ফেসবুক আইডি
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০১৮
লেখকঃ

 35 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

বিনিতা বীণা।

মেয়েটির নাম দীণা খুব মিস্টি একটি মেয়ে কিছুটা দুখি ছিল বলা যায়। কারন তার মা-বাবা আলাদা থাকতো মিথ্যে চুরির দায়ে তাকে বাবার বাড়ি থাকতে হয়ে ছিল। দীনার বাবা মা প্রেম করে বিয়ে করেছিল তাই পরিবার থেকে মেনে নিতে পারেনি। দীনা মায়ের কাছেই বেশি থাকতো বাবার কাছেও যেতো। দীনার বাবার বাড়ি ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোল ঘেঁষে নানার বাড়ি ছিল রাজবাড়ি। দীনা যখন অনার্সে ভর্তি হয় তার কিছুদিন পর বাবা মারা যায়। খুব ভালবাসতো সে তার বাবাকে, তার মৃত্যুর পর দীনা কিছুটা নিশ্চুপ হয়ে যায় দীনা। অনেক বড় বাড়ির মেয়ে দীনা নিজের খেয়াল খুশিমতো চলে। দীনার মামা অনেক বড় চাকুরী করতো খুব ভালবাসতো দীনাকে। একা থাকতে ভালবাসতো আর বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিতে ভালবাসতো। মাঝে মাঝে উৎসবে নেশা করতো পরিবারের সাথে সময় খুব কম কাটাতো। একাই বেশির ভাগ সময় থাকতো কথা কম বলে মাঝে মাঝে সময় কাটায় ফেসবুকে। মনের কথা গুলো নিজের ফেসবুক আইডিতে লেখে কথা বলে টাইমলাইনে। খুব কস্টের কবিতা লিখে পোস্ট করতো মনের কথা গুলো কবিতার ছন্দে অনায়াসেই বলে দিত। যাই হোক, দীনার সাথে একদিন ফেসবুকে তুনির নামে এক ছেলের সাথে পরিচয় হয়। দীনার টাইমলাইনের পোস্ট গুলো দেখে ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ দেয় এত কস্ট কিসের আপনার? দীনা উত্তর দেয় আমার জীবনটাই তো কস্টের, কস্টের রংগে ছাপা। তুনির ম্যাসেঞ্জারে কল দিলো দীনার এমবি ছিলনা বলে নিজের ফোন নাম্বার দিল। ফোনে কথা হয় তাদের, তুনির দীনাকে বলল এত কস্টের কবিতা লেখেন কেন। আনন্দের খুশির ভালবাসার কবিতা লিখুন। দীনা বলে বাস্তবতা দেখেছেন আমি বাস্তবতা দেখেছি আমি সেই কঠিন বাস্তবের সাথে বাস করি। তুনির বলে জীবনের রঙ বদলাতে হবে আপনাকে পারবেন? দীনা বলে যেমন, তুনির বলে মনে করেন লাল শাড়ি পড়ে প্রিয়জনের সাথে ঘুরতে গেলেন, হাতে হাত রেখে প্রান খুলে হাঁসছেন এরকম কিছু। দীনা বলল চেস্টা করবো বলে ফোনটা রেখে দিলো। দীনা সারারাত ঘুমায়নি বদলে যাওয়ার নেশা তার ঘুম কেড়েনিল বদলে গেলো নিমিষেই। পরের দিন দীনার টাইমলাইনে আসলো অন্যপ্রেমের অনুভূতি নিয়ে কবিতা। অন্যরকম পোস্ট দেখে কত কত ভাললাগার কমেন্ট সেগুলো দেখে দীনার খুব ভাল লাগছে। দীনার মা মেয়ের মুখে খুশির ছাপ দেখে বলে কিরে খুব খুশিখুশি মনে হচ্ছে দীনা শুধু একটা হেঁসে দিল। তুনির ফেসবুকে দীনার কবিতা পোস্ট দেখে ফোন দিল দীনার কাছে। বলল দেখেছেন সবাই আপনার বদলে যাওয়ায় কত খুশি কত ভাল ভাল কমেন্ট ভাললাগা বুঝেছেন তো। দারুন লেখেন আপনি, যারা যত ভাল লেখে তাদের মন ততো ভাল হয় খুব সুন্দর মন আছে একটা আপনার। দীনা প্রশংসা খুব একটা পছন্দ করেনা তার পরেও কিছু বলেনা। তুনির বলল কিছু মনে না করলে একটা কথা বলবো? দীনা বলল বলুন। তুনির অনেকটা সময় নিয়েই বললো আপনার লেখার সেই তুমিটা যদি আমি হতাম। দীনা চুপ হয়ে গেল কিছু বলতে পারছেনা। তুনির আবার বললো আমি আপনাকে ভালবাসি, ধরবেন আমার হাত। আপনার সব কস্ট আমি ধুয়ে দেবো মুছে দেবো চোখের জল। দীনা বললো এ বুকে কস্ট বেশি। তুনির বললো প্রেমের সাত রংগে রাংগিয়ে দেবো খুব ভালবাসি তোমায়। দীনা বলে ভালবাসা সবার নিজস্ব অধিকার ভাল আপনি বাসতেই পারেন। এভাবে দুজনে ফেসবুকে খুব সময় কাটাচ্ছিল আস্তে আস্তে তুনির দীনাকে ভালবেসে ফেলে। তুনির ছিল এডমিন অফিসার ঢাকা উত্তরায় থাকতো। বড়লোকের মেয়ে একটু খেয়ালি ছিল বন্ধুদের সাথে মাঝে মাঝে ইয়াবা খাইতো। সে কথা খুব সহজ ভাবে তুনিরের কাছে বলে দেয়। তুনির দীনাকে বলে কতদিন খাও? দীনা বলে বেশিদিন না শুধু মাঝে মাঝে খাই। তুনির বলে কোথায় পাও, আর টাকা দেয় কে? দীনা বলে খাওয়ার জন্য বন্ধুরা দেয় আর টাকা সেতো আমার একাউন্টে মাস শেষে জমা হয়ে যায়। সব শুনে তুনির বলে আর খাবেনা কখনোই খাবেনা কথা দাও দীনা তুনিরের সব কথা মানে কথা দেয় তাকে আর কখনো কোন নেশা করবে না। তুনির ভাবে আসলে কি ভাল হবে মেয়েটা। এভাবে অনেক গুলো মাস চলে যায়। দীনা তার মাকে তুনিরের কথা বলে সব শুনে ওর মা খুব রেগে যায়। দীনাও নাছোড় বান্দা বলে আমি তুনির কেই বিয়ে করবো। দীনার মা বলে দেখা নেই সাক্ষাৎ নেই কিভাবে সম্ভব? আর আমি প্রেমে বিশ্বাস করিনা বলে মেয়েকে থাপ্পড় মেরে দেয়। পরের দিন দীনা তুনিরের কাছে ফোনে বলে চলো পালিয়ে যাই। তুনির শুনে অবাক, বলে পালাবো কেন আর তুমি তো আমাকে ভালভাবে চেনোনা। দীনা বলে চিনতে চাইনা আমি যাবো তোমার কাছে। তুনির বলে পালাবো কেন, তোমাকে আমি সম্মানের সাথে নিয়ে আসবো। দীনা বলে আমি আম্মুর সাথে খুব খারাপ ব্যাবহার করেছি আমি থাকবোনা। তুনির বলে তোমার আম্মুর কাছে সরি বলবা। দীনা বলে আমি সরি বলতে পারিনা আর বলবো না। তুনির এক সময় রেগে গিয়ে বলে তাহলে তুমি আমাকেও কখনো সরি বলতে পারবেনা। কেমন মেয়ে তুমি এত জেদি কেন আর সরি বললে কেউ ছোট হয়ে যায়না। তোমার লেখা আর তুমি একদম আলাদা, লেখার মতো হয়ে যাও। দীনা খুব নম্র হয়ে বলে আচ্ছা। তুনির বলে একটা চাকুরী পেয়ে নেই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করো প্লিজ। তোমাকে পরিবারের কাছ থেকে সম্মানের সাথে নিয়ে আসবো। দীনা আচ্ছা বলে ফোনটা রেখে দিলো। কিছুদিন পর তুনির দীনার একটা ছবি চাইল দীনা সব কথা ওর এক বান্ধবীর কাছে বললো। ওর বান্ধবীটা দুষ্টুমি করে বললো অন্যকোনো ছবি দিয়ে দে। দীনা খুব সহজ সরল ছিল তাই বান্ধবীর কথামতো দিলো অন্যকারো ছবি। তুনির বিশ্বাস করলো না কারন দীনার কণ্ঠস্বর ছিল খুব সুন্দর ছবির সাথে মিল পায়নি। তবে বেশ কয়দিন পর দীনাকে ভিডিও কল দেয় দীনা রিসিভ করে এবং তুনিরকে দেখতে পায় কিন্তু তুনির আর দীনাকে দেখতে পায়না। তুনির বলে আমি তো তোমাকে দেখতে পাচ্ছিনা হঠাৎ দীনার মনে পরে গেল ফোনটা গতকাল হাত থেকে পরে গিয়েছিল। হয়তো সেলফি ক্যামেরা নস্ট হয়ে গেছে, তখন দীনা বলে ফোনটা পরে গিয়ে নস্ট হয়ে গেছে। তুনির শুনে খুব রেগে যায় এবং ফোনটা রেখে দিল। তারপর অনেকবার দীনা তুনিরকে দেখা করতে বলছিল সে আর দেখা করেনি সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। দীনা মাঝেমাঝে ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজগুলো দেখে আর চোখের জল ফেলে মনে মনে ভাবে অনন্ত পিপাসার চোখদুটো তুলে খুঁজি অদেখা সেই তোমাকে। এখন দীনা একা নিঃসঙগ পথচলা তার, মনের মাঝে অপেক্ষা শুধু অপেক্ষা।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

২ Comments

  1. Rifat

    গল্পের মাঝে এলোমেলো ভাব মনে হলো। উপস্থাপন ভঙ্গীটা ভালো ছিল না।
    আশা করি এ ব্যাপারে লেখক আরও সতর্ক হবেন।

    Reply
  2. Parvej Mosharof

    ঠিক এলোমেলো একটা গল্প। গল্পটা যদি লেখিকা, লেখার পর আবার পড়তেন তাহলে নিশ্চয় এখানে জমা দিতেন না। বর্তমানে বেশিভাগ মানুষদের খোঁজ পাবেন ফেইসবুকে, যাদের কখনো পুরো একটা বই পড়া হয়নি। অন্যান্য আটদশ জনের লেখা পড়ে নিজেদের লেখার উৎসাহ জাগে। এবাবের গল্পে বেশ নিন্মমানের বেশকিছু গল্প পেয়েছি। Ourcanvass কে বলছি, প্রতিযোগীতা হলেও যদি এসব গল্প ওয়েবসাইটে দেওয়া হয় তাহলে আপনাদের Ourcanvass সাইটের মান কমে যাবে। তাই একটু বিবেচনা করে দেওয়া উচিত, যদিও এটা প্রতিযোগিতা। সর্বোপরি শুভকামনা।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *