একজন অবৈধ এবং…..
প্রকাশিত: মে ২৬, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 178 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ
Rayhan Islam
(মে – ২০১৮)
……………

বাবার সামনে সিগারেট ধরাতে অস্বস্তি লাগছে। ধরাব কি ধরাব না। বুঝতে পারছি না। আড়চোঁখে একবার বাবার দিকে তাকালাম।বাবা আমার সামনে চেয়ারে বসে আছেন। কিছু বলছেন না। ধুর!
ভাল্লাগছে না। পকেট থেকে লাইটার বের করে সিগারেট ধরালাম।বাবা যা ইচ্ছা মনে করুক। কিচ্ছু যায় আসে না। অবশ্য বাবার এখন এসব মনে করার সময় না। নিকোটিনের ধোঁয়ার জন্যে ফুসফুস বিদ্রোহ করছে। সিগারেটে লম্বা একটা টান দিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,”,ভালো আছো, বাবা?”
বাবা উওর দিলেন না। অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। যেন কি করবেন কিছু বুঝতে পারছেন না। বাবার সাথে এই আমার প্রথম দেখা।
রাত্র সাড়ে বারোটা বাজে। এই শহরের জন্য খুব বেশী রাত না। তবু শহরের ক্লান্ত মানুষজন ঘুমিয়ে পড়েছে। তবে গলির মোড়ের কুকুরগুলো এখনো মাঝে মাঝে করুণ স্বরে ডেকে উঠছে। কুকুরের এই ব্যাপারটা আমার অদ্ভুত লাগে। সারাদিনে তেমন কোন সাড়া-শব্দ নেই। রাতেই তাদের যতো মরাকান্না শুরু হয়। কি জন্যে কাঁদে। কে বলবে….
মাথা কেমন জ্যাম হয়ে আছে। টেনশান কমাতেই সিগারেট ধরিয়েছি। আমি প্রথম সিগারেট শেষ করলাম। বাবা কিছু বলছেন না।মৌনতাই সম্মতির লক্ষন ধরে দ্বিতীয় সিগারেট ধরালাম। এবার ধরাবার সময় বাবাকে একটা সাধলাম। উনি নিলেন না। কি জানি।ছেলের কাছ থেকে সিগারেট নেওয়াটা বোধহয় বেমানান। না নিলে নাই। ভালোই হলো। আমার একটা সিগারেট বেঁচে গেল।এম্নিতেই ধারের পয়সায় চলি। ইচ্ছে করে যে চলি। তা তো না। আসলে আজকাল কেউ শিল্পীদের দাম দেয় না। হ্যাঁ, আমি ঐ টুকটাক ছবি টবি আঁকি আরকি…। বাবা অবশ্য তা জানতেন না। ছোট থেকে আমি মায়ের সাথেই ছিলাম। দুই বছর হয়েছে মা মারা গেছেন। আমি একরুমের একটা ফ্ল্যাট জোগাড় করে ভাড়া আছি। এই শহরে এক রুমের ফ্ল্যাট পাওয়া আর চাঁদ হাত নিয়ে লোফালুফি করা একই কথা! অবশ্য কানাগলি টাইপের মতো জায়গায় এক বাড়ির ভেতর এটা। ভুতেরাও বোধহয় এখানে আসতে চায় না! কোন ভাগ্যগুনে খুঁজে পেয়েছিলাম কে জানে। এই এক ফ্ল্যাটের ভেতরেই আমার সংসার। সারা রুমের বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা।
বাবা রুমে ঢুকেই নাকে রুমাল চাপলেন। চাপা গলায় বললেন,”তুমি এই রুমে থাকো?”
আমি বিগলিত হেসে বললাম,”জ্বি, আমি ছোটখাট মানুষ। এতেই আমার চলে যায়”।
“এটা তো বস্তির চেয়েও জঘন্য! ঘরে এইরকম কিসের গন্ধ?”
আমি আবার হেসে বললাম,”রঙ আর গাঁজার গন্ধ মিশে এরকম হয়েছে। কিছুক্ষন থাকলেই অভ্যাস হয়ে যাবে।”
“তুমি গাঁজা খাও! দেখে তো মনে হয় না”
আমি মুখে সেই একই হাসি ধরে রেখেছি।
“না না, আমি এই রুমে থাকতে পারব না, ছবি দেখাবে তো? তাড়াতাড়ি বের করো”।
“ছবি ছাড়া আর কি দেখাব, সেটা দেখানোর জন্যেই তো নিয়ে এলাম। এতো তাড়াহুড়ো করবেন না। আপনাকে এ ঘরে কিছুক্ষন বসতে হবে। আপনি ঐ চেয়ারটায় বসুন। আমি চা বসিয়ে দিয়ে আসি।”
“থাক, চা বসাতে হবে না। তুমি কি কি ছবি দেখাতে চেয়েছিলে। সেটা দেখাও। আর কি নাকি বলবে। তাড়াতাড়ি বলো। এমনিতেই দেরী হয়ে গেছে। পোনে দশটা বাজে। আমি কখনো এতো দেরী করে বাড়ি ফিরি না।”
বাবা যে চেয়ারটায় বসেছেন, আমি তার সামনের একটা ছোট টুলের মতো জিনিসে বসলাম। এবার বাবা আর আমি মুখোমুখি।বাবার দিকে শীতল চোঁখে চেয়ে বললাম, “আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করব। ঠিক ঠিক উওর দেবেন।”
বাবা রেগে বললেন “এইরকম জেরা করার ভঙ্গীতে কথা বলছো কেনো? আর আমি তোমার সব প্রশ্নের উওর দিতে বাধ্য নই।”
“তা তো ঠিকই। ও আচ্ছা, প্রশ্ন করার আগে একটা কথা বলে নেই। আমি কিন্তু আপনার একটা ছবি আঁকব।”
“আমার ছবি! কেনো?”
“আসলে শিল্পী মানুষ তো। কাউকে দেখলেই হুট করে তার ছবিটা মনে গেঁথে যায়। তখন তাকে আঁকতে ইচ্ছে হয়। তবে আপনাকে অবশ্য অন্য কারনে আঁকব।”
বাবা ভুরু কুঁচকে বললেন,”কারনটা কি? ”
“হা হা হা, সে ছবি আঁকার পরে বলব। তবে ছবি দেখে আপনি কোন মন্তব্য করতে পারবেন না।”
“তুমি এতো কথা না বলে। কি জিজ্ঞেস করবে করো। ”
“ও হ্যাঁ,।
আচ্ছা,আপনি আমার কি হন?”
বাবা অবাক হয়ে বললেন, “আমি! আমি তোমার কি হবো? কিছুই হই না। তোমার সাথে তো আমার দেখাই হলো এক সপ্তাহ আগে। আমার আর্ট গ্যালারি তে তুমি তোমার কিছু ছবি দিতে চাও। আমি না বললাম। তুমি হাতে পায়ে ধরলে,
তাই আজকে আসতে হলো।”
“হা হা হা হা” বিশাল একটা অট্টহাসি দিয়ে বললাম,
“সবই ঠিক আছে। কিন্তু ঐ প্রথম কথাটা বাদে। আচ্ছা, আপনার স্মৃতিশক্তি কেমন বাবা?”
“চোপ, আমি তোমার বাবা নই”।
“সরাসরি হয়তো না। আচ্ছা, যাই হোক। আপনার স্মৃতিশক্তি কেমন সেটা বলুন।”
বাবা থমথমে মুখে বললেন “ভালো”
“ভালো? আচ্ছা তবে এই ছবিটা দেখুন তো। চিনতে পারেন কি?” এটা বলে প্যান্টের পিছনের পকেট থেকে মায়ের একটা পুরনো দুমড়ানো মুচড়ানো ছবি বের করে বাবার সামনে ধরলাম।
বাবা আতঙ্কিত চোঁখে তাকিয়ে বললেন, “তুমি, এই ছবি কোথায় পেয়েছ?
না না,আমি এই মেয়েকে চিনি না”।
“সেটা অবশ্য না চেনারই কথা। পঁচিশ বছর পর একজন মানুষকে দেখলে চিনতে পারা আসলেই কষ্টকর। তবে, সেটা পঁচিশ বছর আগের ছবি হলে তেমন একটা না। আর তার সাথে যদি কিছু স্মৃতি থাকে তাহলে তো কথাই নেই। তাই না?”
“চুপ কর তুই শুয়োরের বাচ্চা,চুপ কর”।
বাবা হিংস্র পশুর মতো চিৎকার করে উঠলেন।
আমি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালাম। আস্তে করে হেঁটে বাবার চেয়ারের পিছনে এসে দাড়ালাম। বাবা আতঙ্কিত গলায় বললেন “এই ছেলে? কি ক্কি করতে চাও তুমি!”
আমি আর তাকে কথা বলার সুযোগ দিলাম না। শক্ত করে দুহাতে ধরে তার মুখ রুমাল বেঁধে দিলাম। বাবা হাত দিয়ে আঁটকাবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোন মানুষ যখন পশুর মতো হয়ে যায়, তখন কোন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে বোধহয় তার সাথে পেরে ওঠা সম্ভব হয় না। বাবার ক্ষেত্রেও তাই হলো। তিনি আমার সাথে পেরে উঠলেন না। এরপর ক্যানভাসের পাশ থেকে একটা দড়ি নিয়ে পিছমোড়া করে শক্ত হাতে বাবার হাত দুটো বাধলাম খুবই শান্ত ভঙ্গীতে। যেন কিছুই হয়নি। বাবার মুখ থেকে ঘড়ঘড় করে গোঙানীর শব্দ আসছে। বাবা হাত পা ছুড়ে ছোটার চেষ্টা করলেন। আমি আলতো করে তার কাঁধের ওপর একটা হাত রাখতেই তিনি থেমে গেলন। বোধহয় বুঝতে পেরেছেন। এমন করে কোন লাভ হবে না। আমি আবার আমার চেয়ারে ফিরে আসলাম।বাবার চোঁখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়েছে। আমি হালকা হেসে একটু সহজ হয়ে বললাম,
“ভয় পাচ্ছেন কেনো? হাত আর মুখ বাধলাম কাহিনীটা শোনানোর জন্য। গল্প বলার সময় কেউ ডিস্টার্ব করলে আমার বিরক্তি লাগে। যদিও এই গল্পটা আপনার আগেই জানা। তবু পুরনো গল্প অনেকদিন পর পর শুনতে ভালোই লাগে। কি বলেন?”

আমি আবার একটু হাসলাম। এরপর বলা শুরু করলাম,
“আপনি আমার বাবা হোন। অন্তত তাই হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ধোঁকা বলে তো একটা ব্যাপার আছে। সেইটার কারনে, অনেক অংকে গোলমাল হয়ে যায়। ঠিক মতো মেলে না। এই গল্পেও ঠিক তেমনি হয়েছিলো। গল্পটা যদিও সিনেম্যাটিক। তবে, সিনেমা তো আর এমনি এমনি বানায় না। মানুষের জীবনের গল্প থেকেই বানায়। শুরু করি তাহলে,
আজকে থেকে মোটামুটি পঁচিশ বছর আগে এই শহরের ঠিক পাশের একটা শহরেই একটা মেয়ে থাকত। মেয়েটা খুব বেশী সুন্দরী ছিলো না। কিন্তু যথেষ্ট মায়াবতী ছিলো। সেটা বলতেই হবে। সেই মেয়েটা তখন মাত্র কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। আপনি তখন সদ্য যুবক। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খুঁজছেন। একদিন কোন এক কাজে সেই মেয়েটা যেই কলেজে পড়ে আপনি সেখানে গেলেন। তারপর আর কি? তারপর আপনার সাথে তার দেখা হলো। এরপর যা হবার তাই হলো। দেখতে দেখতে প্রেম। সেই মেয়ে আপনার জন্যে পুরো পাগল। একসময় আপনার সাথে তার ফিজিক্যাল রিলেশান হলো। সেটাতে অবশ্য ছিলো জোরপূর্বক। অনেকটা রেইপ এর মতোই। এরপর তার গর্ভে সন্তান আসলো। আপনি তা ফেলে দিতে বললেন। সে ফেলল না।এরপর একদিন আপনি হুট করে দূরে চলে গেলেন। কারন, সেখানে আপনার চাকরি হয়ে গেছে। সেই মেয়েটা অবশ্য এই কথার কিছুই জানলো না। কারন,আপনি মেয়েটাকে কিছু না বলেই পালিয়ে গেলেন। একসময় মেয়েটা তার শারীরিক কারনে পরিবারের নানান চাপ আর কথা শুনতে শুনতে অতিষ্ট হয়ে গেল। মেয়েটা তা সহ্য করতে না পেরে একদিন হুট করে এই ইট পাথরের শহরে চলে এল সেই সন্তান কে বাঁচাতে। সেই জারজ সন্তানকে। আর আমিই সেই জারজ সন্তান।”
হিংস্র পশুর মতো আমি চিৎকার করে বললাম,”আমিই
আমিই সেই জারজ,
হ্যাঁ আমি জানোয়ারের বাচ্চা, শুয়োয়ের বাচ্চা, কারন তুই জানোয়ার।”
আমি জানি না কি এক অদ্ভুত কারনে যেন আমার কান্না পেয়ে গেল,
“আমাকে সবসময় কি বলতে হতো জানিস? আমার বাবা মারা গেছে। কিন্তু, এই দুইবছর আগে যখন মা মরে গেলো। তখন আমি জানতে পারলাম যে আসলে আমার বাবা মারা যায় নাই। উনি ধোঁকা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। জানতে পারলাম মায়ের একটা ট্র্যাংক থেকে কিছু চিঠি আর মায়ের একটা ডায়েরী পড়ে। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে তোকে পেলাম। এবং দেখলাম এখন তুই দিব্যি রাজার হালে দিন কাটাচ্ছিস। এ গল্পে এরপর কি হলো তা তো তোর জানাই”
এতোটুকু বলে আমি থামলাম। বাবা চেয়ার থেকে উঠে দাড়ানোর অনেক চেষ্টা করলেন। কিন্তু পিছনদিক থেকে হাত বাধা
থাকাতে সেটা পারলেন না। বাবা এখন ক্রদ্ধ লাল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি শান্ত হওয়ার চেষ্টা করে বললাম “আপনি তো একসময় খুব ভালো ছবি আঁকতেন। আপনার সেই জিনিসটাই আমি পেয়েছি। আজকে এখানে শুধু এই কথাগুলো শোনানোর জন্যই আপনাকে আনিনি। আরেকটা কাজ বাকি আছে। সেটা হলো, ঐ যে,আপনার একটা ছবি আঁকব” আমি মুখে একটা ক্রুর হাসি হেসে বললাম,”তবে সেটা অন্যরকম একটা রঙ দিয়ে আঁকব। সত্যিকারের রঙ দিয়ে”।
বাবা সেই অদ্ভুত আতঙ্ক মিশ্রিত চোঁখে আমার দিকে চেয়ে আছেন। ঘাড়টা একপাশে কাত হয়ে আছে। আমি দ্বিতীয় সিগারেটটা টানা শেষ করলাম। বাবাকে অযথা প্রশ্ন করে লাভ নেই। নাহ্,অনেক সময় হয়েছে। রাত বাড়ছে। এখুনি ছবিটা আঁকতে হবে। ছবি আঁকার পরেও আরো কিছু কাজ বাকি আছে। ছবির নামটা আমি আগেই ঠিক করে রেখেছি “দ্য ফাদার অফ বাস্টার্ড চাইল্ড!”
বাবার বুকের কাছটায় বারবার মাছি জমে যাচ্ছে। আমি তুলিতে আলতো করে সেখান থেকে লাল রংটা নিলাম। সেই রঙ দিয়ে ক্যানভাসে একটা আচড় দিলাম। রংটা খুব গাঢ়ো দেখাচ্ছে ক্যানভাসে। আমি মৃদু হেসে একবার বাবার দিকে তাকালাম,
জারজ সন্তানের পিতা!

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *