ঘৃণা
প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০১৮
লেখকঃ

 105 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

ঘৃণা

Nafis Intehab Nazmul

চায়ের স্টল টা ফাঁকা হয়ে গেছে। ∫এই ভর দুপুরে কোন খদ্দের নেই। স্টলে একটা ছেলে কাজ করে, মিঠু। সেও একটু আগে বাড়ি গেছে। শফিক একা বসে আছে একটা বেঞ্চিতে। কোন কিছুতে মন বসছে না। শুধু ভাবছে কোথায় পাবে এত টাকা। বাড়িতে দুইটা গরু আর একটা খাসি আছে। খাসি টা কুরবানীর নিয়তে কিনেছে। সেটা বিক্রি করা ঠিক হবে না। গরু দু’টা বিক্রি করলে খুব জোর ৬০–৭০ হাজার টাকা হবে। জমানো টাকা আছে প্রায় ত্রিশ হাজার। সব মিলিয়ে লাখ খানেক হবে। আরও দুই লক্ষ টাকা কোথায় পাবে? বুঝে উঠতে পারছে না। ধনী কোন আত্মীয়-স্বজন ও নাই যে, কেউ কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করবে। টাকার চিন্তায় দুইদিন থেকে খাওয়া ঘুম সব হারিয়ে গেছে শফিকের।
শফিকের ছোট সংসার। স্ত্রী রেহানা বেগম। একটা ছেলে ৩ বছরের, মানিক। আর একটা মেয়ে। মেয়েটার নাম রেখেছে অরুনি। শফিক আদর করে অরু বলে ডাকে। অরু ক্লাস এইটে উঠেছে কয়েক মাস হল। পড়াশোনায় খুব ভাল। ক্লাসে স্যারেরা ওর পড়াশোনার অনেক প্রশংসা করে। মেয়েকে নিয়ে শফিকের স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। পাড়ার মানুষজন কে হাসি মুখে বলে বেড়ায় “আমার মেয়ে ক্লাসে ২ রোল করেছে”।
কয়েকদিন আগে ক্লাসে যাওয়ার সময় অরুর বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়। শফিক খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে তাড়াতাড়ি করে এলাকার হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তাররা বিভিন্ন চেকআপ করে বলে, “হার্টের সমস্যা, আমাদের এখানে সম্ভব নয়। তাড়াতাড়ি ঢাকায় কোন হার্ট স্পেশালিস্ট এর কাছে নিয়ে যান।”
শফিক অরু কে নিয়ে ঢাকায় একটা হার্টের ডাক্তারের কাছে যায়। ডাক্তার বলে, “তিন মাসের মধ্যে অপারেশন করাতে হবে। তিন লক্ষ টাকা লাগবে”।
টাকার কথা শুনে শফিক অনেক অনুনয় বিনয় করে বলে “ডাক্তার সাব, আমরা গরীব মানুষ। এত টাকা পামু কই? আমার কাছে কিছু টাকা আছে, এই টাকা নিয়ে আমার অরুর চিকিৎসা করেন”।
ডাক্তার বলে, ” আমরা হয়তো ৫–১০ হাজার ছাড় দিতে পারব। কিন্তু এর বেশি সম্ভব না। এখন কিছু ঔষধ দিয়ে দিচ্ছি, এগুলো নিয়মিত খাওয়ান। যন্ত্রণা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে তিন মাসের মধ্যে অপারেশন না করালে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।”
দু’দিন হয়ে গেলো, টাকা ব্যবস্থার কোন রাস্তা খুজে পায়নি। ভর দুপুরে একা বসে সেগুলোই ভাবছে।

মিঠুর ডাকে বাস্তবে ফিরে আসে শফিক।
“কি গো চাচা, বসে বসে কি ভাবতাসো?” বলল মিঠু।
“এতগুলা টাকা কই পামু? কিছুই বুঝতাসিনা।” বলল শফিক।
–চাচা, আমাগো পাড়ার জয়নালরে দেখসো? কয়দিন আগে কামলা খাইট্টা বেড়াইত। এখন মোটরসাইকেল নিয়া ঘুরে। এত টাকা কই পাইসে জানো?
– না, জানিনা।
–আমি জানি, সে ইয়াবার ব্যবসা করে। এই ব্যবসায় বহুত কামায়।
–হুঁ, যত খারাপ কাজ, তত বেশি টাকা।
–তোমারে একখান কথা কই চাচা। তোমার তো অনেক টাকা দরকার। সময়ও তো বেশি নাই। আমি কই কি, তুমিও জয়নালের সাথে কিছুদিন ব্যবসা করো। দু’মাসেই অনেক টাকা কামাই হইয়া যাইব। যেই টাকা দিয়া অরুর চিকিৎসা করাইতে পারবা।
মিঠুনের মুখে এমন কথা শুনে শফিক একটু হকচকিয়ে যায়। একটু রাগী ভাব দেখিয়ে বলে “এই, কি যাতা কস? যা কাম কর।
মিঠুকে তখন ধমক দিলেও, কাজের ফাঁকে মিঠুর কথাটা বেশ কয়েকবার ভাবল শফিক।
দু-তিন মাসে ২ লাখ টাকা কামানোর কোন রাস্তাও নাই। জয়নালের সাথে ব্যবসা করে যদি দু লাখ টাকা কামানো যায়, তাহলে ক্ষতি কি?
মিঠুকে একবার জিজ্ঞাসা করে নিলো শফিক,
–আচ্ছা মিঠু, সত্যিই কি দুমাসে এতগুলা টাকা কামাই হইব?
– কি যে কন না চাচা! জয়নালরে দেখতাছেন না? কত তাড়াতাড়ি ধনী হইয়া গেল। আপনি জয়নালের সাথে দেখা করেন গিয়া।
এশারের সময় দোকান বন্ধ করে শফিক জয়নালের সাথে দেখা করে সবকিছু খুলে বলে। প্রথমে জয়নাল না না করলেও, শফিকের পরিস্থিতির দিকে দেখে ব্যবসায় নিতে রাজি হয়।
বলে, “শফিক, তুমি যদি দেশে কারো থেকে মাল নিয়ে ব্যবসা করো, তাইলে কিন্তু বেশি লাভ করতে পারবা না। তোমাকে ভারত থেকে মাল আনতে হইব। বর্ডার গার্ড গুলারে কিছু দিতে হইব, আর আমগো থানার পুলিশ গুলারে কিছু দিলেই নো টেনশনে ব্যবসা করতে পারবা। আর শোন, আমি তোমারে লোকজন সব ঠিক কইরা দিমু, তুমি ওদের সাথে ভারত যাবা, মাল আনবা, ব্যবসা করবা। বুঝছো?
শফিক টাকা পয়সা জোগাড় করে ভারত থেকে ইয়াবা এনে এলাকায় ব্যবসা শুরু করে। প্রথম প্রথম শফিকের নিজের প্রতি ঘৃণা কাজ করে যে, টাকার জন্য এই খারাপ কাজ টা কে বেছে নিতে হলো!
কিন্তু, কিছুদিন পরই মুখোশধারী কিছু লোক দেখে সেই ঘৃণার রেশ কেটে গেছে।
যে সমস্ত মানুষগুলো দিনের আলোতে পান খাওয়াকেই লজ্জাজনক কাজ মনে করে, সেই মানুষ গুলোই রাতের অন্ধকারে ইয়াবা খেয়ে বেড়ায়।
শফিকের সব থেকে বেশি খারাপ লাগে, যখন কলেজের ছাত্ররা ইয়াবা কিনতে আসে। ভাবে যে, “বাবা মা কত কষ্ট করে তাদেরকে টাকা পয়সা দেয় পড়াশোনার জন্য, আর তারা ইয়াবার পিছনে টাকাটা নষ্ট করে”।
ভালো মন্দের হিসাব করতে গেলে এই ব্যবসা করা যাবে না। শফিকের টাকার দরকার। তাই শফিকও কিছু বলে না।
শফিক সারাদিন স্টল করে, আর সন্ধ্যের পর ইয়াবার ব্যবসা শুরু করে।
মাঝে মাঝে বেশী রাত হয়ে গেলে রেহানা বেগম জানতে চাই, “এত রাত হয় কেন?”
শফিক সোজা কথায় উত্তর দেয়, “অনেক টাকা লাগবো। একটু বেশি কইরা পরিশ্রম না করলে অরুর চিকিৎসা করামু কি দিয়া?”
শফিক মাঝে মাঝে গোস্ত কিনে আনে, তা দেখে রেহেনা বেগম বেশ রেগে যায়। বলে, “মেয়েটার অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারো না, আর তোমার গোস্ত খাওয়ার শখ উঠসে?”
শফিক হাসিমুখে বলে, “চিন্তা কইরো না অরুর মা।চিকিৎসার টাকা জোগাড় হইয়া যাইবো।”
শফিক কয়েক দিনের টাকা হিসাব করে দেখে, দিন প্রতি হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। কিন্তু, পুলিশ বিজিবি এদেরকেও কিছু টাকা দিতে হচ্ছে। সেই হিসেবে টাকা বেশি জমা হচ্ছে না। এইভাবে জমা হতে থাকলে দু– আড়াই মাসে অরুর চিকিৎসার সমান টাকা জোগাড় হবে না। শফিক ব্যবসা বাড়ানোর চিন্তা করে বেশি মাল কিনে আনে। নিজের এলাকার পাশাপাশি বাইরের এলাকাগুলোতেও সাপ্লাই দেয়। লাভ বাড়তে থাকে। মাঝে মাঝে পুলিশদের সাথে দেখা হলে পুলিশরা বলে, “শফিক, শুনলাম ব্যবসা নাকি বাড়িয়েছো? সামনে থেকে টাকার হিসাব টা যেন আরেকটু মোটা হয়।
” হইব স্যার হইব। আপনারা শুধু দেখবেন, কোন সমস্যা যেন না হয়।” বলে শফিক।

দেখতে দেখতে দুই মাস পার হয়ে যায়। ব্যবসার টাকা হিসেব করে দেখে, দেড় লাখ টাকা জমা হয়েছে। গরু দু’টা বিক্রি করে সত্তর হাজার টাকা পেয়েছে। আগের জমানো ত্রিশ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আড়াই লাখ টাকা।
শফিক টাকা গুলো হাতে নিয়ে ভাবতে থাকে, “আর কয়দিন ব্যবসা করলেই ৫০ হাজার টাকা জমা হয়ে যাবে। অরুর চিকিৎসা হবে, অরু আবার আগের মত স্কুলে যাবে, খেলাধুলা করবে। শফিকের চোখেমুখে খুশির রেখা ছুয়ে যায়”।

হাতে কিছু টাকা রেখে বাকি টাকা বাক্সে লুকিয়ে রাখে। কালকে আবার মাল কিনতে যেতে হবে। রাতে ঘুমিয়ে পড়ে।
মাঝরাতে জয়নালের ফোন আসে
–হ্যালো শফিক, শোনো, কালকে ভারত যাইতে হইব না। বড় ধরনের ঝামেলা হইয়া গেছে। র্যাবের অভিযান শুরু হইসে। বিভিন্ন এলাকায় ক্রসফায়ারে অনেক মানুষ মারাও গেছে। কিছুদিন ব্যবসা বন্ধ রাখো। পরিবেশ শান্ত হইলে আবার ব্যবসা শুরু কইরো।
শফিক ফোন রেখে দেয়। সারারাত চিন্তা করে, কিসের অভিযান শুরু হইয়া গেলো? আর কয়েকদিন পর হইলেও তো পারতো! আমার টাকাটা জোগাড় হইয়া যাইতো। অরুর চিকিৎসা টা হইয়া যাইত। না জানি এই অভিযান কয় দিন চলবো!
ভাবনা যেনো শেষ হয়না। রাতটা নির্ঘুম কাটে শফিকের।
সকালে স্টলে যায়। সারাদিন ব্যবসা করে ৪০০ টাকা লাভ হয়। কি হবে এই ৪০০ টাকা দিয়ে? মন খারাপ করে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে আসে। অরুর অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। কারো থেকে টাকার ব্যবস্থা করতে পারছে না। জয়নালের কাছে ৫০ হাজার টাকা ধার চায়। জয়নাল বলে, “আমার নিজের অবস্থায়ই তো ভালা না, তোমারে কি দিমু?”
শফিকের কাকুতি-মিনতি দেখে জয়নাল বলে, “তোমারে একটা কাজের কথা বলি। যদি করতে পারো, তাইলে এক রাতেই অনেক টাকা পেয়ে যাবা। করবা?
–হুঁ ভাই, করুম।
–পাশের গ্রামের রাজু, মাঝেমধ্যে চুরি-ডাকাতির কাম করে। ওর সাথে যদি এক রাত যাইতে পারো, তাইলে ৪০–৫০ হাজার টাকা কোন ব্যাপার না। গেলে বইলো, ওর সাথে যোগাযোগ করাই দিমু নি।
শফিক কিছুক্ষণ ভেবে চিন্তে দেখে, টাকা জোগাড়ের আর কোন উপায় নাই। শফিক রাজুর সাথে যেতে রাজী হয়। জয়নাল রাজুর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।
শফিক রাজুর সাথে দেখা করে সব কিছু ঠিক ঠাক করে নেয়। দু’দিন পর একটা বাড়িতে চুরি করবে।

সময়মত শফিক উপস্থিত হয়। রাজু ভালো করে খেয়াল করে দেখে, শফিকের হাত পা কাঁপছে। রাজু শফিক কে একটু সাহস জোগাতে বলে। কিন্তু তবুও শফিকের কাঁপুনি থামে না।
শফিকের এমন অবস্থা দেখে রাজু বলে, “শফিক ভাই, আমি বুইঝা গেছি, তোমার দ্বারা এই কাজ হইব না। তোমারে আমি পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতাছি। তুমি গিয়া তোমার মাইয়ার চিকিৎসা করাও। পরে শোধ কইরা দিও।
শফিক রাজুর গলা জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে।
রাজু বলে, ” হইসে ভাই হইসে। আমিও অভাবে পইড়া এই কাজ বাইছ্যা নিসি। অভাবীদের কষ্ট আমি বুঝি। যাও, যাও।”
শফিক টাকা নিয়ে বাড়ি আসে। রেহেনা বেগম কে বলে কাপড় চোপড় গুছিয়ে রাখতে। সকালে অরুকে ঢাকা নিয়ে যাবে।

পরের দিন অরুকে নিয়ে ঢাকা যায়। টাকা পয়সা জমা দিয়ে অপারেশন করায়। কয়েকদিনের মধ্যেই অরু সুস্থ হয়ে ওঠে। শফিক মেয়ে কে নিয়ে ঢাকার কয়েকটা জায়গা ঘুরে বাড়ি চলে আসে।
অরুর সুস্থ হওয়ার খবর শুনে অনেক আত্মীয়–স্বজন এসে দেখে যায়। পরের দিন থেকে অরু স্কুলে যাওয়া শুরু করে।

পরেরদিন রাতে শফিক রেহানা বেগম কে বলে, ” কাল থেইক্কা স্টল টা চালু করমু, কিছু টাকা বাকি পইড়া আসে, সেগুলা শোধ কইরা দিতে পারলেই টেনশন দূর হইয়া যাইব।
মাঝরাতে জয়নালের ফোন আসে। ফোন রিসিভ করতেই বলে, “শফিক, কই আছোস? তাড়াতাড়ি পালায় যা। তোর বাড়ি পুলিশ গেছে।”
শফিক শার্ট টা গায়ে দিয়ে দরজা খুলতেই দেখে বাড়ির সামনে কয়েজন পুলিশ চলে এসেছে। শফিক ধরা পড়ে যায়।
শফিক একজন পুলিশকে চিনতে পারে। তাকে বলে, “স্যার, ওসি সাবের সাথে তো আমার কথা বার্তা ঠিক ঠাক আসিলো। আমারে ধরেন ক্যান?”
পুলিশ টা বলে, “ওসি সাহেব প্রমোশনের লোভে এলাকার বেশ কয়েকজন কে গ্রেফতার করিয়েছে। তুমি টেনশন নিও না, এগুলা কেস বেশি জটিল না। এক মাস পর ছেড়ে দিবে।
শফিক অনেক অনুনয় বিনয় করে বলে, স্যার, আমারে ছাইড়া দেন, আমি ওসি সাবের সাথে পরে দেখা কইরা টাকা পয়সা দিয়া মিটমাট করাই নিমু।
শফিকের কথায় কেউ কান দেয় না।
এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়, শফিক কে ইয়াবার ব্যবসার কারনে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।
রেহানা বেগম এখন বুঝতে পারে, শফিকের টাকা কামাইয়ের উৎস কি ছিলো? কেনো কথাটা এতদিন গোপন রেখেছিল।
অরু সকালে উঠে তার মা কে বলে, “আব্বা কই”?
“কাজে গেসে, তুই খেয়ে স্কুল যা।” বলে রেহানা।
অরু স্কুল যায়। অরুর একটা বান্ধবী অরুকে বলে, “কিরে, তোর বাবাকে নাকি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে?
অরু এই কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যায়। বলে, “কি যা তা বলছিস? আমার বাবাকে পুলিশ ধরবে কেনো?”
তখনই দূর থেকে একজন ডেকে বলে, “অরু, হেড স্যার তোকে অফিসে ডাকে।”
অরু অফিসে যায়। হেড স্যার বলে, “দেখো অরু, তুমি খুব ভালো ছাত্রী। তোমার ভবিষ্যত উজ্জ্বল। কিন্তু, তোমার বাবা যে কাজটা করেছে, সেটা ঘৃণীত একটা কাজ। এমন নোংরা কাজ করতে পারে, এমন পরিবারের কেউ আমাদের স্কুলে থাকুক সেটা আমরা চাই না। তুমি অন্য কোথাও ভর্তি হও।
অরু কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে আসে। মা কে বলে, ” স্যারেরা স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিলো আমাকে। আব্বা কি করেছে মা?
রেহেনা বেগম বলে, তোকে শুনতে হবে না। তুই বাড়িতে থাক, আমি একটু বাইরে থেকে আসছি।
রেহানা থানায় এসে ওসি কে বিভিন্নভাবে বুঝানোর চেষ্টা করে, কিন্তু কোন কাজ হয়না।
অনেক কষ্টে শফিকের সাথে দেখা হলে শফিক বলে, “আমারে নিয়া চিন্তা কইরো না। অরুরে ভালোভাবে পড়াশুনা করাও। আমি কিছুদিনের মধ্যেই ছাড়া পাইয়া যামু। ”
রেহানা চলে আসে। পরের দিন অরুকে নিয়ে হেড স্যারের কাছে গিয়ে বলে, “শফিক যেটা করেছে, সেটা অরুর চিকিৎসার জন্য করেছে। আর অরুর বাবার ভূলের কারনে অরুর লেখাপড়া কেনো বন্ধ করছেন?”
হেড স্যার একটু জোর গলাতেই বলে, “আপনি জানেন, ইয়াবা কি জিনিস? এটা বিষের চেয়েও বিষাক্ত। এটার দ্বারা পুরো সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একটা জীবন বাঁচাতে গিয়ে সমাজের শত শত জীবন কে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে আপনার স্বামী। আপনার মেয়েকে নিয়ে অন্য কোথাও যান। আমাদের এখানে হবে না”
রেহানা অরুকে নিয়ে চলে আসে।

বাড়ির সামনের গাছটার নিচে বসে অরু ভাবছে, “বাবা কেনো করল এটা? আমাকে বাঁচাতে গিয়ে শত শত জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিলো? বাবা আমাকে
মৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে জীবন্ত লাশ বানিয়ে দিয়েছে।”
বাবার প্রতি ঘৃণা জন্মে যায় অরুর। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে নেয়, আর কখনো বাবার মুখ দেখবে না।
গাছটাতে দড়ি দিয়ে বানানো দোলনা টা ঝুলে আছে, অরুর ছোট ভাই টা খেলা করে এটা নিয়ে।
ঝুলে থাকা দড়িটা হাতে নিয়ে ভাবছে, “কি অদ্ভুত এই দড়ি। শৈশবের হাসি মাখা সময়টাতেও সাথে থাকে, বড় হয়ে কিছু যন্ত্রণা ভরা বেদনা–মাখা সময়েও সাথে থাকে।
সন্ধ্যের সূর্যটা ঢলে যাচ্ছে। রক্তিম আভা গুলো অন্ধকারে বদলে যাচ্ছে। সমাপ্তি ঘটছে ঘৃণায় পুড়তে থাকা একটা জীবনের।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৪ Comments

  1. Md Rahim Miah

    ভাল-ভালো
    শুনে -শোনে
    খুজে-খুঁজে
    বেশী-বেশি
    ভূলের-ভুলের
    কারনে-কারণে
    সত্যিই অসাধারণ হয়েছে গল্পটা। টাকার অভাব যখন বেশি দেখা দেয় মানুষ খারাপ পথে চলে যায় আর এটাই বাস্তবতা। সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে গল্পের মাঝে, আর ভুলের সংখ্যা কমই বলা যাই। শুভ কামনা রইল

    Reply
  2. Md Rahim Miah

    ভাল-ভালো
    শুনে -শোনে
    খুজে-খুঁজে
    বেশী-বেশি
    ভূলের-ভুলের
    কারনে-কারণে
    সত্যিই অসাধারণ হয়েছে গল্পটা। টাকার অভাব যখন বেশি দেখা দেয় মানুষ খারাপ পথে চলে যায় আর এটাই বাস্তবতা।সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে গল্পের মাঝে, আর ভুলের সংখ্যা কমই বলা যাই। শুভ কামনা রইল

    Reply
  3. Halima tus sadia

    চমৎকার লেখনি।গল্পটা ভালো ছিলো।
    পড়ে ভালো লাগলো।

    মানুষ যখন কষ্টে থাকে অর্থ্যাৎ টাকা পয়সার কষ্টে তখন খারাপ কাজ করতে দ্বিদ্বাবোধ করে না।
    টাকার অভাব বড় অভাব।
    এই টাকার জন্যই অনেকে নষ্ট হয়ে যায়।খারাপ পথে চলে।
    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  4. অচেনা আমি

    আসসালামু আলাইকুম। গল্প প্রসঙ্গে কিছু কথা :
    গল্পটা মোটামুটি লেগেছে। খুব একটা আকর্ষণ করতে পারেনি। গল্পটাতে তেমন কোনো শিক্ষণীয় দিক আমি পাইনি। নিজের সততা বিক্রি আর খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ে আত্মহত্যা বিষয়গুলো ঠিক ভালো লাগে না। বেশ কিছু ভুল রয়েছে গল্পটাতে। নিচে সেগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করলাম :
    কি/ কী এর ব্যবহার ঠিক নেই। যেমন-
    কি গো চাচা বসে বসে কি ভাবতাসো? – কী গো চাচা বসে বসে কী ভাবতাছো?

    স্টল টা – স্টলটা
    কোন – কোনো
    এত – এতো
    খাসি টা – খাসিটা
    দুইদিন – দু’দিন/দুই দিন
    মানুষজন কে – মানুষ জনকে
    অরু কে – অরুকে
    খুজে – খুঁজে
    বুঝতাসিনা – বুঝতাছি না
    দেখসো – দেখছো
    পাইসে – পাইছে
    জানিনা – জানি না
    তত – ততো
    এশারের – এশার
    পুলিশ গুলোর – পুলিশগুলোর
    কাজ টা কে – কাজটাকে
    মানুষ গুলোই – মানুষগুলোই
    বেশী – বেশি
    রেহানা বেগম জানতে চাই – রেহানা বেগম জানতে চায়
    উঠসে – উঠছে
    হিসাব টা – হিসাবটা
    টাকা গুলো – টাকাগুলো
    চোখেমুখে – চোখে মুখে
    ছুয়ে – ছুঁয়ে
    হইসে – হইছে
    চিকিৎসা টা – চিকিৎসাটা
    হয়না – হয় না
    সময়মত – সময় মতো
    শফিক কে – শফিককে
    জোগাতে – যোগাতে
    বেগম কে – বেগমকে
    কারনে – কারণে
    ভূলের – ভুলের

    আগামীতে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রেখে লিখবেন। শুভ কামনা।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *