো সে সাথে টিউশনি করিয়ে হাত খরচা হলো। টানাপোড়নের সংসারে এমন সুযোগ সবার হয় না। ঢাকা শহরে বিনা খরচে থাকা খাওয়া দুটোই আকাশপাতাল ব্যবধান।
.
প্রায় মাস খানেক হতে চললো। জাফর এখন মোটামুটি ঢাকা শহরে রাস্তাঘাট চিনে। কিন্তু কিছুতেই তার মনে শান্তি পাচ্ছে না। বিমর্ষ চেহারা নিয়ে দিনের পর দিন অতিবাহিত হচ্ছে। পড়াশোনায় তেমন মনোযোগ নেই তার। কেমন একগুঁয়ে হয়ে যাচ্ছে। প্রবল ইচ্ছে হয় তার এই ইট পাথরের শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার। সেই প্রথমদিনের ট্রেনের ঘটনাটা সে আজো ভুলতে পারছে না। মনেমনে
বারবার প্রার্থনা করে এমন নির্মমভাবে কারো জীবন যেনো আর নষ্ট না হয়। রক্তাক্ত না হয় কোন ট্রেনের মেঝ কিংবা নিষ্পাপ দেহ।
যান্ত্রিকতার শহরে প্রায় ছয় বছর কাটিয়ে এখন সে ‘বি,এ’ পাশ করে গ্রামে চলে যাবে। একদমই এই নিষ্ঠুর শহরে থাকার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই জাফরের। তার বাবা-মা’কে বাড়িতে ছুটিতে গিয়ে দেখে আসতো সে। কিন্তু তাতে মন আরো খারাপ হতো, এই ভেবে যে যদি এই যাত্রায় সেই ছেলের মত কিছু হয়। না হওয়ার মত নিশ্চয়তাও তো নেই। তাই প্রতিবারই এত দূরের পথ পাড়ি দিতে আতংকে থাকতো সে। এত বছর পর শেষ হলো সেই ভয়ংকর যাত্রা। মনেমনে এও প্রতিজ্ঞা করে নেয় সে, আর কখনো এই শহরের দিকে আসবে না।
গ্রামের যাওয়ার পর প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদে চাকরি নেয়। চাকরি নেয়ার পর থেকে সবাই সম্মান করে জাফর সাহেব বলে ডাকে। এর আগেও তাদের ভালো সম্মান ছিলো নিজেদের গ্রামে। চাকরি নেয়ার বছর পাঁচেক পরে উনার বাবা-মায়ের পিড়াপিড়িতে বিয়ে করেন উনার পাশের গ্রামের একজন মেয়েকে। যেকিনা সে সময়ের মেট্রিক পাশ।
বিয়ের দুবছর পর উনার টুকটুকে চাঁদের মত সুন্দর একটা ছেলে হয়। উনার বাবা নাতির নাম রাখেন জয় হায়দার চৌঁধুরী। তাদের মধ্যবিত্ত সংসারটা বেশ ভালোই চলছিলো। জাফর সাহেবও স্কুল নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পরেন। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় উনার বাবা হঠাৎ স্টোক করে মারা যান। অপ্রস্তুত ছিলো উনার পুরো পরিবার। উনার বাবার হঠাৎ মৃত্যুতে উনার মা পুরোপুরি ভেঙে পরেন। শুধু উনার মা ভেঙে পরেননি সাথে উনিও। অন্যদিকে উনার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। সব চিন্তায় মাথা ঘুরপাক খায় জাফর সাহেবের। তবে যাইহোক না কেনো, পরিবারের কর্তা হিসেবে উনাকে যে ধৈর্য ধরে থাকতেই হবে। তাই উনি নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেন। স্কুল থেকে সপ্তাহ খানেকের জন্য ছুটি নেন জাফর সাহেব। উনার মাকে রীতিমত ডাক্তার এসে বাড়িতে চেকআপ করে যায়। ডাক্তার জাফর সাহেবকে বলে;
– আপনার মাকে বেশি উত্তেজিত হতে দিবেন না। হঠাৎ আপনার বাবার মৃত্যুতে খুব শক পেয়েছেন। এজন্য উনাকে খেয়াল করে রাখবেন।
– অবশ্যই ডাক্তার সাহেব, মায়ের দেখাশোনার কমতি হবে না।
– আচ্ছা তাহলে আসি..
– ঠিক আছে আসেন ডাক্তার সাহেব।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার নিজের গমন পথে চলে যান।
এক সপ্তাহ ছুটি কাটিয়ে নিজের স্কুলে যাওয়া শুরু করে দেন। আবারো খুব ব্যস্ততার ঘোরে দিন কাটতে থাকে জাফর সাহেবের। উনার মা এখন কিছুটা সুস্থ। তবে উনার স্ত্রী রেশমার শরীর তেমটা ভালো না। একজন মানুষ সব কিছু একা সামলে নেয়াও কম দুঃসাহসের কথা নয়। উনার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন। দুদিন পর উনার আরেকটা ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তাতে বেশ খুশি জাফর সাহেব সহ উনার মা। ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চার নাম রাখেন জাবির। চমৎকার নামটা রাখেন জাফর সাহেব নিজেই।
এভাবে চলে উনার ছোট্র সংসারটা।
.
আঠারো বছর পর..
এখন জয় ভার্সিটি একজন ছাত্র। সে ঢাকার ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের’ ছাত্র। ভার্সিটির পাশেই একটা ফ্ল্যাটে ভাড়া করে তার বন্ধুদের সাথে থাকে। জাফর সাহের একটুও ইচ্ছে ছিলো না ছেলেকে ঢাকাতে পাঠানোর। সিলেটে যে একটা ভার্সিটি আছে তাতে আর্স থেকে চান্স পাওয়া সিটের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় হাজারগুন কম। সেই সুবাদে একটা পাবলিকে চান্স পাওয়াটা সুভাগ্য বটে। ছেলেকে শহরে পাঠিয়েছেন অনেক দ্বিধা দ্বন্দ্বের মাঝে হাবুডুবু খেয়ে। তারপরও ভবিষ্যৎ বলে একটা কথা। উনিও চান উনার চেয়ে ভালো পজিশনে সন্তানরা যাক। কিন্তু অজানা ভয়ে তখন কুঁকড়ে যায় জাফর সাহেবের ভেতর। ছেলেটা এখন নিজেই হাঁটতে শিখেছে, নিজ হাতে খেতে শিখেছে, তার ভালো মন্দ বুঝতে শিখেছে, কিন্তু তা যে সীমা অতিক্রম করছে সেটা জাফর সাহেবের অজানা। জয় ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার বছর খানেক পর রাজনৈতিক বিভিন্ন কার্মকাণ্ডে লেগে যায়। যে শহরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা জয়ের বাবাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি, কিন্তু সেই শহরের সব কিছুতেই জয় আকৃষ্ট হয়ে পরে। দিনের পর দিন সে কোন পথে হেঁটে চলে নিজেই বুঝতে পারে না। জয়কে তার বন্ধু একজন বলে;
– চল জয় আগামীকালকে একটা মিটিং করতে যাবো শাপলাচত্বরে। সেখানে আমাদের ছাত্রদলের সভাপতি ভাই সহ ভার্সিটির সিনিয়র অনেকে থাকবেন। উল্লাসে লাফিয়ে উঠে সে। এযেনো জীবনের স্বাদ পাচ্ছে জয়। আসলে কী তাই!
পরের দিন সকাল দশটায় ভার্সিটিতে তার বন্ধু ফারহি সহ অনেকে একসাথে গেটের সামনে থেকে রওনা দিয়ে শাপলাচত্বরে পৌঁছান। এই প্রথম কোন বড় সভায় জয় যাচ্ছে। অনেক উত্তেজিত সে। সভা শুরু হওয়ার এক পর্যায় গিয়ে ছাত্রদলের দুজনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়ে অনেক বড় ঝটলা বেঁধে যায়। শুধু তা নয়। মারামারি, লাঠি পিটা, সহ গোলাগুলি হয়। সেখানে জয়ের বুকে একটা গুলি বিঁধে যায়। ঠিক সে মুহূর্তে জয়ের চোখে তার বাবার মুখটা ভেসে উঠে। বিড়বিড় করে নিজের মনে কি যেনো বলতে থাকে জয়। ছটফট করতে করতে এক সময় দুচোখ বুঁজে শান্তির নিদ্রায় যেতে লাগলো সে। অবিরত বুক থেকে হরহর করে রক্ত বের হয়ে যাচ্ছে। লালে লাল হচ্ছে চকচক করা নুতন সাদা টিশার্টটা তার। জয় খামচে ধরছে নিজের বুকটাকে। যেখানে গুলিটা বিঁধে ফিক দিয়ে রক্তা স্রোত বইছে। চোখের কোণ বেয়ে জল গড়িয়ে পরছে। নিভো নিভো চোখে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করছে কেউ আসে কিনা তাকে সাহায্য করতে। কিন্তু না কেউ ছুটে এলো না। চারদিকে মানুষগুলো ছুটাছুটি করছে। সবাই নিজেকে বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। ততক্ষণে তার সমস্ত দেহ নিথর হয়ে পরে থাকে পিছঢালা রাজপথে!
.
এদিকে হঠাৎ করেই জাফর সাহেবের বুকটা মোচড়ে উঠে। কেমন একটা বিদঘুটে গন্ধ বাতাসে ভেসে আসে উনার নিঃশ্বাসে। বুঝতে পারেন না আসলে কিসের গন্ধ উনার নাকে এসে ধাক্কা খায়। অনেকক্ষণ ভাবতে ভাবতে ধারণা করেন এটি রক্তের গন্ধ হবে। তবে এমন অদ্ভুত গন্ধটা কোথায় থেকে আসছে উনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। এদিকে বেশি একটা সায় না দিয়ে নিজের স্কুলে চলে যান। ঘন্টাখানেক পর একটা ফোন আসে জাফর সাহেবের কাছে। ফোনটা রিসিভ করতেই অপরপাশে একটা ভয়ার্ত স্বরে ভাঙা কণ্ঠে বলতে শোনেন;
– আমি…আমি…
– কে আপনি? আমি আমি করছেন কেনো? কী ব্যাপার?
– আংকেল আমি নয়ন। জয়ের বন্ধু। সে মারা গিয়েছে যতদ্রুত পারেন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চলে আসেন।
বাকরোধ হয়ে পরেন জাফর সাহেব! লাইনটা কেটে যায়। স্পষ্ট কান্নার আওয়াজ কানে এসে ধাক্কা লাগে উনার। মনে হয় উনার ছেলে জয় সেই ছিনতাইকারীর হাতে আটকা পরে বাঁচার জন্য আত্মচিৎকার দিচ্ছে। কিন্তু সবাই ভয়ে বাঁচাতে আসছে উনার ছেলেকে। খুব আঘাত লাগে উনার মনে। পাগলের মত ছুটতে লাগলেন বাস টিকিটের জন্য বাস কাউন্টারে। খুব ফাস্ট টিকিট নিয়ে দ্রুত রওনা দেন ছেলের নিথর দেহখানের কাছে। কলিজা ছিঁড়ে টুকরোটুকরো হচ্ছে। বিপদের সময় পথটাও সুদীর্ঘ হয়ে যায়। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যের সময় ঢাকা মেডিকেল যেতেই নয়নকে ফোন করেন জাফর সাহেব। ফোন দিতেই কলটা ধরে কাছে আসে নয়ন। পাগলের মত ছুটে এসে নয়নকে ধরে জানতে চান উনার কলিজার টুকরো ছেলেটা কোথায়? নয়ন কিছু না বলে টিপে চোখের পানি ফেলে, হেঁটে হেঁটে মর্গের কক্ষে নিয়ে যায় জাফর সাহেবকে। লাশের কাছে আসতেই তাজা রক্তের গন্ধ পান উনি। চেয়ে দেখেন শূন্য টেবিলের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছে বুকের মানিকটা। জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো অনেক্ষণ কাঁদেন উনি। নয়ন সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলে। জানতে চান কী করে এমনটি হলো? নয়ন সব ঘটনা বিস্তারিত বলে। উনি শোনে দুহাত দিয়ে নিজের কপালে আর বুজে থাপ্রাতে থাকেন।
এমন কিছু একটা হবে যে উনার মন আগে থেকে জানান দিয়ে যায়। কিন্তু সন্তানের আবদার ফেলতে পারেননি। বিনিময় পেয়েছেন চরম উপহার হিসেবে ছেলের লাশ! এত করুণ আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠে মেডিকেলের প্রতিটি ইট পাথরের দেয়াল। একবুক ব্যথা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে তাজা রক্তের লাশ বয়ে নিয়ে যান। ভারী ভীষণ ভারী হয়ে আছে বুকটা। হাজার হলেও বাবা। যেখানে ছেলের কাঁধে বাবার লাশ থাকার কথা, সেখানে পুত্রের লাশ বয়ে নিতে হচ্ছে। সত্যি এমন নির্মম দৃশ্য কয়জন বাবা দেখে! চোখ মুছতে মুছতে ছেলের নিষ্পাপ মুখের দিকে থাকিয়ে থাকেন। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে গ্রামে পৌঁছেন এম্বুলেন্স করে। পাড়া প্রতিবেশী সব জরো হয়ে যায়। কৌতূহলী হয়ে সবাই দৌঁড়ে আসে জাফর সাহেবের বাড়িতে। উনার স্ত্রী, ছোট ছেলে জাবির আর উনার বৃদ্ধা মা হোমড়ি খেয়ে উঠোনে এসে দাঁড়ান। উৎসুক চোখ জাফর সাহেবের দিকে। উনি হায় আল্লাহ্ বলে মাঠিতে লুটিয়ে পরেন। আস্তে আস্তে লাশটা বের করে উঠোনের মধ্যে রাখা হয়। সবার মাথায় যেনো বাঁজ পরলো। ‘লাশ..আমার জয়ের লাশ বলে চিৎকার দিয়ে ঝাপিয়ে ধরেন জাফর সাহেবের স্ত্রী!’ পুরোটা গ্রাম নিস্তব্ধ হয়ে যায়। রাত প্রায় দশটা হয়ে যায়। গ্রামের সবাই মিলে কবর খুঁরে শেষ শুয়া শুইয়ে দেয় জয়কে। তার মা মুখটা দেখেই অজ্ঞান হয়ে যান। কবর দেয়ার পরও সেই একই অবস্থা। দাদীরও একই অবস্থা। ভারসাম্যহীনতায় ভোগেন জাফর সাহেব। প্রচণ্ড ধাক্কা পান। যা মেনে নিতে পারছেন না বিশবছর পরেও..!
এখন উনি উদ্ভদ সব গন্ধ পান। কখনো হিংস্র শকুনের রক্তচোষার গন্ধ! কখনোবা উনার ছেলের তাজা রক্তের প্রতিবাদী গন্ধ! চারদিকেই গন্ধ…কেবল রক্তচোষার গন্ধ। মানুষ নামের পিশাচরা রক্তচোষে নিরপরাধ মানুষের। বিদঘুটে লাগে সে গন্ধটা। সইতে পারেন না জাফর সাহেব। এসব গন্ধ এসে নাকে লাগলেই উনার দম বন্ধ হয়ে আসে। ভালো লাগে না উনার এ ধরণী। জঘন্য মানুষ শুধু তাজা রক্তে পেট ভরে! না হলে বুকের তাজা রক্ত ঝরায় বেলা কিংবা অবেলায়। বিষন্নতা কখনো শেষ হয়না, মাঝেমাঝে ভীষণ ভালোবাসার মানুষটা ও হয়ে যায় লাশ! আর সেই লাশের মাঝে প্রতিবাদী গন্ধ পান জাফর সাহেবের মত হাজারো বাবা..!
.
(সমাপ্ত)

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৯ Comments

  1. Anamika Rimjhim

    বেশ কয়েক জায়গায় অযথাই ! চিহ্ন দিয়েছেন।দুই একটা টাইপিং মিস্টেক দেখলাম।
    বাস্তববাদী গল্প।সত্যিই পৃথিবীটা এই গন্ধেই ভরে গেছে। তাই এত অশান্তি।
    ভাল লিখেছেন।

    Reply
  2. Reba

    চমৎকার গল্প।

    Reply
  3. Halima tus sadia

    অসাধারণ লিখছেন।
    ভালো লাগলো।গল্পের থিমটাও ভালো ছিলো।খুব সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন লেখিকা।

    অনেকদিন পর একটা সুন্দর গল্প পড়লাম।

    জয়ের জন্য খুব খারাপ লাগলো।যেই ভয়টা সবসময় জাফর সাহেবের মনে নাড়া দিতো সেইটাই হলো।
    বাবার কাঁধে ছেলের লাশ।তখন কাঁধটা সত্যিই ভারী মনে হয়।শহরের রাস্তা ঘাটে এমনিতেও ছিনতাইকারী,লুটপাট, মারামারি চলেই।একজন আরেকজনকে খুন করে ফেলে।
    কেউ কারও জন্য কাঁদে না।সবাই এ দৃশ্য চেয়ে থাকে।কারও কিছু যায় আসে না।
    তবে জাফর সাহেবের স্বপ্ন পূর্ণ হলো না।
    চারদিকে শুধু গন্ধ।এ গন্ধ যেনো জাফর সাহেব সবসময় পান।

    বানানে কিছু ভুল আছে।
    বিষন্নমনে–বিষণ্নমনে
    মেট্টিক্ম–মেট্টিক
    সেসময়-সে সময়য়
    দৌঁড়ে–দৌড়ে
    আজো–আজও
    ‘বি,এ–বি.এ
    তেমটা ভালো না–তেমনটা ভালো না।
    আর্স–আর্টস
    উদ্ভদ–অদ্ভুত

    সন্ধ্যে হয়ে যা জাফরের–সন্ধ্যে হয়ে যায় জাফরের।

    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  4. MH Shuvo

    খুব ভালো হয়েছে। শুভ কামনা লেখিকার জন্য।

    Reply
  5. জুয়েল ইসলাম

    গল্পটা খুবই ভালো ছিলো।বানান ভুল আছে কিছু।আর আশ্চর্যবোধক চিহ্ন অকারণে অনেক জায়গায় ব্যবহার হয়েছে।যা বাক্যের মান ক্ষুণ্ণ করেছে।আশা করি পরবর্তিতে লক্ষ্য রাখবেন।শুভকামনা

    Reply
  6. আফরোজা আক্তার ইতি

    মনকে স্পর্শ করার মত একটি গল্প। এভাবে যে কত মা বাবার বুক খালি হচ্ছে, কত পিতামাতা তাদের কলিজার টুকরোকে হারাচ্ছে তা অগণিত। সন্তানরা ঢাকায় আসে উচ্চশিক্ষার জন্য। কিন্তু এসব রাজনৈতিক কাজে জড়িয়ে তার অপব্যবহার করে তারা নিজের জীবনকে নিজেই ধ্বংস করে দেয়। মানুষ এখন অন্যে মরে পড়ে থাকলেও ফিরে তাকায় না।সুন্দর একটি গল্প লিখেছেন। বানানে অনেক ভুল রয়েছে। আর অহেতুক (!)চিহ্ন ব্যবহার করায় গল্পের কিছু লাইন অন্যরকম লাগছে।
    বিষন্নমনে- বিষণ্ণ মনে।
    চিনিয়ে- ছিনিয়ে।
    তাহলো- তা হলো।
    ট্রেনের মেঝ- ট্রেনের মেঝে।
    স্টোক- স্ট্রোক।
    ছোট্র- ছোট্ট।
    সুভাগ্য- সৌভাগ্য।
    আর্স- আর্টস।
    হরহর করে রক্ত- গলগল করে রক্ত।
    নিভো নিভো- নিভু নিভু।
    পিছঢালা- পিচঢালা।
    ফিক দিয়ে রক্ত- ফিনকি দিয়ে রক্ত।
    হোমড়ি- হুমড়ি।
    মাঠি- মাটি।
    খুড়ে- খুঁড়ে।
    উদ্ভদ- উদ্ভট।

    Reply
  7. Siddhartha Shankar

    গল্পটাতে সত্যিই সমাজের অনেক অসঙ্গতি, অনাচার আর অনিরাপত্তার গন্ধ পেলাম।
    তবে কিছু জিনিস অস্পষ্ট লেগেছে যেমন, জাফর সাহেবকে উচ্চ শিক্ষার জন্য শহরে পাঠিয়ে দেয়া হয় কিন্তু কন শহর তা স্পষ্ট করা হয়নি ফলে, “রেলস্টেশনে পৌঁছেই চারদিকটা অবাক হ্যে দেখে সে…” কোন স্টেশনের কথা বলা হয়েছে তা নিয়ে জট বাধে। আর এটাও বুঝতে অসুবিধা হয় যে ট্রেন ডাকাতি স্টেশনে দাড়িঁয়ে থাকা অবস্থায় ট্রেনে ডাকাতরা উঠেছিল নাকি চলন্ত ট্রেনে কারণ ট্রেন মাস্টার বলে কিছু হয়না স্টেশন মাস্টার হয় আর তিনি স্টেশনে থাকেন তাই তাকি জিম্মি করলে স্টেশন থেকেই ডাকাতরা উঠেছে মনে হয়, এই বিষয়গুলো লেখায় স্পষ্ট করলে তা আরও পাঠকবান্ধব হবে। নিচের বাক্যচয়ন আর বানানগুলো খেয়াল রাখতে হবে, বাকি বানান অন্যেরা ঠিক করে দিয়েছে।
    মর্মাহত ঘটনা- মর্মান্তিক* ঘটনা
    টানাপোড়নের- টানাপোড়েনের*
    মেট্রিক্স- মেট্রিক*
    নুতন- নতুন* / নূতন*
    “তবে খুব ভয়ংকর একটি ঘটনা সেসময় ট্রেনে সবার সাথে ঘটে যায়।“ এটা এভাবে লিখলে ভালো হতো,
    – তবে খুব ভয়ংকর একটি ঘটনা সেদিন* ট্রেনে ঘটে যায় সবার সাথে ।
    ছিনতায়ের- ছিনতাইয়ের*
    পিচ্ছিল হয়ে- হাতে*
    মোচড়ে- মুষড়ে* (বানানগত ও ভাবগত ২ দিকেই ঠিক হয়)
    চিনিয়ে- ছিনিয়ে*
    এতসময়ে মারা গিয়েছে- এর মধ্যে মারা গিয়েছে*
    খোঁজে- খুঁজে*
    সন্ধ্যে হয়ে যা- যায়*
    প্রাইমারি- প্রাইমারীর*
    মেঝ- মেঝে*
    আতংকে- আতঙ্কে*
    সুভাগ্য- সৌভাগ্য*
    পিছঢালা- পিচঢালা*
    বাকরোধ- বাক্‌রুদ্ধ*
    কিন্তু সবাই ভয়ে বাঁচাতে আসছে উনার ছেলেকে – কিন্তু কেউ ভয়ে বাঁচাতে আসছে না উনার ছেলেকে*
    জরো- জড়ো*
    থাপ্রাতে- থাপড়াতে*
    উদ্ভদ- উদ্ভট*
    বেশ কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত “ঁ” ব্যাবহার হয়েছে।
    পরবর্তী সকল লেখার জন্য রইল অনেক শুভকামনা।

    Reply
  8. Sajjad alam

    কিছু ভুল…….
    .
    বিষন্নমনে___বিষণ্ণমনে
    এদিক ওদিক__এদিক-ওদিক
    যেনো___ যেন
    .
    এতটুকু বুঝেন নিজের মত ছেলেকে সামান্য ____ মতো (মত শব্দের অর্থ ভিন্ন)
    .
    মেট্রিক্স___ মেট্রিক
    ছেলেতো___ ছেলে তো
    .
    ছিনতায়ের___ ছিনতাইয়ের
    মাস্টার সহ___ মাস্টারসহ (অনেক জায়গায় এটা ভুল করেছেন। সহ পূর্ববতী মূল শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বসবে।)
    .
    কিভাবে___ কীভাবে
    .
    কিছুতেই দিবে না তার মায়ের জন্য কিনা শাড়ি!’ _____ কেনা শাড়ি 
    .
    নুতন___ নতুন
    দৌঁড়ে___ দৌড়ে
    পোষ্ট অফিস___ পোস্ট
    .
    জলিল স্যারের মন্ধুর বাসায় আসে___ বন্ধুর (টাইপিং মিসটেক)
    .
    তাহলো___ তা হলো
    মাস খানেক___ মাসখানেক
    অাজো___ অাজও
    .
    যেকিনা___ যে কিনা
    বি,এ___ বি.এ
    ছোট্র___ ছোট্ট 
    .
    দ্বিধা দ্বন্দ্বে___ দ্বিধাদ্বন্দ্বে
    বছর খানেক___ বছরখানেক
    .
    বিড়বিড় করে নিজের মনে কি যেনো বলতে থাকে জয়।____ কী
    .
    গড়িয়ে পরছে___ পড়ছে। (এরকম অনেক ভুল করেছেন।)
    .
    নিভো নিভো___ নিভু নিভু
    পিছঢালা___ পিচঢালা 
    অনেক্ষণ___ অনেকক্ষণ 
    .
    জরো___ জড়ো
    হোমড়ি___ হুমড়ি
    ঝাপিয়ে___ ঝাঁপিয়ে 
    .
    কখনোবা___ কখনো বা
    হয়না___ হয় না
    মানুষটা ও___ মানুষটাও
    .
    .
    নামকরণটা যথার্থ।
    প্রথম থেকে মাঝ অবধি বোরিং লেগেছে পড়তে। শেষে এসে কিছুটা জমাট বেঁধেছে।
    পুরো গল্পের বিষয়বস্তু একেবারে শেষে দিয়েছেন।
    অাকর্ষণ কম ছিলো গল্পে।
    নেক্সট টাইম ভালো হবে অাশা করি। 
    শুভ কামনা।

    Reply
  9. Mahbub Alom

    একটি জীবন্ত প্রাণের বুক থেকে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে..
    একজন বাবা নিজের সন্তানের লাশ কাঁধে বহন করছে…
    একজন মা ছেলেকে দেখেই অজ্ঞান হচ্ছে…

    পৃথিবীর সুশীল সমাজে দিন দিন বন্য প্রাণীর থেকেও আরো হিংস্র কিছু অমানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে।তারা রক্ত খায়,তাজা রক্ত।
    একজন বাবা তার জীবনের নির্মম কিছু বাস্তবতা দেখেছেন।তাই হয়তো তিনি গন্ধ পান,বিভিন্ন রকম গন্ধ,প্রতিনিয়ত।

    গল্পটা অনেক ভালো লেগেছে।
    লেখার মাঝে মাঝে বানানে কিছু ভুল আছে।

    ধন্যবাদ

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *