একটি স্ত্রী একটি সংসার
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮
লেখকঃ

 104 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

সাকি সোহাগ

প্রতিদিনের ন্যায় আজও ফজরের নামাজ আদায় করলো তানিয়া। নামাজ শেষে স্বামীর জন্য বাবা মার জন্য শশুর শাশুড়ী জন্য দু’হাত তুলে প্রভুর দরবারে করুণা করে দোয়া মাঙ্গছে।
“হায় দয়ালু, দয়াময় আপনার নিকট একটু দয়া চাই, মায়া চাই। আল্লাহ আমি আপনার একজন গুনাগার বান্দি। জানিনা জীবনে কত রকমের গুনা যে করছি।
আপনি আমাকে মাফ করে দেন। হে মাবুদ আপনি মাফ না করলে কে মাফ করবে! আপনি ছাড়া আর কে আছে আমাদের! মাফ করে দিয়েই দেন না মাবুদ! দিয়েই দেন!”
বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলো।
তানিয়ার বিয়ে হয়ছে আজ এক বছর প্রায় হয়েই আসছে । হাজী বাবার দু’জন মেয়ের মাঝে ছোট মেয়ে সে। তানিয়ার বাবা বড়ই পরহেজগার। দুই দু’বার হজ্জ পালন করছে। তানিয়াও পরহেজগার মেয়ে, আল কোরআনের হাফেজ ও ইন্টার পাশ। খুব নম্র ভদ্র মেয়ে। স্বামী চাকরি করে নওগাঁ তে। সেই সূত্রে তাকেও থাকতে হয় নওগাঁতে। আগে যখন বাড়িতে ছিল ফজরের নামাজ পড়েই কোরআন শরিফ নিয়ে বসতো। শাশুড়ী কিছুই বলতো না। বরঞ্চ খুশিই হতো।
আর মুখে হাসি নিয়ে বলতো-
“পড় মা পড়! রান্নাবান্না নিয়ে চিন্তে করিসনে। আমি দেখছি এসব। তুই পড়তে থাক। তোর মধুমাখা কণ্ঠস্বর শুনে কলিজাডা ঠাণ্ডা হয় রে মা।”
সত্যিই হৃদয় জুড়ানো কণ্ঠস্বর তার। তার মধুর কণ্ঠে পড়া কোরআনের বানী সকাল কে মুগ্ধ করতো। সকাল নীরবে নির্জনে শুধু শুনে যেতো।
ও দিকে রান্নার কাজটা শাশুড়ীই সেরে ফেলতো। শাশুড়ী অনেক ভালোবাসতো তানিয়াকে। কারণ সে ভদ্র মহিলার কোনো মেয়ে ছিল না। তানিয়াকে সে আসলে তার নিজের মেয়ের মতই দেখতো।
কিন্তু নওগাঁতে এখন তানিয়া ফজরের নামাজ পড়ে সেরকম আগের মত আর কোরআন পাঠ করতে পারে না। কোনো দিন একটু পড়া হয় আবার কোনো দিন একেবারেই হয় না।
কারণ স্বামীর অফিস সারে ৭টা থেকে। নামাজ পড়েই রান্নাঘরে ঢুকতে হয়। রান্নাবান্না শেষ করে খাবার টেবিলে সব কিছু গুছিয়ে রাখতেই সোহায়েব, তানিয়ার স্বামী গোছল সেরে চলে আসে।
কোনো দিন তানিয়া নিজেও স্বামীর সাথে এক সংগে খেতে বসে। আবার হয়তো যেদিন একটু দেরি হয়ে যায় সেদিন আর এক সংগে খাওয়া হয় না। সোহায়েব খেতে বসে তানিয়া স্বামীর অফিসের ব্যাগ ও দুপুরের খাবার রেডি করে দেয়। সেই সাথে আদরের স্বামী সোহায়েবের হাতের দুই চার লোকমা তানিয়ার পেটেও পরে যায়।
তারপর খাওয়া শেষ করতেই এক কাপ চা নিয়ে স্বামীর দৃষ্টির আলিঙ্গনে হাজির। চা খেয়েই প্রিয়জনের থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পরবে সোহায়েব। তানিয়া স্বামীকে এগিয়ে দিতে বাড়ির গেট পর্যন্ত চলে আসে। তারপর গেটে দাঁড়িয়ে স্বামীর যাওয়া দেখে। আর ভাবে হয়তো বা পিছন ফিরে আরেকবার তাকাবে। সোহায়েব চলছে তো চলছেই। তানিয়া বড় আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যে, এই বুঝি তাকাবে। বড় রাস্তার মোর ঘুরতেই সোহায়েব প্রতিদিনের মত ঘুরে তাকাবে। দেখবে তার সোহাগী বউটা পাঁচ আংগুলের সারার জন্য অপেক্ষা করছে। তখন হাত তুলে সেই সুদূর থেকে সোহায়েব সারা দিবে। এবং মৃদু হাসি দিয়ে হাত তুলে সারা গ্রহন করবে তানিয়া। তারপর?
তারপর তানিয়া গেট থেকে ফিরে আসবে ঘরে। হয়তো বা শুয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নিবে নয়তো বা তাসবিহ জববে। আবার জহরের নামাজ পড়ে হাদিসের বই খুলে বসবে আসর অবধি। বাদ আসর রাতের রান্না নিয়ে ব্যস্ততম সময় পার করবে। আর মাগরিবের নামাজ শেষে স্বামীর ঘরে ফেরার অপেক্ষায় জালানার পাশে বসে থাকবে।
এমন বউ কে না চায়! কিন্তু কতজনে এমন বউ পায়? এমন একজন বউ, এমন একজন রমণী, এমন একজন তানিয়াকে পেতে হলে অবশ্যয় সেরকম একজন হাফেজ সোহায়েবের মত হতে হবে। হতে হবে একজন ভালো বন্ধু,ভালো মানুষ, ভালো স্বামী।
তখনি হয়তো আমার আপনার নসিবে সৃষ্টকারীর নির্দেশনায় পেয়েও যেতে পারি এমন লক্ষী প্রতিমার মত তানিয়াকে।
সুতারাং ভালো পেতে হলে ভালো হতে হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৩ Comments

  1. আখলাকুর রহমান

    নিম্নের ভুলগুলো সংশোধন করে নিবেন।

    মাঙ্গছে – এমন শব্দ আছে বলে জানা নেই। সম্ভবত “চাচ্ছে” হবে

    নওগাঁ তে – নওগাঁতে (স্পেস হবে না)

    বরঞ্চ – বরং শব্দে শোভনীয়

    সকাল কে – সকালকে (স্পেস হবে না)

    গোছল – গোসল (বিদেশী শব্দে “স” ব্যতীত “ছ” ব্যবহৃত হয় না)

    পেটেও পরে – পড়ে

    বেরিয়ে পরবে – পড়বে

    রাস্তার মোর – মোড়

    সারা দিবে – সাড়া

    তাসবিহ জববে – জপবে

    জহরের – জোহরের

    সুতারাং – সুতরাং

    কেমন জানি অসমাপ্ত মনে হলো!
    উপদেশ থাকবে, বানান চর্চায় আগ্রহী হয়ে উঠুন।
    তবে সুন্দর থিম।
    ভালো পেতে হলে ভালো হতে হবে।
    শুভ কামনা রইল।

    Reply
  2. আফরোজা আক্তার ইতি

    পুরো গল্পটাই চমৎকার সেই সাথে শেষের লাইনটা বেশি চমৎকার। অবশ্যই ভালো পেতে হলে ভালো করতে হবে। আল্লাহ নেক নিয়তের ও নেক কাজের ফলাফল নেকভাবেই দেন। তিনি কখনোই কাওকে নিরাশ করেন না। ভালো কাজের ফলাফল হিসেবে অবশ্যই তার ভাগ্যে ভালো কিছুই জুটবে। তানিয়ার মত পরহেজগার স্ত্রী সকল পুরুষেরই কাম্য, তেমনি সোহায়েবের মত নেক স্বামীও প্রতিটি মেয়ের কাম্য।
    সুন্দর লিখেছেন। বানানে বেশ কিছু ভুল আছে। শুধরে দিচ্ছি।
    শশুর- শ্বশুর।
    করুণা করে- করুণা চেয়ে/ করুণ করে হবে।
    গুনা- গুনাহ।
    বানী- বাণী।
    সংগে- সঙ্গে।
    মোর- মোড়।
    সারা- সাড়া।
    গ্রহন- গ্রহণ।
    জববে- জপবে।
    গ্রহন- গ্রহণ।
    লক্ষী- লক্ষ্মী।
    অবশ্যয়- অবশ্যই।

    Reply
  3. মাহফুজা সালওয়া

    অনেক সুন্দর এবং শিক্ষনীয় বিষয় নিয়ে লিখেছেন আপু।
    বেশ ইউনিক,অনন্য।
    গল্পের মেসেজটাও দারুণ।
    এমন স্ত্রী-স্বামী প্রত্যেক নেক বান্দা মাত্র চায়।
    তবে,লিখাটা আরও গুছিয়ে লিখা উচিত ছিলো।
    বেশ বানান ভূল,দ্রুত সংশোধন প্রয়োজন।
    শুভকামনা রইল।????

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *