এলার ইদ উপহার
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 95 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখিকা :অনামিকা রিমঝিম
(জুন – ২০১৮)
………………

কয়েকদিন থেকে নানান কাজে ব্যস্ত রিশাদের বাড়িটা। কারণ ইদের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি!
এবার ইদ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা সাজিয়েছে রিশারা। তার উপর ভাইয়াও চলে আসবে দুই এক দিনের ভিতর। ভাইয়া ঢাকায় পড়াশুনা করে। রিশার বাসার সদস্য সংখ্যা ৫ জন, তার বাবা, মা, ভাইয়া, দাদী আর সে নিজে। দাদুভাই বছর দুয়েক আগেই মারা গিয়েছেন। বাসায় অবশ্য আর একজন থাকেন, কাজের বুয়া।
যাই হোক, এই কয়েকদিন খুব ব্যস্ততার মধ্যে কাটাচ্ছেন রিশা ও রিশার আম্মু। প্রায়ই প্রতিদিন শপিং এ যাচ্ছে দুজন! তবুও যেন কেনাকাটা শেষ ই হয়না। এইতো আজ ও শপিং শেষে রাতে বাসায় এসে গরম জলে পা ডুবিয়ে বসে আছে মা মেয়ে।
রফিক সাহেবের অবশ্য এসব নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথ্যা নেই। সে সারাদিন ব্যস্ত থাকে তার ব্যবসা নিয়ে। রফিক সাহেব রিশার বাবা। অনেক বড় ব্যবসা সামলাতে হয় তাকে। তাই পরিবারে তেমন একটা সময় দিতে পারেন না। সকাল বেলা বেড়িয়ে যান আবার ফেরেন রাতে।
অবশ্য রিশার মা আর রিশার এ নিয়ে তেমন সমস্যা নেই; মা মেয়ে পার্লার শপিং বাসা সাজানো এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকে। শুধু একজন রফিক সাহেব এর শূণ্যতা অনুভব করেন। তার মা,মানে রিশার দাদী। মানুষটা আজকাল বড় একা। ঘরের ভেতর বসে থাকেন। কথা বলার কেউ নেই। বুয়ার সাথেই মাঝে মাঝে গল্প করেন। রিশা বা রিশার মা খুব প্রয়োজন ছাড়া তেমন একটা কথা বলতে যান না তার সাথে।
তবে অর্নব এলে দাদীর সাথে গল্প করে। ছোট থেকেই অর্নব দাদীকে অনেক পছন্দ করে। এখনো বাসায় আসার পর দাদীর কাছে গিয়ে সালাম করে তার সাথে গল্প করে।
যে কয়েকদিন বাসায় থাকে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় সে দাদীর সাথে কাটায়! দাদীর ও এতে ভালো লাগে। মনটা হালকা হয় কারো সাথে কথা বলতে পেরে।
যথারীতি ইদের ৫ দিন আগে বাসায় এলো অর্নব। অর্নব বাসায় ঢুকতে না ঢুকতেই রিশা তাকে ভাইয়া বলে জড়িয়ে ধরলো। রিশা অর্নবের খুব আদরের বোন। তার সাথে একটু কথা বলতেই মা আসলেন। তাকে সালাম করে কুশলাদি জানতে চাইলো অর্নব।
তারপরেই দাদীর ঘরে গেল। দাদী সেই জানালার কাছে চেয়ারটাতে বসে জানালা দিয়ে বাইরে দেখছে। অর্নব চুপি চুপি দাদীর পেছনে গিয়ে দুইহাত দিয়ে তার চোখ ধরে নিল! দাদী বললেন “অর্নব কখন এলি”?
অর্নব চোখ ছেড়ে দিয়ে দাদীকে বললো, আহ দাদী তুমি কি করে বুঝে যাও বলোতো। দাদী একটু হেসে বললেন “তুই ছাড়া এই বুড়িকে এভাবে ছোঁয়ার আর কে আছে বল? তাই বুঝে যাই। কেমন আছিস বল এখন …..”
এরপর চলতে থাকে অর্নব আর দাদীর গল্প।
দাদী অনেক অনেক দিন পর আজ হাসলেন। অর্নব এর সাথে গল্প করে না হেসে উপায় আছে নাকি? ছেলেটা এত মজার মজার কথা বলে। বাসায় আসলে সবাইকে মাতিয়ে রাখে সারাদিন।

এদিকে রিশা আর রিশার আম্মু ইদের দিনের সব পরিকল্পনা করে ফেলেছে। সারাদিন কোথায় কোথায় ঘুড়বে সবাই। রাতে একটা নামী দামী রেস্টুরেন্ট এ ডিনার সারবে। কিন্তু এই সব পরিকল্পনায় শুধু তাদের চার জনের জন্য দাদীর জন্য না। অর্নব সব শুনে আপত্তি করলো,বলল দাদী কি করবে সারাদিন? তখন তার মা তাকে “দাদীর শরীর খারাপ, বাইরে যাওয়া ঠিক না, আরো বেশি খারাপ লাগবে, ডাক্তার রেস্ট এ থাকতে বলেছে ” এসব অজুহাত এ বুঝিয়ে দিলো। এরপর অর্নব ও আর না করতে পারল না।রাজী হয়ে গেল।
ইদের আর মাত্র ২দিন বাকি সবার জন্য শপিং করা শেষ। বাসার সবার জন্য ছয় থেকে সাত করে পোশাক হলেও দাদীর কপালে জুটলো মাত্র ২ টি শাড়ি। অবশ্য অর্নব নিজে থেকে পছন্দ করে দাদীর জন্য একটা খুব সুন্দর শাড়ি কিনে এনেছে। শাড়িটা দাদীকে দেয়াতে দাদী খুব খুশি হলো। অর্নবকে অনেক দোয়া দিলো।
আর নিজের জমানো টাকা থেকে অর্নব আর রিশাকে কিছু টাকাও দিলেন কিছু কেনার জন্য। রিশা টাকা পেয়ে খুব খুশি হলেও অর্নব আপত্তি করে দাদীকে বলল টাকাটা তার কাছেই রাখতে। তার ও তো প্রয়োজন হতে পারে! দাদী বলল “আমার আবার কিসের দরকার। তাছাড়া তোরা তো আছিস ই। দেখবি না আমাকে? ”
অর্নব আর কিছু বলতে পারলো না। দাদীর ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল। ইদের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ রিশাদের পরিবারের। রফিক সাহেব ও ইদের সারাদিন পরিবারকে দিবেন কথা দিয়েছেন সবাই কে।
অর্নব প্রতিদিনের মত সন্ধ্যায় অনেকক্ষণ দাদীর সাথে গল্প করলো। চারদিকে এত খুশি, আনন্দ তবে এই মানুষটার মনে খুশি নেই আনন্দ নেই। অবশ্য কেনই বা থাকবে। এ বিষয় নিয়ে অর্নব কয়েকবার পরিবারের সবাইকে বুঝিয়েছে। তবে কোন লাভ হয়নি। দাদীকে একাই থাকতে হয়।
যাই হোক অর্নব যতটুকু পারে দাদীকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে। সেদিন সন্ধ্যায় দাদীর ঘর থেকে বেড়িয়ে যাবার সময় দাদীর বালিশের পাশে একটা ডায়েরী লক্ষ্য করলো অর্নব। তার কৌতূহল হলেও দাদীকে এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা না করেই বেড়িয়ে গেল।
ভাবলো, দাদী তো আর কিছুক্ষণ পরেই ঘুমিয়ে পড়বে তখনই সে এসে ডায়েরিটা পড়বে।
যেমন ভাবা তেমন কাজ। অর্নব চুপি চুপি দাদীর ঘড়ে আসলো। ডায়েরীটা হাতে নিয়ে চলে গেল নিজের ঘরে। দাদী কিছুই টের পেল না কারণ বেশ আগেভাগেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি! একেই অসুস্থ, রাত জাগতে পারেন না।
অর্নব নিজের ঘরে গিয়ে ডায়েরীটা খুলল। খুলেই তার চোখে পড়লো ডায়েরী কয়েকটি পাতা জুড়ে একটা চিঠি লেখা। চিঠিটা দাদী লিখেছে দাদুকে। দাদু দুই বছর আগেই মারা গেছেন তবে দাদীর পক্ষে দাদুকে ভোলা বা তার শুন্যতা কাটিয়ে ওঠা বুঝি আর কোন দিন ও সম্ভব না। সম্ভব হলে এতদিনে হয়েই যেত। দাদী এখনো অসম্ভব মিস করে দাদুকে। অর্নব ডায়েরীটা পড়া শুরু করলো ….
“প্রিয় তুমি,
আমাকে ছাড়া খুব ভালোই আছো হয়ত ওপাড়ে। তাই আজকাল আর স্বপ্নেও আসোনা। তুমি কি বুঝতে পারো না আমি কতটা শূন্যতা অনুভব করি তোমার? তুমি খুব খারাপ জানো তো,আমাকে একেবারে একা করে চলে যাওয়াটা খুব দরকার ছিল? আর কতদিন বাঁঁচব আমি? পারতে না এই কয়েকটা দিন আমার সাথে কাটাতে ..
একাকিত্ব খুব ভয়ংকর জিনিস সেটা এখন বেশ ভাল ভাবেই বুঝে গেছি। মনে পড়ে তোমার, একসাথে কাটানো দিনগুলি?
সেই তোমার আমার ৭ বছরের ভালবাসা! শহরের সব চেয়ে প্রানবন্ত জুটি ছিলাম আমরা! হাত ধরে ঘুড়ে বেড়াতাম সেই শহরের প্রত্যেকটি জায়গা। আকাশ বাতাস আর সব ধুলোগুলোও জেনে গেছিলো তোমার আমার ভালবাসার কথা!
একদিন ১৫০০ টাকার চাকরি পেয়ে হাসতে হাসতে আমার হাত ধরে বললে “এলা, চল ঘর বাঁধি”!
ব্যস। আমার জন্য তো সেটুকুই যথেষ্ট ছিল তোমার হাত ধরে ঘর বাঁধার জন্য।
তুমি হাত ধরলে, ভালবাসলে, দুজনে একটা ঘর, রান্নাঘর বেলকুনির মধ্যে ভালবাসা বুনলাম! সারাদিন খাটাখাটনি করে এসেও আমাকে কত সাহায্য করতে।
রাতে তোমার হাতে খাওয়াটা আমি এখনো বড্ড বেশি মিস করি জানোতো! ইশ! কি ভালবাসা ছিল, কি দিন ছিল!
আস্তে আস্তে তোমার চাকরির উন্নতি হলো, তুমি বললে অন্য একটা বড় বাড়িতে উঠি চলো, আমি না করে দিয়েছিলাম। যেখানে তোমার আমার ভালবাসা বুনেছি, সেই জায়গা ছাড়ার ইচ্ছে মোটেই ছিল না। তুমিও আমার জেদ মেনে নিলে ..পাক্কা ছয় মাস পর পাশের ঘরগুলো সব ফাঁকা হলো আর তারপর পুরো ফ্ল্যাটটা আমরা নিলাম!
আচ্ছা, তোমার মনে পড়ে তার কিছুদিন পর যখন তোমার কানে কানে বলেছিলাম আমার প্রেগনেন্সির কথা? তুমি এত খুশি হয়েছিলে যে আমায় কোলে নিয়ে ছাদে চলে গেলে। দুজনে হাতে হাত রেখে চাঁদ দেখলাম, কাঁদলাম। সে সময় তোমার কত পাগলামি! কোন কাজ করতে দিতে না আমায়। ছোট ছোট বাবুর ছবিতে ভড়িয়ে দিয়েছিলে আমাদের ঘরটা।
তারপর একদিন, আমরা দুজন থেকে তিনজন হয়ে গেলাম। একটা সুন্দর ফুটফুটে ছেলে হলো আমাদের। নাম দিলাম রফিক! কত খেলতাম আমরা ওকে নিয়ে! দুজন মিলে সব সময় চেষ্টা করতাম যেন কোন আঁচ না লাগে ওর গায়ে। দুজনের সবটুকু ভালবাসা দিয়ে বড় করলাম ওকে!
থাকতে থাকতে তুমি সেই বাসাটায় কিনে নিলে। সেই বাসাতেই রফিককে বিয়ে দিয়ে বউ নিয়ে আসলাম।
তারপর আস্তে আস্তে নাতী নাতনি! সুখেই তো ছিলাম না? বউমা হয়ত তোমায় আমার তেমন একটা পছন্দ করত না,কিন্তু আমরা তো সবাইকে ভালবাসতাম বলো ..
তুমি রিটায়ার্ড করলে! আমরা বুড়ো বুড়ি হোলাম। মর্নিং ওয়াক, সারাদিন গল্প, এই কাজ ওই কাজ করে তো ভালই যাচ্ছিল দিন! একসাথে কাটানো ৫৭ বছর! তবে কেন আমায় একা করে চলে গেলে?
জানো, এখন সব বদলে গেছে। ওরা আমাদের সেই ভালবাসার ঘড়টা বেঁচে অন্য একটা বাসাতে নিয়ে এসেছে আমাকে। আমার এখানে ভাল লাগে না, একদম লাগে না। এখানে জানালা দিয়ে শালিক আসে না, তোমার আমার ভালবাসা দেখে না, এখানে দেওয়ালে, বারান্দা, কোথাওই আমি তোমায় খুজে পাইনা!
জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আগের মত আর তোমাকে আমাকে কল্পনা করতে পারিনা।
আগে যেমন কল্পনা করতাম আমাদের আগের দিনগুলি, তোমার পছন্দের সেই হলুদ চুড়িদার পরে তুমি আমি বৃষ্টিতে ভিজে হেটে যাচ্ছি! মিশে যাচ্ছি প্রকৃতিতে! এসব আর কিছুই ভাবতে পারিনা। তোমার এই বাসাটা পছন্দ না তাইতো?
আমি জানি, তুমিও আমায় ছাড়া ভালো নেই। তোমার শুন্যতা কিছুতেই পূরণ হবার নয় গো, আমি খুব একা হয়ে গেছি।
একটা কথা জানো, কোথাও চলে যাওয়াটা অপরাধ না,তবে কাউকে একা করে যাওয়াটা অপরাধ, অনেক বড় অপরাধ!

প্লিজ আমার কাছে আর একটা বার এসো, এসে হাতটা ধরে বলোনা, “এলা চলো ওপাড়ে আবার ঘর বাঁধি …….”
ডায়েরী পড়া শেষ করে অর্নব বুঝতে পারলো তার চোখ বেয়ে জল পড়ছে। একটা মানুষ আর একটা মানুষকে এতটা ভালবাসতে পারে? এতটা মিস করতে পারে?
আর একটু দেরি না করে ডায়েরিটা নিয়ে অর্নব তার বাবা মাকে পড়ে শোনালো!
এরপর সকাল হলো। আজ ইদ!দাদীর কাছে আর সাতটা সাধারণ দিনের মতই আজকের দিন। সে জানে ছেলেরা নামাজ পরে এসে একটু পরেই সবাই মিলে ঘুড়তে বেরিয়ে যাবে তাকে একা রেখে!
তবে আজ দাদী প্রতিবারের মতই পায়েস রাঁধবে! দাদুর যে পায়েস খুব পছন্দ ছিল! আজো হয়ত দাদী পায়েস রান্না করে দাদুর ছবির সামনে রেখে বলবে, “কি গো খাও! খাবে না?”
বলবে আর চোখের জল ফেলবে!
ঠিক তখনই অর্নব আর রিশা দাদীর ঘরে এলো। বলল তাদের সাথে নিচে যেতে। তাকে আজ একটা জায়গায় নিয়ে যাবে তারা।দাদী অনেক প্রশ্ন করলেও তারা কোন কথা না শুনে তাকে জোর করে নিচে নিয়ে গেল! দাদী নেমে দেখে সেখানে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে রফিক আর বৌমা! সবাই মিলে তাকে গাড়িতে তুলল। তারপর চলতে শুরু করল। দাদী কিছুই বুঝতে পারছেন না যে কি হচ্ছে এসব। হঠাৎ একটা বাড়ির সামনে এসে গাড়ীটা থামলো!
একি! এ যে সেই বাড়িটা! এলা আর তার বরের ভালবাসায় ঘেড়া বাড়িটা!
রফিক আর তার স্ত্রী তাদের মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলো, বললো “তুমি এতটা একাকিত্ব নিয়ে থাক আমি বুঝতে পারিনি মা, আমায় ক্ষমা করে দাও!
আজ থেকে আবার আমরা এই বাড়িতেই থাকব। আমরা বুঝতে পেরেছি মানুষ বৃদ্ধ হয়ে গেলে তার জীবনসংগী কে হারিয়ে ফেললে কতটা একা হয়ে যেতে পারে!
আমরাও তোমাকে সময় দেইনি। বুঝিনি তোমায়। তুমি আমাদের মাফ কর মা! আমরা এখন বুঝতে পেরেছি ইদের আনন্দ নিয়ে শুধু আমরা নিজেরা মেতে থাকি কিন্তু তুমি আব্বাকে মিস কর কষ্ট পাও।
শুধু আমাদের বাসাতেই না হয়ত অনেক বাসাতেই অনেক বৃদ্ধ বাবা মা হয়ত এভাবেই কষ্ট পাচ্ছেন। হয়ত আমাদেরকেও বুড়ো বয়সে এসব সহ্য করতে হবে! আমরা খেয়ালই রাখছি না এসবের। এসব ভেবে কাল রাত থেকে কষ্ট পাচ্ছি মা। তুমি আর রেগে থেক না!
দাদী বললেন মা বাবারা কখনো সন্তানদের উপর রেগে থাকতে পারেনা বাবা! আমি মাফ করে দিয়েছি তোদের।”
তখন রিশা,অর্নব আর তাদের বাবা মা সবাই একসাথে বলে উঠলো, “এটাই তোমার ইদ উপহার! ”
দাদী আনন্দে কেঁদে উঠলেন। সবাই মিলে বাসার ভেতরে গেল! এরই মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলো। দাদী সেই বেলকুনিতে গেলেন,
তারপর তার কল্পনার চোখে রাস্তায় তাকিয়ে দেখলেন,
সেই হলুদ জামা পরে তার জীবনসংগীর হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি! খুনসুটি করে হাতটা ছেড়ে দৌড় দিয়ে যাচ্ছে আর পেছন থেকে আর জীবনসংগী বলছে, ” এই এলা, দাঁড়াও বলছি,দাঁড়াও ….”
তারপর দাদীর চশমা গলে গাল বেয়ে জল পড়তে লাগলো, ঝাপসা চোখে দেখলেন ছেলে মেয়ে দুটি হাসতে হাসতে হাত ধরে মিশে যাচ্ছে প্রকৃতিতে …..

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *