চোখের তারা
প্রকাশিত: মে ২৬, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 30 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখাঃ Tamanna Akter Sath
(মে – ২০১৮)
………………

-শিপু, এই শিপু ঘুম থেকে উঠ না।
-আগে তোমার মাইয়ারে কও উঠতে তারপর আমি উঠমু।
-শিপু মাইর খাবি, উঠতে বলছিনা। ????????রিফা অনেক রাত্রে পড়া লেখা করে ঘুমাইছে। মেয়েডার সামনে পরীক্ষা। তোর জ্বালায় ত পড়তেও পারেনা। এখন একটু ঘুমাক তুই উঠ।
-হ তোমার মাইয়াই তো পড়া লেখা করে। আর আমি তো পরি না। ওকে আজ থাইক্কা আর পড়ুম না যাও তো।
-আমি এরপর আইসা শুধু পিডামু। এই শেষ বার উঠতে বলতাছি।
-ওফফ মা তোমরা থামবা, এক্টু আগে শুইছি মাত্র তোমগো জ্বালায় ভাল্লাগেনা
আর শিফু আমারে প্লিজ বইন এক্টু ঘুমাইতে দে। তুই যা চাস তাই দিমু যা এখন উঠ।
– সত্যি দিবা তো?
-হুম দিমু এখন যা।
-একটা পাপ্পি দেই তোমারে উম্মাহ।
-পাগলি একটা।
-মা, ও মা এতক্ষন চিল্লাইয়া কই গেলা।
-মরতে গেছিলাম তোর জ্বালায়।
-মা, বেশি কথা কও। আমি তোমগো রে বেশি জ্বালাই তো। দেইখো আর বেশিদিন জ্বালাতন করমু না। যেইদিন না থাকমু অই দিন বুঝবা।
-হ বুঝমু, আয় খাবার দিচ্ছি।
-না খামু না। তোমরা খাও আমি স্কুলে গেলাম।
–শিপু বেশি বাড়াবাড়ি করবি না কিন্তু।
-বললাম না খামু না গেলাম।

-রিফা মা উঠত।
-হুম মা উঠছি।
-মা ভার্সিটি তে যাব, নাস্তা দেও।
-হুম দিচ্ছি।
-মা শিফা খাইছে?
– না খাই নাই, মেজাজ দেখাইয়া গেছে গা।
-ওহ আচ্ছা মা আমি যাই তাহ লে।
-কেন খাইয়া যা।
-মা,পাগলি টা না খেলে আমি কি খেতে পারি তুমি খেয়ে নিও।
যাচ্ছি মা।
-যা যা সবাই চইলা যা।

-মা এই মা, আমি ঘুমাইলাম তোমার মাইয়ারে কইয়ো মশারি টানাইতে।
-এই কেন রে আজ না তোর মশারি টানানোর কথা আমি টানামু কেন?
– আমি ছোট আমি টানামু কেন?
-আমি বড় দেইখা কি সব আমার করতে হবে।
-এক শর্তে টানামু।
-কি??
-এখন আমার সাথে ভাত খেতে হবে।
-তোমরা খাইছ?
-এই পাগলি তোকে ছাড়া আজ পর্যন্ত একটা চক্লেট খাইছি বল? আর আমাদের ২জন কে ছাড়া মা কখনো খেয়েছে হুম?
-না,????????????
-আমি তোমাদের খুব কস্ট দেই না আপু?
-দুর পাগলি, আয় খাব।
-এই আপু ভুলে গেছ।
-কি
-আমি যা চাই তাই দিবা।
-শিফা রিফা আয়না খেতে।
-হুম মা আসছি..বল কি চাস।
-দিবা তো?
-হুম।
-আমার একটা এন্ড্রোএড ফোন চাই।
-আচ্ছা দিব চল।
-আমার লক্ষি আপু।
-হুম ডং রেখে চল।

-মা জানো শিফা না আমার থেকে ফোন চেয়েছে।
-কিহ এতো বড় সাহস এইটুকু মেয়ে মোবাইল চায় একদম দিবিনা।
-না মা দিতে হবে।
-আমি কিছু জানিনা তোরা কি আমার কথা আর শুনিস ????????
-মা?
-কি।
-আমার তো টিউশন ফি এখনো কেও দেই নাই আর দিলেও ২০০০ হবে মাত্র। ????????
-তো আমি কি করব?
-যদি আমার বিয়ের গহনা থেকে গলার হার টা দিতা।
-কিহ থাপ্পড় চিনিস? তোর বাবা মারা যাওয়ার সময় এই একটা গহনা মাত্র আমাকে দিয়ে গেছে আর তুই?? না আমার পক্ষে সম্ভব না।
-মা দেও না প্লিজ আমি পড়ে গহনা গড়ে দিব।
মা।
-নাহ মা দিবে না। কি যে করি…

-রিফা ঘরে বাজার নেই, টিউশন ফি দিলে মা যদি বাজার টা আন্তি
হুম মা আনব…

-হ্যালো এটা কি রিফাদের বাসা?
-হুম কে বলছেন?
-আমি হস্পিটাল থেকে বলছি। আপ্নারা প্লিজ তাড়াতাড়ি আসুন।
-মা ও মা মা গো
-কি হইছে চিল্লাছিস কেন?
– মা আপুরর কি যেন হইছে হস্পিটাল কেন জানি যেতে হবে।
-আল্লাহ রে আমার মেয়েডার কি হইছে। অ রিফা রে
– মা প্লিজ আগে চলল।

ডক্টর!
হুম আসুন এত দেরি করলেন কেন?
-কি হইছে ডক্টর?
-রিফা কি আপনার বোন হয়?
-হুম।
-এই মেয়েটা ঘন্টা খানেক আগে আমাদের ব্লাড ব্যাংকে রক্ত বিক্রি করে গেল বোনের জন্য মোবাইল আর ঘরের বাজার নিবে বলে।
আর হঠাৎ এই মেয়েটা হস্পিটালের সামনে বাজে ভাবে এক্সিডেন্ট হইছে।
তার মিত্যুর আগে বলেছে তার বোন তার চোখের তারত; তার কাছে যেন এই মোবাইল টা পৌঁছে দেই।
আর বাজারগুলা পরে নস্ট হয়ে গেছে।

আল্লাহ গো আমার মেয়েটার কি হলো!
আমি বাজার চাই না।
আমি না খেয়ে থাকব আমার মেয়ে কে ফিরিয়ে দেও????????????
(মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে)
আপু আমি আর দুস্টমি করব না। আমি আর তোকে জ্বালাতন করব না প্রমিস।
আপু আমার মোবাইল চাইনা। এই আপু
আমি তো তোমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা তুমি গেলা কেন? আপু আমি কাঁদতে পারছিনা। এই আপু আমার কস্ট হচ্ছে আপু তুমি তো আমার চোখের তারা। আপু! এই আপু!
তুমি না আমাকে ছাড়া খেতে পার না?
আপু আমাকে ছাড়া তুমি থাকবে কি করে? আপু আমাকে আর খাওয়াবে না।
আপু মা তোমাকে ছাড়া কিভাবে থাকবে?
আপু মা তো তোমাকে খুব ভালবাসে।
আপু আমি আর দুষ্টুমি করব না, ফিরে এস আমি আর তুমি একসাথে থাকব।
এই আপুঅঅঅঅ।
(শিফা এরপর থেকে আর কারো সাথে কথা বলেনি শুধু রিফার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলে কখনো হাসে আবার কাঁদে। তবে সে খুব লক্ষি হয়ে গেছে আর দুষ্টুমি করেনা।
(চিরকাল বেঁচে থাকুক ২ বোনের ভালবাসা)

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *