ডাকাত
প্রকাশিত: অগাস্ট ৪, ২০১৮
লেখকঃ

 135 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

নন্দিত নন্দিনী

– পাশাপাশি কয়েক টি টিনশেড ঘরের বাসিন্দা আমরা। আমার প্রতিবেশী রা সবাই সবার খুব আপন জন। দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলা থেকে আসা চার পাঁচটি পরিবার আমরা যেন একই বংশ গোত্রে ঠাঁই করে নিয়েছি।গতকাল রাতে আমাদেরই একজন গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম থেকে আসার সময় ডাকাতির শিকার হয়ে কোন রকমে পার পেয়েছে। হাতে তেমন মূল্যবান কিছু না থাকায় অল্পের উপর দিয়ে গেছে। তার কাছে ডাকাতির গল্প শুনতে শুনতে উঠে এল সবার অভিজ্ঞতায় এমন চুরি-ডাকাতির শিকার হবার গল্প।আমাদেরই একজন মারুফ-সায়মা দম্পতি। সায়মা ভাবি একটু বাঁকা চোখে বল্লেন— ডাকাতির শিকার আমিও হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, জান আর মান দুটোই যাবে, পরে শুধু মনের উপর দিয়ে গেল।…. আমরা একটু বিব্রত হলাম– কী বলে!… জান-মানের বদলে মনের উপর দিয়ে!!…
—কি ব্যাপার খুলে বলেন ত।
—- কি আর বলব!… ডাকাতের সাথে ঘর করি, তা কি আর জনে জনে বলা যায়?
মারুফ ভাই কে আমরা ভদ্রলোক বলেই জানি। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য।এখন একটা কোম্পানীতে আছেন…! তিনিই কিনা ডাকাত!! চেপে ধরলাম মারুফ ভাইকে — এই ভাবি কি বলছেন, আপনি সত্যি এমন কিছু করেছেন নাকি?…..
— হুম, একবার করতে হয়েছিল।
–ও মাই গড! করতে হয়েছিল মানে কি ,কি হয়েছিল?
—- নিজের সম্পদ অন্যের হেফাজতে ছিল।সেটা বেহাত হয়ে যাচ্ছিল।
—কি?
—বৌ।
—যাহ! যখন এনেছিলেন তখন তো নিশ্চয় বৌ ছিল না।
—ছিল। আসলে আমাদের বিয়ে কখন হয়েছে আমারই ভাল মনে পড়ে না, আর ও ত এক্কেবারে ই ছোট।
—এই অবুঝ বয়সে “কবুল” বলেছিলেন?
—আমার বয়স আট কি দশ হতে পারে।আর ও ত কথাই বলতে শেখেনি তখন!…. বিয়ে হয়েছিল গার্ডিয়ান এর সম্মতিতে।
পাশ থেকে আপত্তি জানায় ভাবি–
—এই না ! কথা বলতে শিখিনি কেন বলে, আমি দাদীর কাছে শুনেছি তখন আড়াই কি তিন বছর!
আমরা ত হেসেই খুন…কি বলে এরা! আড়াই বছরের কনে, দশ বছরের বর।
—- আমার বাবা আর শ্বশুর ছিলেন বন্ধু।তাদের দোস্তি স্থায়ী করতেই আমাদের বিয়ে দেন। তবে শর্ত ছিল আমি নিজের পায়ে না দাঁড়ানো অব্দি বৌয়ের দাবি করতে পারব না।….
—তারপর?
—-তারপর ভালই চলছিল।মনে পড়ে প্রথমদিকে মা এটা সেটা আমাকে দিয়ে পাঠাত! আবার শ্বশুরবাড়ি থেকেও আসত। ঝামেলা শুরু হল যখন আমি একটু বড় হলাম।
—–কেন? কি নিয়ে শুরু হল?
—- বলছি। আমি বড় হওয়া মানে এএএই এইট নাইন এ পড়ি। মানে সোজা কথায় টাংকি মারার বয়সে।আমি হাইস্কুলে উঠে আর ওদের বাড়িতে যাই নাই। তবে ও স্কুলে যেত, পাশের গ্রামে মামা-খালা বাড়ি যেত আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে।তখন দেখতে পেতাম এই যা! কিন্তু আমি যখন ওকে খেয়াল করতে শুরু করলাম মানে একটু ইয়ে আরকি! তখন থেকে ই দেখি ওর সাথে পাহারাদার!…. ও আর ফ্রি কোথাও যায় না। বাড়ি থেকেও তেমন বের হয় না। আহা, আমারও উৎকন্ঠা বাড়তে লাগল। আমি যখন এস,এস,সি পরীক্ষা দেই, ও তখন একেবারেই গৃহবন্দী। ঠিক গৃহ না বাড়ি বন্দি। বাইরেও আসে না, আমিও দেখতে পাই না। ওই সময় ওকে একটু দেখব বলে গাঁয়ের অন্য পাড়ায় ওর খালা বাড়িতে যেতাম, পাশের গাঁয়ে ওর মামা বাড়িতে যেতাম। কলেজে যাবার সময় উলটা পথে যেতাম, যদি ও সামনে পড়ে যায়…
—হা হা হা
— হাসি না তখন খুব অন্তর জ্বলত। মনে মনে রাগও হত! ব্যাটা আমার বিয়ে করা বৌ আমার থেকে লুকিয়ে রাখ! কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হল।আমার শাশুড়ি ক্ষেপে গেলেন। শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে এই বিয়ে ভেঙ্গে দিতে চাইলেন। আমার বাবা একটু বিষয় টা সামলে নিতে চাইলেন, কিন্তু বিষয় টা তিক্ততার পর্যায়ে চলে গেল। আমি আই,এ পাস করে বি,এ তে ভর্তি হলাম। এক বছর পড়ার পরেই সেনাবাহিনী তে চাকরি হয়ে গেল।ভাবলাম, এবার ত নিজের পায়ে দাঁড়ালাম নিশ্চয় বৌ ফিরে পাব।কিন্তু তিক্ততার লেভেল তখন এমন হয়ে গেছে যে ,আমার শাশুড়ি ঘোষণা করলেন– আমি প্রেসিডেন্ট হলেও তার মেয়েকে আমার ঘরে পাঠাবেন না।
—-কী ভয়ানক!
—-হুম, পরিস্থিতি সত্যি আমার কাছে ভয়ানক ছিল।
—-ভাবি কি বলতেন?
—-আরে ধুর! সে কি আমাকে পাত্তা দিত নাকি?… তাহলে ত আগ্নেয়গিরি কে ও ভয় পেতাম না। সে নিজেই আমাকে এড়িয়ে চলত। আমি চাকুরি করি। ছুটি নিয়ে নিয়মিত বাড়িতে আসি বৌ এর মুখ দেখব বলে। বৌ আমার আসার খবর শুনলেই লাপাত্তা হয়ে যেত!…
—এত কষ্ট করে ছুটি যোগাড় করতাম, কতবার বিফলে যেত। কিছুদিন পর আরও ভয়ানক নিউজ পেলাম। ওকে নাকি ওর মা অন্য কোথাও বিয়ের দেবার কথা বলছে।
আমি ত মাথামুন্ডু সব অন্ধকার দেখছিলাম।
—যে মেয়ে আপনাকে পাত্তাই দেয় না, তার জন্য এত কিছু করতেন কেন?
— প্রথম প্রথম যাকে ভাল লাগে তাকে ভুলে যাওয়া ত এম্নিতেই দুষ্কর । তার উপর আমি যখন জানতাম এ আমার বিয়ে করা বৌ তখন ত ব্যাপার টা এম্নিতেই আলাদা হয়ে গেল। আমি ওকে ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতেই পারতাম না।আর আমি কি কাপুরুষ নাকি, নিজের বৌকে ছেড়ে আরেক মেয়ের পিছু নিব?
—হা হা হা! তো বীরপুরুষ সাহেব বৌকে পাবার জন্য পরের স্টেপ কি হল?
— এটুকু ওর মুখেই শোনেন…. বল কি হল!
এতক্ষন ভাবি মুচকি হাসি হাসছিলেন। এবার তার বলার পালা। তিনিও সুন্দর গুছিয়ে বললেন,
— আমি বুঝার পর থেকেই শুনে আসছি, আমি বিবাহিতা। বর কে তাও জান্তাম। তবে তাই বলে লজ্জাশরম এর মাথা খেয়ে ত আর বরের সাথে পিরিতি করতে পারি না! তার উপর আবার একটু বড় হবার পর থেকেই মা চোখে চোখে রাখত। পরে বুঝলাম ও আমাকে কাছে যাতে টানতে না পারে তাই মা এমন করে। আর তখন থেকেই ত ব্যাপারটা কেমন গোলমেলে। তাই আমিও মায়ের অবাধ্য হতাম না। এইট নাইনে যখন পড়ি তখন আমাদের দু’পরিবারের সম্পর্ক চূড়ান্ত খারাপ। মা বিয়ে অস্বীকার করতে পারতেন না কারন এটা অনেক জানাজানি হয়েছে।তবে কঠোর ভাবে বলতেন তিনি মেয়েকে “আবার ” বিয়ে দেবেন। এক দু’ঘর সম্বন্ধ ও আসত। আমার ভাল লাগত না। বিশেষ করে কেউ যখন বলত –“তোকে নাকি আবার বিয়ে দেবে”… এই আবার শব্দ টা আমাকে আহত করত। নিজে নিজে ভাবতাম– “আবার বিয়ে”– সেটা কি বিশ্রী ব্যাপার। সবার বিয়ে হয়, আর আমার আবার বিয়ে হবে। মুখ ফুটে মা’কে বলতেও পারতাম না যে, আমি আমার বরের কাছে যেতে চাই, আর “আবার বিয়ে” বিষয় টাও মেনে নিতে পারতাম মা। ওদিকে আমি যখন ক্লাস টেন এ পড়ি, মা আমার বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। টেস্টের পর পর তার এক মামাত ভাই না খালাত ভাইয়ের ছেলের সাথে আমার বিয়ে প্রায় পাকা করে ফেল্লেন। ছেলে ইতালি থাকে। দেশে ছুটিতে এসে বিয়ে করে বৌ নিয়ে যাবে। আমার তখন পরীক্ষা সাম্নে। মা তাদের রাজি করালেন আমার পরীক্ষার পরেই সব হবে।
—এই ছেলে পক্ষ কি জানত ,আপনি বিবাহিতা?
—আমাদের কাছে সব আত্মীয়ই জান্ত। আর মা লুকাতেন না। লুকানোর সুযোগ ছিল না।যেহেতু ব্যাপারটা দীর্ঘদিনের। তারা আপত্তি করে নাই। কারন বিয়ে হলেও এটা ত আসলে পুতুল খেলার মত ছিল।
— এটা আমি জানলাম যেদিন পরীক্ষা শুরু হবে তার তিন চারদিন আগে। আমার শুধু মনে হচ্ছিল কি করা যায়!… আমি কিছুতেই এই বিয়ে করব না। বান্ধবী দের কেউ কেউ বুদ্ধি দিল ওকে জানাবার জন্য। কারন ততদিনে অনেকেই জানে সে আমার প্রতি দুর্বল।
—আরেহ, কিসের দুর্বল? আমিত প্রায় পাগল হবার মত অবস্থা!
—হা হা হা! তা আপনি জোর করে আদায় করলেন না কেন সবকিছু? সবাইকে বুঝালেন না কেন- আপনার রাইট আছে?
— আসলে বিয়েটা ছিল আকদ নির্ভর। কোন আইনি অধিকার আমার ছিল না। হাত পা আরও বাধ পড়ে গেল আর্মিতে চাকরি করি বলে।এখানে বিয়ের ব্যাপারে অনুমতির প্রশ্ন আছে। আমার চাকরির বয়স তখন প্রায় সাড়ে তিন। আরও ছয় মাসের আগে অনুমতি পাব না।এর মধ্যে বিয়ে করলে চাকরি নিয়ে টানাটানি লেগে যেত।
—তারপর?ভাবি, কি করলেন ?
— আমার এক বান্ধবীর সাথে ওর ফুফাত ভাইয়ের প্রেম ছিল। তাদের মাধ্যমে ওর ঠিকানা জোগাড় করে চিঠি লিখলাম। তখন আমার পরীক্ষা আরও দুটা বাকি।
—- কি লিখলেন?
—বিয়ে ভাঙ্গার জন্য বলেছিলাম।
—- ওর চিঠি টা ছিল খুব ছোট্ট ।কিন্তু অনেক কথার সমাহার। কোন সম্বোধন ছাড়াই লিখেছিল—
” এ চিঠি পৌঁছাবে কি না জানি না।তবু উপায়হীন হয়ে লিখছি। মা আমার বিয়ে ঠিক করেছেন।পরীক্ষা শেষ হলেই। আগামী সপ্তাহে আমার পরীক্ষা শেষ। আপনি এসব বন্ধ করেন।
আমি মরে গেলেও এসব মানব না।”
–বাহ! আপনার কাছে চিঠি পৌঁছালো কতদিনে?
— চারপাঁচ দিন ত লেগেই থাকে। খোঁজ নিলে জানলাম যেদিন চিঠি পেয়েছি তার পরদিন পরীক্ষা শেষ।
—চিঠি পেয়ে একবার মনে হচ্ছিল– সব পেয়ে গেছি। আবার মনে হচ্ছিল সব হারিয়ে ফেলছি। সারাদিন মন খারাপ নিয়ে বসে আছি। এটা খেয়াল করল এক বন্ধু। সে আমাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সব বের করে বল্ল– আমি তোর বৌ কে আনার ব্যবস্থা করছি।
আমার দুই মাসের ছুটিটা পাওনা হয়ে যাচ্ছিল মাস খানেকের ও কম বাকি ছিল । ও ইমার্জেন্সি বলে ছুটিটা পাস করাল। আরও কয়েকজন জুটাল যারা ছুটি পাচ্ছে। আসলে সব ই ও করল। আমার মাথায় কাজ করছিল না। এরপর প্ল্যান করল।…..
— কি প্ল্যান?
—-ডাকাতির !
—-ডাকাতি?
—-বিকল্প উপায় ছিল না। শাশুড়ি কে আমি চিনতাম। তার সামনে গিয়ে আরও পরিস্থিতি খারাপ করেছি। আর পা ধরতেও সাহস পাচ্ছিলাম মা। তাতে আবার কোন অঘটন ঘটায়!
— তারপর?
—-আমার চার বন্ধু ,এক বন্ধুর এক খালাত ভাই ,আমার সেই ফুফাত ভাই আর আমি। এই সাত জনে মিলে ওদের বাড়ির পাশে অবস্থান নিলাম। ওদের টিভি ছিল। অনেক লোক আসত টিভি দেখতে। সেদিন ইত্যাদি হচ্ছিল। ইত্যাদি শেষ হবার দুই মিনিটের মধ্যে আমরা দরজায় পৌঁছে গেলাম। সবাই যখন বেরিয়ে গেল আমরা ঘরে ঢুকে আস্তে দরজা বন্ধ করে দিলাম। আর সাথে সাথেই অস্ত্র বের করলাম। অস্ত্র বলতে একটা রাম-দা , সাবল , ওদের রান্না ঘর ই থেকে আনা বটি আর খেলনা পিস্তল। রাম দা টা ফুফাতো ভাই নিজের বাড়ি থেকে নিয়েছিল। আমাদের গ্রামে এসব কম বেশি সব ঘরেই থাকে। তবে খেলনা হলেও পিস্তল টা বেশ কাজের ছিল। যাই হোক, আমাদের কাজ শুরু করলাম। এটাকে ডাকাতির রূপ দিতে প্রথমেই সাবল দিয়ে কাঠের আলমারি ভেঙ্গে সব তছনছ করে ফেলা হল। কিছু সরাই নাই। কি করব এসব দিয়ে! যা নেবার তা ই নেব। আলমারি থেকে শাড়ি নিয়ে সবাইকে মুখ হাত বেধেঁ রাখলাম ,যাতে চিৎকার না করে। ও গিয়ে নিজের রূমে পালাতে চেষ্টা করল। আমি দৌড়েঁ গিয়ে ওর বিছানা চাদর তুলে ওকে পেঁচিয়ে সোজা ঘাড়ে করে নিয়ে হাটা শুরু করলাম। সবাই আমাকে ফলো করল। আমাদের ডাকাতি শেষ।এবার পালানোর পালা। রাত সাড়ে দশ টা গ্রামের বাড়িতে অনেক কিছু।বিদ্যুৎ না থাকা গ্রামে তখনপ্রায় সবাই ঘুম। এদিকে ঘরের সবার মুখ-হাত বাঁধা থাকায় চিৎকার দিতেও সময় লেগেছে। ততক্ষনে আমরা দৌড়েঁ নদীর পাড়ে চলে এসেছি। যেখানে আগে থেকেই তিন টা মটরসাইকেল রাখা ছিল।
— একেবারে পেশাদার ডাকাত।
— হুম, তখনও ও জানে না ওকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে! আমি নদীর পাড়ে এসে ওকে ঘাড় থেকে নামিয়ে গা থেকে চাদর সরিয়ে নিতেই ও আমার পায়ের কাছে বসে আমার পা জড়িয়ে ধরে বলে– আমাকে মেরে ফেলবেন না, প্লিজ।আমাকে আমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন, আপ্নারা যা চান আমার মা দিয়ে দেবে। বলেই কান্না জুড়ে দিল। আমার তখনকার অনুভূতি সত্যিই বলে বুঝাতে পারব না। আমার বিজয়ের আনন্দে চোখে জল আসছিল। নিঁচু হয়ে ওকে টেনে তুলে জড়িয়ে ধরে বললাম, মেরে ফেলবার জন্য কি এত কিছু করেছি?… তোমাকে মেরে ফেললে আমার কি হবে? আমি কি নিয়ে বাচঁব?…
এতক্ষনে ও আমার দিকে তাকালো ।কি জানি হয়ত আস্থা রাখল, বিশ্বাস করল। বল্লাম–
আমরা এখন এই হোন্ডা নিয়ে সোজা ঢাকা চলে যাব। সেখানে নিরাপদ হয়ে যা করবার করব।
আমাদের পরের প্ল্যান অনুযায়ী আগের সাতজন আর ও মোট আটজনে তিন হোন্ডায় ভাগ হয়ে গেলাম। একদল নৌকা পার হয়ে বিকল্প পথে ঢাকা যাবে, আমি আমার বৌ ও অন্য একজন সহ এখনই ঢাকার দিকে চলে যাব। বাকি আমার ফুফাত ভাই আর আরেকজন আপাতত ভাল মানুষ সেজে বাড়িতে যাবে। ফুফাত ভাইয়ের সাথে এক বন্ধুকে রেখে গেলাম পরিস্থিতি পাচার করার জন্য। আমরা অস্ত্র গুলো নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে যা যার পথে চলে গেলাম।
—ওয়াও! হোয়াট এ এডভেঞ্চার!
—- এডভেঞ্চার!…একে বলে প্রেমের জ্বালা। সৈনিক হয়েও দল বেধে ডাকাতি করলাম! তাও নিজের বিয়ে করা বৌ কে।
—কেউ জানতে পারল না আসলে কি হয়েছে?… সবাই ডাকাতি মনে করল?
—-প্রথম প্রথম সবাই তাই মনে করল। কেননা আমরা সবাই মুখোশ পরা ছিলাম। তাছাড়া আমি আর আমার ফুফাতো ভাই ছাড়া সবাই ই তো অন্য জায়গা থেকে এসেছে।আমি তো চাকরি করি। চাইলেই ত আসতে পারব না। কেউ চিনতে পারে নি। তবে ঝামেলা হল অন্য ভাবে। ডাকাত এসে ঘর থেকে মেয়ে তুলে নিয়ে গেছে — এটা বেশি সুখের নিউজ ছিল না। দু দিনে কানাঘুষা, বদনাম ছড়ালো খুব করে। বিশেষ করে আমার বাড়ির লোকেরা আমার শাশুড়ি কে হেনস্তা করার পথ পেল। আমার শ্বশুর সরকারি চাকরি করতেন। তিনি মেয়ে নিয়ে ভাল মন্দ কিছুই বলতেন না ,আবার নিজের বৌয়ের এসব কাজে বাধাও দিতেন না। সব কিছুতে মৌনসম্মতি থাকত। পরিস্থিতি যখন ঘোলাটে মনে হচ্ছিল তখন ফুফাত ভাই ফ্লাশ করে দিল, আসলে আমি ই আমার বৌ কে তুলে নিয়ে গেছি। যদিও তার নিজের উপস্থিতি অস্বীকার করল। এবার ত দুই পরিবার একসাথে গরু খোঁজা খুঁজতে লাগল আমাদের ।কিন্তু আমরা তখন নাগালের বাইরে।
আমরা পদ্মা পার হয়ে মুন্সীগঞ্জ এর এক বাসায় উঠলাম। এটা ছিল আরেক বন্ধুর বাসা। সে ছুটি পায়নি। সেই বাসায় বসে আমাদের নতুন করে বিয়ে হল। মুন্সিগঞ্জ দু দিন থেকে ঢাকা হয়ে যমুনা পার হয়ে সোজা টাঙ্গাইল চলে গেলাম ডাকাত-দলের একজনের বাড়িতে।সেখানে কয়েকদিন মজা করেই কাটালাম। সব মিলে প্রায় পনেরদিন পর মনে হল ,বাড়িতে তো তূফান চলছে, কিছুটা ফেইস করি। এবার ঢাকায় এক পাড়াত ভাইয়ের বাসায় উঠলাম যার বৌ আবার আমার শাশুড়ির দূর সম্পর্কের ভাগ্নি। এই বাসায় বসে বাড়িতে টেলিগ্রাম করে জানালাম আমরা কোথায় কি অবস্থায় আছি। পরদিনই দু’পক্ষের মুরুব্বি ছুটে এল। আমাদের নিয়ে যাবে। কিন্তু শাশুড়ির উপর আমার আস্থা ছিল না। আমাদের ভয় ছিল– নিতে পারলে ওকে আবার আমি হারাব। ওরা আমাদের বুঝালো , আমরা রাজি হলাম না ফিরে যেতে ।এবার ভয় দেখালো মামলার। আমি উড়িয়ে দিয়ে বললাম, সে স্বেচ্ছায় এসেছে এবং আমার সাথে আছে। মামলা দিয়ে কিছু হবে না। আর মামলায় বড়জোর জেল হবে ,ফাঁসি ত হবে না।এরপর ভয় দেখালো চাকরি খেয়ে দেবে।
আবারও পাত্তা না দিয়ে জবাব দিলাম– তোমরা চাইলে চাকরি আমি আজই ছেড়ে দেব। আমি সুস্থ সমর্থ পুরুষ। বিয়ে করেছি, বৌকে খাওয়াবার যোগ্যতাও রাখি।…
—ভাবি কিছু বলেন নাই? মানে মতামত দেন নাই?
— হাহ! তিনি রুমের মধ্যে বসে অঝোরে কেঁদে আমাকে উদ্ধার করেছেন। সাথে থ্রেট দিয়ে চলেছেন– ফিরে যেতে হলে গলায় দড়ি দেব। আবার কখনও বলছেন– তুমি ওদের কাছে আমাকে না দিয়ে বরং মেরে ফেল। তবু ওদের কথা আমি মেনে নিতে পারব না।
আমি শেষ পর্যন্ত সবাইকে বলে দিলাম— আমরা কি প্রেম করে বিয়ে করেছি? তোমরা/আপ্নারা আপনাদের স্বার্থে আমাদের অবুঝ বয়সে বিয়ে দিয়ে পুতুল খেলা খেলেছেন। আজ আপনাদের স্বার্থেই আবার আমাদের নিয়ে খেলছেন। আমরা কি গরু আর দড়ি– যে আপনাদের ইচ্ছাতে কাউকে বেধে নিলাম আবার ইচ্ছা হল ছেড়ে দিলাম। আমি আমার বৌকে কারও হাতে দেব না। যা পারেন করেন। আমার অনমনীয়তা য় তারা বিফল হয়ে ফিরে গেল।বাড়িতে শাশুড়ি অবশ্য মামলা করতে চেয়েছিলেন, শ্বশুর করতে দেন নাই। তিনি বুঝে নিলেন, যে অধিকার তারাই আমাকে দিয়েছেন তা আর ফিরিয়ে নিতে পারবেন না।
— এরপরেও তারা অপেক্ষায় ছিলেন আমি তাদের হাতে তাদের মেয়ে কে তুলে দেব। বিশেষ করে আমার ছুটি শেষ হলে।
কিন্তু আমি আমার ছুটি শেষ হলেও ওকে পাঠাইনাই। সত্যি বললে, সে সময় টা আরও জটিল ছিল। ওকে লুকিয়ে রাখা , আবার যত্নে রাখা…!
কখনো একবন্ধুর বাড়িতে কখনো আরেক বন্ধুর আত্মীয়ের বাসায়।আবার কখনও ছুটি নিয়ে ঘুরে বেড়াই দু’জনে। এভাবে ছয় মাস কাটলে আমার বিয়ের পার্মিশন পেয়ে গেলাম। এখন আর ঠেকায় কে? আমার পোস্টিং তখন কুমিল্লা। সেখানে নিয়ে গেলাম। বাসায় নেবার দুই মাস পর বাড়ি থেকে চিঠি পেলাম। আব্বা লিখেছে। বাড়িতে বৌ নিয়ে যাবার জন্য। বললাম– ছুটি পেলেই যাব। এখন ছুটি পাচ্ছি না। আসলে ভয় তখনও কাটেনি। এরও প্রায় ছয়মাস পর শ্বশুর-শাশুড়ি চিঠি দিয়ে জানালেন , তাদের একমাত্র মেয়ে এভাবে বিয়ে হতে পারে না। তারা আত্মীয় স্বজন খাইয়ে তুলে দিতে চান। সেটাও একই অযুহাত দিয়ে সরিয়ে দিলাম।আরও প্রায় ছয়মাস পর বাড়িতে গেলাম। ততদিনে বাড়ির পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে গেছে। দু’বছর পর আমাদের প্রথম বাচ্চাটার জন্ম হল।ও অবশ্য তখন মায়ের কাছেই ছিল। নাতীর জন্মের পর আমার শ্বশুর অনেক বড় অনুষ্ঠান করলেন। মেয়ে বিয়ে দিতে না পারার আক্ষেপ ঘুচালেন। আমার বাবাও বেয়াই বাড়িতে আত্মীয়স্বজন খাওয়ানোর সুযোগ পেলেন।
…..এরপর সব কিছু এক্কেবারেই স্বাভাবিক হয়ে গেল। আমার শাশুড়ি এখন আমাকে অনেক ভালবাসেন, যতটা তার একমাত্র মেয়ে-জামাইয়ের পাওনা। আমিও তাকে শ্রদ্ধা করি….!
সেনাবাহিনীতে ত কম বয়সেই রিটায়ারমেন্টে চলে যেতে হয়।আমার চাকরি শেষ করে বছর খানিক কিছুই করি নাই।এরপর আবার ঢাকায় চলে আসি। তখন বাচ্চা আর বাচ্চাদের মা আমার শাশুড়ির কাছেই ছিল। …. এক বছর পর আবার এখানে বাসা নিলাম। তাও হয়ে গেল কয়েক বছর।
…. এই ছিল আমার ডাকাতির গল্প।তাই ও যখন আমাকে ডাকাত বলে –আমার মনে বরং গর্ব হয়! হ্যাঁ, নিজের সম্পদ প্রয়োজনে ডাকাতি করে আনবার মত সাহস আমার আছে।তাই হাসি। হা হা হা …..
মারুফ ভাই এর ডাকাতির গল্প শুনে মনে পড়ছে আমাদের অবিভক্ত ভারতের মূল্যবান রত্ন কোহিনূর এর কথা, যা তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার নিয়ে গিয়েছিল। আমরা উপমহাদেশীয় রা যাকে “রাজকীয় ” “চুরি বা ডাকাতি” বলি।…এই রাজকীয় ডাকাতি না হলে কোহিনূর তার জমজ বোন দরিয়া-ই-নূর এর মত বাংলাদেশের সদরঘাট সোনালী ব্যাংকের ভল্টের মত অন্ধকার কুঠুরিতে আবদ্ধ থাকত। যার কথা সাধারন মানুষ ভুলেই যেত।… কিংবা পাকিস্তানের কোন সিন্ধুকে কিংবা বড় জোর ভারতের কোন জাদুঘরে পাব্লিকের জন্য উন্মুক্ত থাকত যা আসলে ১০% লোক ও দেখত না বা জানত না।…. অথচ ব্রিটিশ রা এই কোহিনূর কে তাদের রানীর মুকুটে স্থান দিয়েছে….!
দ্বিতীয় বার বিয়ে হয়ে সায়মা কার কাছে যেত, সে কেমন আদরে রাখত সে ভাবনা আজ অবান্তর, কিন্তু ডাকাতি হয়ে ডাকাত মারুফ ভাইয়ের মনের মুকুটে সায়মা যে অবস্থানে আছে, তা সব মেয়ের জন্যই বড় আকাঙ্খা র….! আমার ধারনা এই জায়গাটা পেতে সবাই ই এমন ডাকাতের হাতে নিঃস্ব হতে চাইবে….

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

১১ Comments

  1. আফরোজা আক্তার ইতি

    আপনি ভালোবাসার গল্পগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলেন, গল্পটা একেবারে মন ছুঁয়ে গেছে। বিশেষ করে, “আরে আমি কি কাপুরুষ নাকি, নিজের বৌকে ছেড়ে অন্য মেয়ের পিছু নিব?” কথাটা অনেক ভালো লেগেছে। সমগ্র গল্পেই তাদের গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। অনেক টাইপিং মিস্টেক হয়েছে-
    প্রতিবেশী রা- প্রতিবেশীরা
    বংশ গোত্রে- বংশ-গোত্রে (এখানে দু’টি শব্দের মাঝখানে হাইফেন হবে।)
    বল্ল- বলল।
    বলেন ত- বলেন তো।
    মানে কি,- মানে কি! কমার পরিবর্তে বিষ্ময়বোধক চিহ্ন হবে।
    এস,এস,সি, আই,এ, বি,এ, এগুলো এস.এস.সি. আই.এ. বি.এ. হবে।
    উলটা – উল্টা।
    এম্নিতেই- এমনিতেই। তদ্রুপ, জানতাম,ফেললেন, সামনে হবে।
    রূমে- রুমে।
    হাটা- হাঁটা।
    “পরিস্থিতি পাচার করার জন্য”এর পরিবর্তে সম্ভবত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য হবে।
    শুভ কামনা রইল আপু।

    Reply
    • নন্দিত নন্দিনী

      পরিস্থিতি পাচার বলতে খবর পৌঁছানো বুঝাচ্ছি। যে সময়ের কথা এসেছে তখন মোবাইল ছিল না। কাজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তা পৌঁছে দেয়া বুঝাতে চেয়েছি।

      আমি গল্প বলার ব্যাপারে শতভাগ আন্তরিক, টাইপিং এর ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে একটু কম আছি। ইনশা আল্লাহ চেষ্টা থাকবে সব গুছিয়ে নেবার।
      গল্প পড়া এবং গঠনমূলক সমালোচনার জন্য ধন্যবাদ।

      Reply
  2. আফরোজা আক্তার ইতি

    আপনি ভালোবাসার গল্পগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলেন, এই গল্পটাও মন ছুঁয়ে গেছে। বিশেষ করে “আরে, আমি কি কাপুরুষ নাকি, নিজের বৌকে ছেড়ে অন্য মেয়ের দিকে নজর দিব?” এই কথা ভালো লেগেছে। দুজনের প্রতি দু’জনের গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে সমগ্র গল্পেই। কিছু টাইপিং মিস্টেক আছে।
    প্রতিবেশী রা- প্রতিবেশীরারা
    বংশ গোত্রে- বংশ-গোত্রে। এখানে দুইটি শব্দের মাঝে হাইফেন বসবে।
    বলেন ত- বলেন তো।
    মানে কি, – মানে কি! কমার পরিবর্তে বিষ্ময়বোধক চিহ্ন হবে।
    এস,এস,সি, আই,এ, বি,এ, এগুলো এস.এস.সি. আই.এ. বি.এ. হবে।
    বললেন, উল্টা, এমনিতেই, জানতাম, ফেললেন, সামনে হবে।
    রূমে- রুমে।
    “পরিস্থিতি পাচার করার জন্য” এর পরিবর্তে “পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য” হবে।
    শুভ কামনা রইল আপু।

    Reply
  3. হুমায়ুন রাসেল

    আপনার গল্পগুলোতে একটা শিক্ষণীয় ইঙ্গিত থাকে

    Reply
  4. Humaun Rasel

    আপনার গল্পে শিক্ষণীয় ইঙ্গিত থাকে

    Reply
  5. নন্দিত নন্দিনী

    ধন্যবাদ পড়ার জন্য। টাইপিং মিস্টেক কমাতে চেষ্টা করব।

    কথাটা পরিস্থিতি পাচার ই বলেছি। এখানে পাচার মানে খবর পৌঁছানো। কারন যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখন ফোন ছিল না। বন্ধু যেন সব জেনে মারুফ কে জানাতে পারে এজন্য ই তাকে রেখে যাওয়া হয়েছে।… এটা বোঝাতে চেয়েছি।

    Reply
  6. Anamika Rimjhim

    ভুল গুলোতো একজন ধরিয়ে দিয়েছে।দেখে নিবেন আপু।ম্যাসেজটা দারুন লেগেছে। ভালবাসা এমনই 🙂
    শুভ কামনা রইল।

    Reply
  7. Halima tus sadia

    ভালো লাগলো।রুমান্টিক গল্প।
    মারুফের সাহস আছে বটে।বৌ’কে ডাকাতি করছে।
    যেহেতু ছোটকালে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে সায়মার মা এমনটা না করলেও পারতেন।সায়মাকে তাহলে কেউ আর বলতো না আবার বিয়ে হবে।কথাটা শুনতে কেমন জানি বিশ্রী লাগে।

    প্রতিবেশী রা–প্রতিবেশীরা
    বংশ গোত্র–(বংশ -গোত্র)
    ফেল্লেন–ফেললেন
    এম্নিতেই–এমনিতেই
    জান্তাম–জানতাম

    বল্লেন–বললেন
    তিন টা–তিনটা
    এবার ত–এবারতো
    শ্বশুর–শ্বশুড়
    জান্ত–জানত
    উলটা–উল্টা
    দৌড়েঁ–দৌড়ে
    দশ টা–দশটা
    এতক্ষনে –এতক্ষণে
    অনমনীয়তা য়–অনমনীয়তায়
    ততক্ষনে–ততক্ষণে
    উপমহাদেশীয় রা -উপমহাদেশীয়রা
    ব্রিটিশ রা–ব্রিটিশরা
    এস,এস,সি–এস.এস.সি
    আই,এ–আই.এ
    বি,এ—বি.এ

    ও আর ফ্রি কোথাও যায় না—কথাটা হবে ফ্রি হলে কোথাও যায় না।

    বানানের প্রতি যত্নশীল হবেন।
    অনেক বানান ভুল।
    অনেক জায়গায় বিরাম চিহ্ন সঠিক স্থানে দেন নাই।
    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  8. জুয়েল ইসলাম

    সাদিয়া ও ইতি আপু ভুলগুলো তুলে ধরেছে।তাই আমি আর কিছু না বলি। তবে আপনি বললেন,করলেন, চললেন, বললো,করলো,চললো এমন শব্দগুলোতে ভুল বেশি করেছেন।এই শব্দগুলোতে লক্ষ্য রাখবেন আশা করি।গল্পটা ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ

    Reply
  9. Sajjad alam

    এত পরিমাণ বানান ভুল যে, হাঁপিয়ে গেছি। তবুও কিছু ধরিয়ে দিলাম,
    কয়েক টি___ কয়েকটি
    প্রতিবেশী রা___ প্রতিবেশীরা
    অাপন জন___ অাপনজন
    কোন রকমে____কোনরকমে
    .
    সায়মা ভাবি একটু বাঁকা চোখে বল্লেন— (ভাবী, বললেন)
    .
    —কি ব্যাপার খুলে বলেন ত।___ কী
    .
    ভাই কে___ ভাইকে
    .
    তা কি আর জনে জনে বলা যায়?___ কী
    .
    কি হয়েছিলো___কী
    .
    উৎকন্ঠা____ উৎকণ্ঠা
    এস,এস,সি___ এস.এস.সি
    উলটা___ উল্টো
    বিষয় টা___ বিষয়টা
    আই,এ___আই.এ
    বি,এ___বি.এ
    .
    সেনাবাহিনী তে___সেনাবাহিনীতে
    অাগ্নেয়গিরি কে___অাগ্নেয়গিরিকে
    মাথামুন্ডু___ মাথামুণ্ডু
    ব্যাপার টা___ ব্যাপারটা
    এতক্ষন___ এতক্ষণ
    .
    জান্তাম___ জানতাম
    কারন___ কারণ
    সম্বন্ধ ও___ সম্মন্ধও
    শব্দ টা___ শব্দটা
    পর পর___ পরপর
    ফেল্লেন___ ফেললেন
    সাম্নে___ সামনে
    .
    আসলে পুতুল খেলার মত ছিল।___ মতো (মত অর্থ অালাদা)
    .
    বান্ধুবী দের___ বান্ধুবীদের
    অামিত___ অামি তো
    বল্ল___ বললো
    চিঠি টা___ চিঠিটা
    .
    সাত জনে___ সাতজনে
    যাই হোক___ যাইহোক
    বেধেঁ____ বেঁধে
    দৌড়েঁ____ দৌড়ে
    হাটা____ হাঁটা
    দশ টা___ দশটা
    পিস্তল টা___ পিস্তলটা
    ততক্ষনে____ ততক্ষণে
    তিন টা___ তিনটা
    .
    অাপ্নারা____ আপনারা
    বাচঁব___ বাঁচব
    এতক্ষনে___ এতক্ষণে
    অস্ত্র গুলো___ অস্ত্রগুলো
    ধারনা___ ধারণা
    .
    .
    গল্পে রসকস থাকলেও ভুলের মধ্যে তার অাকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে।
    নামকরণটা নিয়ে অারেকটু ভাবতে পারতেন।
    গল্পটা এমন না হয়ে শিক্ষণীয় হলে বেশি ভালো হতো।
    শেষটা একটু ভালো লেগেছে।

    Reply
  10. Mahbub Alom

    হাস্য রসাত্মক এক গল্প।অল্প বয়সে বিয়ে।স্ত্রীর উপর অধিকারের সময় আসলে অধিকার না পাওয়া।শেষ পর্যন্ত ডাকাতি!
    গল্পটা একটু ভিন্ন রকম লেগেছে।যা রোজ রোজ পড়া হয়না।
    বানানে অনেক ভুল আছে।সম্ভবত লেখক লিখেই পাঠিয়ে দিয়েছেন।গল্পটা আরেকবার পড়ে ঠিকঠাক করে পাঠানো উচিৎ ছিলো।এত্ত ভুল গল্প পড়ায় মনোযোগ কেড়ে নেয়।

    ধন্যবাদ

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *