এনভেলাপটা নেই
প্রকাশিত: মে ৪, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 119 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ
মোঃ নাঈম হাসান
(মে – ২০১৮)
……………

আমি রিয়াদ। রিয়াদুসসামাদ খান। আমাকে অনেকে মেন্টাল রিয়াদ বলে। আমার অনেক খারাপ অভ্যাস আছে, বিশেষ করে আমি যখন একা থাকি। নিজে নিজে কথা বলা, কাল্পনিক সঙ্গীর সাথে হাসাহাসি করা, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়া। অনেকে বলে আমার মাথায় ছিট আছে। আমি খুব সহজেই অনেক কিছু ভুলে যাই। মেডিকেলীয় পরিশব্দে, আমার আইকিউ অর্থাৎ বুদ্ধির মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। অর্থাৎ মেন্টালি আনফিট! রবিন একবার বলেছিল, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের মত ম্যাচিউরিটি নাকি আমার আসেনি। আমার ইম্যাচিউরিটির কথাটা ক্লাসের সবার কমবেশি জানা। তাই আমার কোন ফ্রেন্ড সার্কেলও নেই।

আমার আইকিউর ধারণাটা পাওয়া যায় ভার্সিটির কালচারাল প্রোগ্রামে। কালচারাল প্রোগ্রামে বাছাইকরে কবির নামসহ সুন্দর কিছু কবিতার লাইন সাবমিট করতে বলা হয়েছিল। সবাই তারাশংকর, জীবনানন্দ, রবি ঠাকুর এর দ্বারপ্রান্তে গেলেও আমি যাইনি। বিশ্ববিদ্যালয় টয়লেটে অনেক গুলো কবিতা লেখা ছিল। ইউনিক পারফর্মার হবার লক্ষ্যে আমি সেখান থেকে আমার ব্যাচমেট শাহীনের কবিতা লিখে জমা দিলাম।
টয়লেটে লেখা তার দুটো কবিতা এক করে আমি একটা বানিয়েছিলাম। কবিতা দুটো একত্রে-
মন ভাল নাই, কুত্তা খেদাই
তবু সে ফিরে আসে বারবার,
প্রিয়তমা, তুমি কি কুত্তার চেয়ে অধম?
কেন ফিরে আসোনা একবার?
শিখায়া পিরিতি,
করিয়া ডাকাতি,
ভুলিয়া রয়েছে আমায় সখী;
হবে কি উপায়,
কোথায় লুকাই,
বুকে মার ছুরি
যাই মরি…” ইত্যাদি।
তিনদিন পর পুরষ্কার ঘোষণার দিন আমাকে সর্বনিকৃষ্ট কবিতার জন্য আমাকে একটা ‘লোটা’ দেয়া হয়েছিল। সাথে ব্যাচমেটদের দেয়া খেতাব জুটে গেল মেন্টাল রিয়াদ! শাহীন পেল “টয়লেট কবি”র খেতাব!

মেন্টাল ডাকলেও আমার খারাপ লাগেনা। পৃথিবীতে সবকিছুকে সহজভাবে নিতে হয়। এটা আমার মা শিখিয়েছে। সবার দৃষ্টিতে পৃথিবীটা একইরকম নাও হতে পারে এবং প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। এটাও আমার মায়েরই বলা। আমার কাছে পৃথিবীটাকে খুব অদ্ভুদ মনে হয়। সব মানুষগুলো কেমন যেন একটা তাড়াহুড়োর মধ্যে আছে। একটু দেরি হলেই অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। আমি এখনো বুঝতে পারিনা, কি ক্ষতি হতে পারে। তাড়াহুড়ো, হুড়োহুড়ি আমার ভাল লাগেনা।
আমার বাবা আব্দুসসামাদ খান, একজন শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি নাকি তার জীবনে ১২ হাজারের বেশি বেতন পাননি। আমাদের ঘরের জং ধরা পুরনো চালগুলো এখনো বদলাতে পারছেননা বাবা। টিনের দাম নাকি বাড়তি। অথচ, রাশেদ আংকেলের অবস্থা অনেক ভাল। তার ব্ল্যাক পাজেরো তে স্কুল লাইফ থেকেই আমি অনেকবার বাবার অফিসে গিয়েছি। তিনিও বাবার মত শিক্ষা অফিসে চাকরি করেন। তার গাড়িটা কখনো শিক্ষা অফিসের গেটের ভেতরে ঢুকে না। গতকালও মল্লিকা ডিপার্টমেন্টাল এর সামনে আমাদের নামিয়ে দিয়ে ড্রাইভার মতিন ভাই শো শো শব্দ করে চলে যায়। আমি আর আংকেল অফিসে ঢুকি। আমি বাবার কাছে গিয়ে বসি। আমার বাবা অনেক ফাইল ঘেটে ঘুঁটে কি কি যেন সই করেন। রাশেদ আংকেল এর এত চাপ নেই। তিনি তাই ফোনে কথা বলেন। আর অপরিচিত লোকজনের সাথে বাইরে গিয়ে চা খেয়ে আসেন। আর ফুলে ওঠা খাম পকেটে পুরে অফিসে ফিরে আসেন। তিনি শুধু বাবাকে বলেন, আমাকে ঢাকা নিয়ে যেতে। বাবা শুধু মুচকি হাসেন, কিছু বলেননা।
আমি একদিন বাবাকে বললাম, বাবা, আমরা ঢাকা যাচ্ছিনা কেন?
বাবা বললেন, কারণ আমার যে রাশেদের মত অত টাকা নেই।
-নেই কেন, বাবা?
-কারণ আমি এনভেলাপটা ফেলে দিয়েছি।
-কেন বাবা?
-ওটা থাকলে কেউ ভাল থাকতে পারে না।
-তাহলে আমরা কিভাবে ঢাকা যাব?
-ওটা পরে দেখা যাবে।
বাবা চলে গেলেন। আমার মনে পড়ল, কিসের এনভেলাপ, কার কাছ থেকে পাওয়া এগুলো জিজ্ঞেসই করা হয়নি! আমার সবসময় এরকমই হয়। দরকারি বিষয়গুলো কাজশেষে মনে পড়ে। সেদিন শান্ত স্যারকে ভাইভা দিয়ে বের হয়ে এসে স্যারের জিজ্ঞেস করা ডেফিনিশন টা মনে পড়ল! একেবারে পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষ! অথচ ভাইভা বোর্ডে শুধু আমার উপর ভরসা রেখে এক্সটারনালকে আটকে স্যার প্রায় ৫ মিনিট সময় আমাকে দিয়েছিলেন। শেষমেশ রেগেমেগে খেই হারিয়ে ফেললেন, নিজেই “গেট আউট ইউ ব্লাডি ক্লাউন” বলে বের করে দিলেন!

গত কয়েকদিন যাবৎ আমি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে পারছিনা। মনে হয়, ঘুমটা পূর্ণ হয়নি, আরেকটু ঘুমানো যাক। সমস্যা টা ঘুমের না। সমস্যা হল, আমি যে স্বপ্নটা দেখছিলাম, সেটা খুব সুন্দর ছিল। সেটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত উঠতে মন চায় না। তবু মা যখন জোর করে তুলে দেয়, তখন আর ঘুমানো যায়না। বেশিরভাগ সময়ই আমি দেখতে পাই, আমাকে ঘিরে আছে সাংবাদিকরা, একটা প্রেস কনফারেন্সের আশায়। আমি খুব বিখ্যাত এক ব্যক্তি। কিন্তু প্রেস কনফারেন্স গুলো শেষ করতে পারিনা, মাঝপথে ঘুম ভেঙ্গে যায়। তারপর বাকিটা স্বপ্নটা শেষ করি টয়লেটে বসে, পড়ার টেবিলে অথবা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে। টয়লেটে ঢুকে ৫ মিনিট হতে না হতেই আমার মা, বড়বোন চিৎকার জুড়ে দেয়। সেখানেও ইদানীং স্বপ্নগুলো শেষ করার সুযোগ হয়না। অগত্যা টিউশনিতে যাবার পুরো পথটাই কাজে লাগাতে হয়। বাসে, পায়ে হেঁটে যতটুকু যাই, ততটুকু সময় ধরে আমি স্বপ্ন দেখা শেষকরি। সাংবাদিকরা আমাকে প্রশ্ন করে আর আমি জবাব দেই। ওরা মুগ্ধ হয়। বেশিরভাগ প্রশ্ন আমার মনে থাকেনা। তবে একটা প্রশ্ন আমার মনে আছে। সানডে টাইমস এর রিপোর্টার জিজ্ঞেস করেছিল, হোয়াই আর ইউ সো বোল্ড ইন ইউর স্পিচ? ইউ ডোন্ট হাইড ইউর ফিলিংস এন্ড ইউ ডোন্ট ফিয়ার টু সে দ্য ট্রুথ! আমি প্রশ্নটার উত্তর দিতে পারিনি। কিন্তু উত্তরটা দিতে হবে। বিখ্যাত মানুষেরা খুব সুন্দর উক্তি দিয়ে জবাব দেয়। আমারও দিতে হবে। আমি উত্তর খুঁজছি, সাংবাদিকেরা আগ্রহ নিয়ে আমাকে দেখছে আর জবাবের অপেক্ষা করছে। ঠিক তখন বাসের হেল্পারের গলার আওয়াজ, ওওওও ভাই ভাড়া দেন না, সাথে হালকা ধাক্কা। পাশের জানালার ফ্রেমে হাল্কা আঘাত পেলাম। হাত দিয়ে বুঝলাম জ্বলছে। সম্ভবত একটু ছিলকে গেছে। আমি হেল্পারের দিকে তাকালাম।
হেল্পার অপ্রস্তুত হয়ে আমাকে সান্ত্বনা দিল, ভাই ব্যথা পাইছেন? এভাবে কেউ দরদ দিয়ে কথা বললে আমার খুব ভাল লাগে।
আমি হেসে বললাম, না ভাই।
তাকে ভাড়া দিয়ে আবার মনোযোগ দিলাম। ইন্টার্ভিউ তে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। এর আগেই হেল্পারের গলার আওয়াজ, আমার পাশের যাত্রীকে বলছেন, “উনি পাগল মনে হয়”।
আমার পাশের যাত্রী চট করে উঠে গিয়ে অন্য একটা সিট ধরলেন। সব যাত্রীর মনে তখন একটা চাপা কৌতুহল। আমি কি করছি সেটা দেখবে। নাহ, আজকে মনে হয় আর হবেনা, বিষয়টা বিগড়ে গেল। আশেপাশের লোকগুলোর অদ্ভুদ চাহনির কারণে আর পারলাম না। মেজাজটা নষ্ট হয়ে গেল। আমি খুব কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপের চেষ্টা করলাম। বুঝলাম কোন কাজ হয়নি।
তারপর হেসে জোর গলায় বলে ফেললাম, “আমি প্রেস কনফারেন্স করছি। আপনাদের ইচ্ছা হলে শুনতে পারেন”।
অনেকে হেসে ফেলল, আমিও হাসলাম। অনেকে বলল, ‘আসলেই পাগল’। আমার দিকে কিছু সময় করুণার দৃষ্টি নিয়ে দেখতে লাগল, তারপর যার যার কাজে মনোনিবেশ করল। আমার এই মুহুর্ত টা ভাল লাগছে। এখন আমি একা। কেউ বিরক্ত করার নেই। আমি টিউশানে চলে এলাম।

আমার ছাত্র রাহিক। গত দেড় বছরে ধরে আমার ছাত্র সে। এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ে। ‘আপেক্ষিকতা’ পড়ানো শেষে রাহিক খাবারের ট্রে টেবিলে রেখে ভেতরে ঢুকেছে। আমি একমনে নাস্তা খেয়ে যাচ্ছি। এইমুহুর্তে ঢাকা যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা আমার মাথায় চেপে বসেছে। ভাবলাম, রাহিককে জিজ্ঞেস করে দেখি বাবার মত ওর কাছেও কোন এনভেলাপ আছে কিনা। রাহিক হাতে করে আমার স্যালারি নিয়ে ঢুকল। আমি না দেখেই প্রশ্ন করলাম, রাহিক তোমার কি এনভেলাপটা আছে? রাহিক লজ্জায় কাঁচুমাচু হয়ে এবং তারও বেশি অবাক হয়ে “সরি স্যার” বলে আবার ঘরের ভেতরে ঢুকে হলুদ রঙের খামে হাতের টাকাগুলো ঢুকিয়ে আমার হাতে দিল। আমি খাম হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখতে লাগলাম।
দেখলাম, বড়বড় করে আমার নাম লেখা।
-সেকী, তোমার খামে আমার নাম কোত্থেকে এল?
-স্যার, আপনার স্যালারি এটাতে দেওয়া আছে ত, তাই।
-ও, কিন্তু আগে তো কখনো খাম দাওনি!
-কিন্তু স্যার আপনিই যে চাইলেন?
-কবে?
-এইমাত্র! এখনি! স্যার আপনার ভুল হচ্ছে, আমি সিউর আপনি বলেছেন!
-ও, হতে পারে। আচ্ছা, পরের দিন বিকাল ৫ টায় আসব।
আমি বের হয়ে আসলাম। বাসায় যাচ্ছি, মাঝপথে যেতে মনে পড়ল, আমি তো রাহিককে অন্য এনভেলাপের কথা বলেছি। এই এনভেলাপ না! ওহহো, এটা রাহিককে ঠিকমত বলাই হয়নি। ধ্যাত, ঢাকা যাওয়ার একটা সুযোগ নষ্ট! পরের সপ্তাহে অবশ্যই জিজ্ঞেস করতে হবে। এনভেলাপটা কোথায় জানতেই হবে।

বাবাকে এখন একটা দুশ্চিন্তায় ধরেছে। আগে আগ্রহ না দেখালেও আমাকে ঢাকা নিয়ে যেতে অনেকটা উঠে পড়ে লেগেছেন বাবা। এর ওর কাছে ধার চাইছেন। একদিন রাশেদ আংকেল বাসায় এলেন। আমি যথারীতি বারান্দায় বসে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছি। হঠাৎ বাবার কন্ঠ উত্তেজিত শোনাল।
আমি “বেগিং ইউর পার্ডন, আই হ্যাভ এন এমারজেন্সী কল টু এটেন্ড, আই উইল কন্টিনিউ আফটার আই কামব্যাক” বলে বারান্দা থেকে বেরিয়ে ড্রইংরুম এর দিকে ছুটলাম।
রাশেদ আংকেল বাবাকে কনভিন্স করার চেষ্টা করছেন,
-“নিজেকে বোল্ড ক্যারেক্টার টা আরেকটু সংযত করে, একটু ইন্টেলিজেন্সী দেখিয়ে হাসিমুখে পার্টির খামগুলো যদি তখন থেকে পকেটে নিয়ে নিতি, আজ আমার মত ব্যাংকে মিলিয়ন বিলিয়নের পাহাড় হত, এভাবে ছেলের জন্য হাত পাততে হত না। আর একটা পাগল, মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের জন্য এতগুলো টাকা জলে ফেলে দেয়ার মানে আছে? ”
বাবা এইবার আর সহ্য করতে পারলেন না, রাশেদ আংকেলকে দরজার দিকে ইঙ্গিত করতেই তিনি আর কথা না বাড়িয়ে গটমট করে হেঁটে বেরিয়ে গেলেন।
দিন চারেক পর আমি হসপিটালে গেলাম। আমাকে শুইয়ে দিয়ে এক মেশিনের ভিতরে চালান করা হল। রিপোর্ট দেখে ডাক্তারের সাথে আলাপ করলেন বাবা। মা আর আমি বাইরে ওয়েটিং রুমে। বাবা আসতেই মা জিজ্ঞেস করলেন, বাবা শুধু বললেন, ‘বড় হয়েছে’।
আজ আমরা সবাই ঢাকা যাচ্ছি। আমার একটা অপারেশন হবে। আমার ব্রেইনে এ নাকি একটা টিউমার আছে। ওকে বের করলেই আমরা চলে আসব। খুব ছোট বেলা থেকেই এই টিউমার নাকি আমার ব্রেইনে ঢুকে পড়ে। আমি মায়ের কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করছি। কানে আসল বাবাকে মা জিজ্ঞেস করছেন,
-কি হত রাশেদের মত এদিক সেদিক বলে কটা টাকা নিলে? সততার কি এই পুরষ্কার পেলে?
বাবার নিষ্প্রাণ জবাব, আমি দূর্নীতিবাজ নই। আমি মুখোশ পরা নই। রাশেদের মত আমার চরিত্রের কোন এনভেলাপ নেই। আমার নীতি আমার কাছে সবচেয়ে মুখ্য।
আমার মনে পড়ল, সেই ফেলে রাখা প্রেস কনফারেন্সের প্রশ্ন। তার জবাব আমি পেয়ে গেছি। চোখ মুদে সেই মুহুর্তে ফিরে গেলাম, সেই আমি। সেই সানডে টাইমস এর সাংবাদিক। সবার আগ্রহী মুখ। একটা জবাবের অপেক্ষায়। আমি হাসলাম। তারপর বললাম,
-আই ডোন্ট হ্যাভ এন এনভেলাপ অন মাই ক্যারেক্টার। থ্যাংক্স গোজ টু মাই ড্যাড।
সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে হাততালি দিল ! আমি হাত নাড়ছি আর ক্যামেরার ফ্লাশের ঘ্যাচ ঘ্যাচ শব্দে আমি ঝাপসা দেখছি। চারপাশের শব্দ গুলো মৃদু হয়ে আসছে। আমি জ্ঞান হারাচ্ছি। আমার রুম, রাহিকের প্রশ্ন, বাবার অফিস, ভার্সিটির ল্যাব, রাশেদ আংকেল, রবিনের ডাক সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে! তারপর আর কিছু মনে নেই।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *