একটি প্রেমের গল্প
প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 293 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

গল্প লেখকঃ
আইরিন আক্তার
(মার্চ – ২০১৮)
……………

‌অদ্রিতা সেই কখন থেকে একা একা লেকের পাশে বসে আছে। লেকটি পার্কের মধ্যেই। বেশ সাজানো গোছানো। আরও অনেকেই আছে চারপাশে। কেউ কেউ রহস্যের দৃষ্টিতে দেখছে। এভাবে আরও প্রায় ঘন্টা খানেক পার হয়ে গেলো। কিছুটা অপ্রস্তুত লাগছে এখন। বারবার পার্কের গেইটের দিকে তাকাচ্ছে। আজ প্রতীক্ষার পালা যেনো শেষই হতে চাইছে না। আরও কিছুক্ষণ পার হলো। এবার লাল টিশার্ট পরা একজনকে আবিষ্কার করলো অদ্রিতা। তার বিস্ময়ের দৃষ্টি এড়িয়ে লাল টিশার্টের লোকটি অদ্রিতার বসে থাকা বেঞ্চের পাশের জায়গাটুকুতে বসলো।
ভাবলেশহীন যেনো। লোকটি বলতে একটু ভারি ভারি লাগছে। তারচেয়ে ছেলে বলাই ভালো। অদ্রিতা তাকিয়ে আছে। ছেলেটি ফিরছেই না। আদ্রিতা মুখ বাড়িয়ে সামনে এনে স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো। ছেলেটি এবারও ফিরলো না। অদ্রিতার হাসি পেলো। সাথে আনা ছোট্ট “টুইটি বার্ড” বলে দিচ্ছে ছেলেটির নাম রাফিন। পাখি আনার কথা ছিলো। কিন্তু টুইটি বার্ড?
অদ্রিতা খিলখিলিয়ে হেসে দিলো। ছেলেটি এবার তাকালো। আজ তাদের প্রথম দেখা। প্রথম চোখে চোখ পড়লো।

হলুদ পাখি অদ্রিতার খুব প্রিয়। টুইটি বার্ডটি হাতে নিয়ে আদ্রিতা বাচ্চাদের মতো লাফাতে লাগলো। বয়স বেশি একটা হয়নি।
সবে কৈশোর পেড়িয়ে যৌবনে। কাকতালীয় হলেও আদ্রিতার ড্রেসের সাথে রাফিনের ড্রেসের কালার মিলে গেছে।

মুঠোফোনে লজ্জার আবরণ থেকে বের হতে পারলেও বাস্তবে অতোটা তাড়াতাড়ি হলো না। বেশ খানেক সময় কেটে গেলো। এরপর হাতে হাতে স্পর্শে জেগে উঠলো দু’জন। লেকের পাড়ের সবুজ ঘাসে পাশাপাশি হাঁটতে লাগলো তারা। দু’জনের মনেই এক অন্যরকম অনুভূতি। প্রেম প্রেম ভালোলাগা। তাদের দুজনের আনন্দের অন্ত নেই। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো, সূর্যের উত্তাপ বাড়ছে। আলো ঝলমল করছিলো অদ্রিতার মুখে।
হঠাৎ করেই রাফিন বলে উঠলো, ‘খুব খিদে পেয়েছে।’ প্রিয়োর খিদে প্রিয়ার কি আর সহ্য হয়। তাড়াতাড়ি উঠে পড়লো অদ্রিতা। কিন্তু রাফিন এ কোন জায়গায় নিয়ে আসলো তাকে। একোন ক্ষুদা পেয়ে বসেছে রাফিনের? অদ্রিতা তো ভালোবাসে রাফিনকে। সব দিতেও চায়। কিন্তু এভাবে? ভাবতে থাকে অদ্রিতা।
আচমকা প্রশ্ন করলো রাফিনকে,
– আমরা কোথায় এসেছি রাফিন?
– কেনো! রুমে বসে দুজনে মিলে আড্ডা দেবো আর লাঞ্চ করবো।
– রাফিন চলো অন্য কোথাও যাই। জায়গাটা আমার পছন্দ না।
রাফিন শুনছেই না। জেদ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। অদ্রিতাকে নিয়ে রুমে বসে খাবে।
তার ভালোবাসার প্রিয় মানুষের জন্য তাকে এমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে হবে- ভাবেনি কখনো। অদ্রিতার প্রথম দেখার দিনটির সব আশা ভালোবাসা যেনো উবে (উড়ে) যেতে বসলো। রোমান্টিক একটা ছায়া পাশে পাবে ভেবেছিলো। কিন্তু অদ্রিতা ক্রমেই বুঝে গেলো রাফিনের ইচ্ছে। সে তো কামক্ষুধার্ত অন্যকিছু। ভালোবাসার কোনো টুইটি বার্ড, সে নয়।
অদ্রিতা লনের সোফায় বসে বিষ্ময় চোখে রাফিনের কার্যকলাপ দেখছিলো। কিছুক্ষণ পর আদ্রিতাকে ডেকে পাঠানো হলো। আদ্রি রিসেপশনের দিকে গেলো। রিসেপশনের মেয়েটি বললো, ‘ম্যাম এখানে আপনার নাম, ফোন নম্বরটি লিখে স্বাক্ষর করুন প্লিজ।’

এবার অদ্রির আকাশ থেকে পাড়ার পালা। রিসেপশনে আবাসিক হোটেলটির নাম দেখলো সে। রিসেপশনিস্টের কাছে জানতে পারলো, ‘স্বামী-স্ত্রী হলেও রুম বুকিংয়ের জন্য দুজনের স্বাক্ষর লাগে। তাই এই ফরমালিটিস।’
অদ্রিতার বুঝতে আর কিছুই বাকি রইলো না। যতোটুকু ভালোবাসা জেগেছিলো সব উবে গেলো। অদ্রিতার বিবেক জেগে উঠল। হাতের কাগজটি নিয়ে রাফিনের মুখে ছুঁড়ে দিলো। পরে লন জুড়ে ‘ঠাস’ শব্দ ঘুরে বেড়াতে লাগলো। আর অদ্রিতার মনে কে যেনো সেই শব্দের পাঁচ আঙুল রক্তিম রঙে সাজাতে থাকলো।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

১৮ Comments

  1. Anusha

    বেশ সুন্দর লিখেছেন

    Reply
    • Irin Akter

      অনুপ্রাণিত হলাম, 🙂
      অশেষ ধন্যবাদ ♥

      Reply
  2. Nusrat

    অত্যন্ত সুন্দর লিখেছেন। গল্পের ধারবাহিকতা অসাধারণ ছিলো।

    Reply
  3. Suhana

    গল্পটিতে শিক্ষনীয় অনেক কিছু আছে। এখনকার নতুন প্রজম্মর গল্পটি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।

    Reply
  4. Mou khan

    Very nice story..keep it up..

    Reply
  5. Jibon

    Valo likhsen..nice

    Reply
  6. Siyam

    Khub khub valo laglo

    Reply
  7. Salma

    গল্পটি বেশ ভালো লাগলো,এগিয়ে যান আপু। শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  8. Saiful Saif

    বাহ্, দারুণ লিখেছেন। গল্পটি আমার স্বপ্নিল ম্যাগাজিনেও ছাপাবো।ইনশাআল্লাহ্‌। আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  9. Saiful Saif

    আমার স্বপ্নিল ম্যাগাজিনেও ছাপাবো।ইনশাআল্লাহ্‌। আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  10. Salma Jahan

    গল্পটি বেশ ভালো লাগলো।

    Reply
  11. Salma Jahan

    গল্পটি খুব খুব খুব ভালো লাগলো।

    Reply
  12. সালেক নাছির উদ্দিন

    দারুণ লিখেছো। গল্পটি সমধারা ম্যাগাজিনে প্রকাশ পাবে ইনশাআল্লাহ্‌।

    Reply
  13. Anwar

    khub sundor hoyeche.. agiye jan apu moni

    Reply
  14. দন্ত্যাস

    দারুণ লিখেছো

    Reply
  15. Anas

    very nice story…Keep it up

    Reply
  16. Sefa

    গল্পটি অনেক অনেক ভালো লেগেছে আপু। অতুলনীয়।

    Reply
  17. Arif

    সত্যিই অসাধারন ছিলো

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *