বডিগার্ড
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮
লেখকঃ

 326 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

——গল্প :বডির্গাড……
লেখা :#রাজকুমারীর_বর
রাস্তা দিয়ে আনমনা হাঁটছি, মাথায় হাজার চিন্তা, কি করবো কিছু বুঝতে পারছি না …
কখন যে মাঝ রাস্তায় এসে পড়েছি, বুঝতেই পারি নি,
এই যে কানে শুনতে পাননি, মাঝ রাস্তায় পাগলের মতো দাঁড়িয়ে আছেন কেন? যত্তো-সব ফকিন্নি কোথাকার…
স্যরি ম্যডাম, আমার ভূল হয়েগেছে….
মেয়েটার বয়স একদম কম, মনে হয় ধনীর দুলালী, কারণ এরা রাস্তায় বেরালে ইয়া বড় গাড়ী নিয়ে বের হয়, আর রাস্তার বাকী মানুষগুলো কুকুর, বিড়াল মনে করে…
মানে মেয়েটা গাড়িতে একটু হলে ধাক্কা লাগতো, এ জন্য এতো কথা শুনতে হলো….
আমি লিয়ন, অর্নাস তৃতীয় বর্ষ থেকে পড়াশুনা বন্ধ করে দিয়েছি, বাবা মারা যাওয়ার পর আর কলেজ যাওয়া হয়নি,বাবা ছিলো আমাদের পরিবারের একমাত্র উর্পাজন ব্যক্তি,
বাবা মারা যাওয়া পর আমি পরিবারে বড় সন্তান হওয়াতে সব দায়িত্ব আমার উপর এসে পড়েছে, তাই আজ একটা কোম্পানী ইন্টারভিউ দিতে গেয়েছিলাম, কিন্তু হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরছিলাম, তখর এই অবস্থা….
.
.
যখন আব্বু বেঁচে ছিলো তখন সব আত্বীয়-স্বজন আমাদের কতো আদর করতো, কিন্তু আব্বুর মৃত্যর ছয় মাসের মধ্যে তাদের আসল রুপ বেরিয়ে আসে, প্রথম যদিও কাক্বু আমাদের সাহায্য করেছি, কিন্তু পরে চাচি আম্মার জন্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নি,
…আমাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে, চাকুরী আসায় বসে না থেকে, রিক্সা চালানো শুরু করি, বেশ কয়েকদিন রিক্সা চালানো পর অসুস্থ হয়ে পড়ি, কারণ আব্বু থাকতে আমাদের একটুও কষ্ট করতে দিতো না, সেই আমি কিনা রিক্সা চালাই…..
আমি কি বা করতে পারি, আম্মু, ছোট্ট দুই ভাই-বোনের দিকে তাকিয়ে আমি বাধ্য হলাম…
.
.
.
.
সকালে কাক্কু একটা ঠিকানা দিয়ে তাড়াহুড়া করে অফিসে চলে গেলেন, যাবার সময় ঠিকানা মতো দেখা করতে বললেন ….কথা মতো উক্ত ঠিকানা গেলাম, পাবনা শহরের শাপলা পাস্টিক মোড়, (ভালোবাসা নীড়) ..
ইয়া বড় একটা বাড়ী, দেখে মনে হচ্ছে কোনো রাজার রাজ মহল , দারোয়ান আমাকে দেখে বললো আপনি কি লিয়ন?—–জ্বী, আমি লিয়ন…
—সাহেব আপনার জন্য উপরে অপেক্ষা করছে।
(ভাবলাম, তার মানে আমি েখানে আসবো সেটা সবাই জানে)
এতো বড় বাড়ী, কিন্তু একদম ফাকাঁ, বাড়ীতে কেউ নেই….
আমি আনোয়ার সাহেবে সামনে দাড়িয়ে আসি(বাড়ীর মালিক), ভদ্র লোকের, বয়স বেশি হলেও বুঝা বড় দায়, আমার আব্বু বলেছিলো, ভদ্র লোকের বয়স বৃদ্ধি হয় না,, যতো তাড়াতড়ি গরীবের হয়….
.—-তোমার নাম লিয়ন?
—জ্বী, আমি লিয়ন …
—তোমাকে কি কাজ করতো হবো জানো?
—জ্বী না….
—তোমাকে আমার ছোট্ট মেয়ের দেখাশুনা করতে হবে।
(আমি ভাবলাম ছোট্ট বাচ্চাদের কিভাবে দেখা-শুনা করবো, এটা তো বুয়ার কাজ,কিন্তু এখন আমার টাকা প্রয়োজন, যে কোনো কাজ করতে আমি প্রুস্তুত)
–কি লিয়ন পারবো তো?(আনোয়ার সাহেব)
–জ্বী পারবো,
–চলো, আমার মেয়ের সাথে, পরিচয় করিয়ে দেয়,
—জ্বী চলুন,
—লিয়ন, এটা হলো আমার মেয়ে আনিলা ফেরদৌস আনোয়ার..
(যা ভাবছিলা তা নয়, এটা একটা যুবতী মেয়ে, একে আমি কি দেখাশুনা করবো)
–আসর্সালামু-আলাইকুম ম্যডাম
–ওয়াইকুম, ওয়াইকুম(আনিলা)
–ওতো অভদ্র কেন, সালামের উওরটা সঠিকভাবে দিতো পারো না?(আনোয়ার সাহেব)
আনোয়ার সাহেবকে উদ্দেশ্য করে, আব্বু তুমি এই ক্ষেত ছেলেটা আমার বডির্গাড হিসেবে নিয়োগ দিয়োছো, আমি এই ক্ষ্যাত ছেলেটাকে নিয়ে কিভাবে বন্ধুদের সাথে ঘুড়তে যাবো? (আনিলা)
বলেই রেগে রুমে চলে গেল,
এতোক্ষনে আমি বুজলাম আমার কাজটা কি, একটা রমনীর পেছনে সারাক্ষণ আঠার মতো লেগে থাকতে হবে।
—বাবা, লিয়ন, তুমি ওর কোথা কিছু মনো করো না, ও এমনি একটু রাগী স্বভাবে, তাছাড়া মনটা অনেক নরম, (আনোয়ার সাহেব)
— জ্বী না, আমি ওনার কথা কিছু মনে করি নাই,
—ওকে, গুড বয়
শুনো, আমার দুইটা মেয়ে, বড়টা বিদেশে পড়তে গেছে, আনিলা হলো ছোট্ট, এই নাও দশ হাজার টাকা, এই টাকা দিয়ে ভালো কিছু পোশাক কিনবো এবং বাকী টাকাটা বাসায় দিয়ো আসবো, তোমাকে মাসে বেতন বিশ হাজার টাকা দেওয়া হবে,
–জ্বি আচ্ছা,
—কাল থেকে তুমি তোমার কাজে লেগে পড়বো, বাসা থেকে আজ বিদায় নিয়ো আসবে…..
.
,।
.
আনোয়ার সাহেবের কথা মতো রবিউল মার্কেট থেকে কিছু দামি পোশাক কিনে নিলাম এবং বাসায় এসে বাকী টাকা আম্মু হাতে তুলে দিলাম,। সবার জন্য কিছু পোশাকও নিয়ে এসেছি, সাথে বাজারও, অনেকদিন ভালো-মন্দ খাওয়া হয়নি,
ভালো খাবার এবং নতুন পোশাক দেখে ছোট্ট ভাইবোন খুশিতে আত্তহারা……
এই খুশি ফিরিয়ে আনার জন্যই আমার সকল প্রচেষ্টা,এদের জন্য আমি সব কিছু করতে পারি…..
.
.
সকাল আট বাজে, এই সময় কাশিনাথপুর থেকে রাজশাহী উদ্দেশ্য গাড়ি যায়, আমার উদ্দেশ্য আপাত্ত পাবনা আনোয়ার সাহেবের বাসা ভালোবাসার নীড়,
এক ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম…
আনোয়ার সাহেবে বাগানে বসে পেপার পড়ছে, আজ পেপারের বড় করে একটা খবর ছাপা হয়েছে, দুবৃত্তদের হাতে কলেজ ছাত্রী খুন…
কারণ গাড়িতে আসার সময় খবরটা আমি পড়েছি..
—জানো লিয়ন, বড় মেয়ে বিদেশে যাওয়ায় আমার দুচিন্তাটা বেড়ে গেছে, অানিলাকে নিয়ে,বড় মেয়ে আনিলাকে দেখেশুনে রাখতো, খবরের কাগজে এসব দেখলে খুব চিন্তা হয়, তাই আনিলার দেখা শুনা করার জন্য তোমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে (আনোয়ার সাহেব)
—জ্বি, আমার উপর ভরসা রাখতে পারেন।
–তোমার চাচা রফিক সাহেব খুব ভালো মানুষ, আমার অফিসে কাজ করে, তোমার কাজের কথা বলছিলো, তাই তোমাকে নিয়োগ দেওয়া, আশা করি তুমি তার সম্মান রাখবো….
—দোয়া করবেন…
–আনিলা ম্যডাম কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়েছে, তাই সাথে চললাম..
একি সেই গাড়ী, যে গাড়ী আমাকে ধক্কা দিয়েছিলো, তাহলে সেদিন কি আনিলা ম্যডাম ছিলো?
হয়তো, সে চিন্তা এখন রাখী….
—গাড়ী চলছে তার আপন গতিতে, ম্যডাম পেছনে বসে আছে, আমি ড্রাইভারে সাথে, কেমন জানি খুব ঘুম পাচ্ছে, এসি গাড়ীতে কিভাবে যে এরা থাকে বুঝতে পারি না…
…আনোয়ার সাহেব বলেছে ম্যডাম এর্ডওয়াড কলেজে পড়ে, কিন্তু ম্যডাম গাড়ী শহরের বাহিরে নিয়ে যেতো বললে …তার মানে ম্যডাম কলেজ করবে না.
(বড়লোক মেয়েদের কলেজ ফাঁকি একটা স্বভাবে পরণতি হয়েছ)
–গাড়ী আমাদের কাশিনাথপুর রোডের দিকে টার্ন করেছে,
—-লিয়ন, তুমি আমার জন্য পানী নিয়ে আসো (আনিলা ম্যডাম)
—জ্বী ম্যডাম …
(এক বোতল পানী কিনে ম্যডামকে দিলাম)
–পানী এনে, বসতে যাবো, তখন ম্যডাম বললো, এরপর থেকে তুমি ড্রাইভারে সাথে বসবে না, আমার পাশে বসবে…
—জ্বী, ম্যডাম (আমি)
আমরা পাবনা শহর থেকে বেরিয়ে এসেছি, একবার চিন্তা করলাম, ম্যডামকে জিজ্ঞাস করি কোথায় যাচ্ছি, কিন্তু সাহস হলো না, যদি কিছু মনে করে…..
.
–গাড়ী আতাইকুলা বাজারে পাশে দাঁড় করিয়ে, ম্যডাম কারো সাথে দেখা করতে গেলো স্কয়ার মার্কেটে, আমি সাথে যাইতে চাইছিলাম, কিন্তু বারণ করায় যাওয়া হলো না….
.
.
.
.
প্রায় অাধ ঘন্টা পর, ম্যডাম বের হলেন
কিন্তু ম্যাডামের চোখে-মুখে অস্থির ছাঁপ ..
মনে হয় অনেক কান্না করেছে, সুন্দর ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে….
—লিয়ন, ড্রাইভার কই?(আনিলা ম্যডাম)
ম্যডাম, ড্রাইভার সাহেব একটু পাশে গেছে, অবশ্য আমাকে বলে গেছে, এক্ষুনি চলে আসবে, (আমি)
–তুমি কি মালিক, যে তোমাকে বলে যাবে?একটু সুন্দর করে কথা বলেছি, পাশে বসতে দিয়েছি বলে মাথায় উঠো না(ম্যডাম)..
এর মধ্যে ড্রাইভার কফিল সাহেব চলে এসেছে,
—-ঠার্স, ঠার্স ঠার্স
বুজতে পারলাম, ম্যডাম ড্রাইভার সাহেবকে থাপ্পর মেরেছে…
–কফিল সাহেব, তার কোনো প্রতিবাদ না করে, আস্তে করে গাড়ী বের করে রওনা হলেন…
কফিল সাহেবের বয়সটা নেহাত কম না,তারপরেও ম্যডাম তাকে থাপ্পর মারলো…
বৃদ্ধ লোকের জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমার প্রতিবাদ করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, মানুষের সময়ের সাথে সাথে রুচি, পছন্দ, অাচ্যরণ সব কিছু পাল্টে যায়…
.
.
.
কফিল সাহেবের সব রুটিন মনে হয় মখুস্থ, গাড়ী কোথায় যাবো, কিছু বলতে হচ্ছে না..
এখন ম্যডাম একটা ফার্মেসী সামনে দাড়াঁতে বললেন,
—কি যেন একটা নিয়ে আসলেন, যদিও ম্যডামকে বলেছিলাম, কি লাগবে আমাকে বলুন, আমি এনে দেই,
–কিন্তু তার কঠোর নির্দেশ, তার হুকুম ছাঁড়া বাড়তি কিছু না করতো….
–সেদিন ম্যডাম বাসায় চলে আসতে বললো…
.
.
বাসায় আসার পর ম্যডামকে দেখতে পায়নি, মানে রুমে ডুকার পর আর বের হয়নি,…
ম্যাডামেরর সাথে সারাদিন ঘুড়ার পর আমিও একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, তাই বিছানায় শুতেই ঘুমিয়ে পড়েছি.তাছাড়া এমন বিছানায় সবাই অল্পতে ঘুমিয়ে পড়বে…
.
রাত বরোটা..
মাঝ রাতে আমার চাঁদ দেখার পুরানো অভ্যাস, আজ তার ব্যতিক্রম হলো না, তাছাড়া আজ জোংস্ন্যা উঠেছে..
মজার ব্যাপার হলো, চাঁদ দেখার জন্য ফোনে এলার্ম দেওয়া থাকে আমার…
.
হঠাৎ খেয়াল করলাম, কফিল সাহেব গাড়ী নিয়ে বাসায় ডুকছে, দেখে একটু রহ্যস্য মনে হলো, তাই তার পিছু নিলাম..
একি কফিল সাহেব হাতে কিছু একটা কালো-কাপড়ে পেচিঁয়ে আনিলা ম্যডামের রুমে ডুকছে…
তাহলে কি আনিলা ম্যডামকে দুপুরে কফিল সাহেবকে শাস্তি দেওয়ার জন্য, এখন অস্ত্র দিয়ে তাকে খুন করার প্ল্যান করছে?
.
কিন্তু না..
আমার সব খারাপ চিন্তা দূর হয়ে গেল,
এটাতো দেশি মদ? এটা এখানে কেন?
ম্যডাম আমাকে দেখতে পেয়েছে….
লিয়ন, তুমি এখানে কেন?
—না মানে ম্যডাম, এমনি …
(ড্রাইভার সাহেব ইতিমধ্যে এখান থেকে কেটে পড়েছে)
—ওকে, আমার রুমে এসে
–না ম্যডাম, ধন্যবাদ,
—ে এসো বলছি,আমার কথা না শুনলে কাল, আব্বুকে বলে তোমাকে বিদায় করে দিবো..
–*চাকুরী হারানোর ভয় ম্যডামেরর রুমে প্রেবেশ করলাম….
.মদ গ্লাসে দেওয়া সময় ম্যডাম বললো,
—জানো, লিয়ন, দুপুরে কফিল সাহেবের সাথে খুব অন্যায় করেছি, ওমনটা করা আমার উচিত হয়নি,আসলে তখন রকির সাথে ঝগড়া করে বের হয়েছি, মাথাটা অনেক গরম ছিলে, তাই এমনটা হয়ে গেছে, অবশ্য এখন কফিল চাচাকে স্যরি বলেছি, সাথে কিছু….
তাতেই সে খুশি….
—ম্যডাম একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
—হ্যাঁ বলো
–রকি কে?
–ও অাচ্ছা, তোমাকে বলা হয়নি, রকি আমার বফ, তার সাথে আমার তিন বছরের রিলেশন, আজ তার সাথে ব্রেকআপ হয়ে গেছে, আমার সব বান্ধবী ওর সম্পর্কে বাজে কথা বলতো, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না,, তবে আজ রুমির কথা মতো হাতো-নাতে ধরছি, রুমি আমাকে বলছিলো রকি অন্য কারো সাথে প্রেম করে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করেনি…
–তুমি একটা গ্লাস নাও,
–ধন্যবাদ ম্যডাম, আমার এগুলো অভ্যাস নেই..
—অভ্যাস থাকে না, অভ্যাস হয়ে যায়, আমি কিন্তু এগুলো নিয়মিত করি না, মাঝে মধ্যে আজ কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পারছি না, তাই একটু বেশি হয়ে গেছে…(অানিলা ম্যডাম)
–সত্যি বেশি হয়ে গেছে, কথা বলার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে..ঘুমিয়ে পড়েছে…
—ম্যডামকে ভালে করে শুয়ে দিয়ে, চলে আসবো তখন, ম্যডাম আমার হাত ধরে বললো ..জানো লিয়ন, কিছু কিছু কষ্ট আছে, তা থেকে চিরদিনের জন্য মুক্তি পাওয়াই ভালো…..
–ম্যডামের কথা শুনে খুব ভয় হলো, যদি রাতে খারাপ কিছু একটা করে বসে তাহলে?
–তাই রাতে আর নিজের রুমে না গিয়ে, ম্যাডামেরর রুমে থেকে গেলাম….
.
,।
,।
সকাল ছয়টা…
রাতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছি বুঝতে পারি নাই,ম্যডাম এখনো ঘুমাচ্ছে, তবে আমার বুকে উপর…
তাড়াতড়ি বুকে উপর থেকে শরীরে রেখে, নিজের রুমে চলে আসলাম,কেউ এমন অবস্থায় দেখলে খুব খারাপ কিছু ভাববে..
.
এখনো বাসার কেউ ঘুম থেকে উঠে নাই, শুধু মাত্র কাজের মেয়ে ছাড়া…
এ বাসার সকল কাজের লোক বাসাতে থাকে, কারণ ভদ্র লোক আনোয়ার সাহেব সবাইকে নিজের পরিবারের সদস্যর মতো ভালোবাসে, তাছাড়া ভদ্র লোক মানুষটি খুব ভালো….
.
.
,।
লিয়ন আজ কোথায়ও যাবো না, তোমার সাথে শুধু গল্প করবো, (আনিলা ম্যডাম)
—কেন ম্যডাম?
–তুমি জানো তোমাকে কাল আমি একটা পরীক্ষা করেছি?
–সেটা কিভাবে?
–কফিল চাচা মাধ্যমে তোমাকে বোকা বানিয়ে আমার রুমে নিয়ে আসি, যে আমার বডির্গাড হবে, সে আমাকে কতোটা সম্মান করে এবং কি চোখে দেখে তার পরীক্ষা, যখন নেশায় আসক্তি মতো আমি অজ্ঞানে হওয়ার ভ্যান করি, তুমি আমার রুমে থেকে যাও, কিন্তু সারারাত একটা নেশায় আসক্ত মেয়ে পেয়েও তুমি তার সুযোগ নাও নি, আমি বার বার তোমাকে উত্তোজিত করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তুমি নিজে অবস্থানে অটুট ছিলে, আসলে আসি কোনো প্রকার নেশা করছিলাম না, … হা হা হা
–আনিলা ম্যডাম কথাগুলো বলো হাসতে থাকে,নিজেকে অনেক বোকা মনে হচ্ছে, তাই জায়গা পরিবর্তন করলাম…
.
,।
.দুই মাস পর…
এভাবে ম্যডামেরর সাথে চলতে চলতে এক প্রকার বন্ধুত্ব হয়ে গেছে, যদিও ম্যডাম আমার থেকে ছোট্ট, ….
.
.
আজ বেশ কিছুদিন ব্যবসার কাজে বিদেশে ছিলো আনোয়ার সাহেব,
আজ সকালে দেশে ফিরেছে..
.
এই যে লিয়ন শুনো, (আনোয়ার সাহেব)
—জ্বী, আসর্সালামু আলাইকুম
—ওয়াইকুম আর্সসালাম
–ঘুম কেমন হলে?
–জ্বী ভালো
–ম্যডাম কেমন? তুমি আসার পর কথা বলা হয়নি আর..
—জ্বি, খুব ভালো…
—তোমার ম্যডাম কিন্তু একটু রাগী, মানিয়ে নিতে সম্যসা হচ্ছে না?
–জ্বী না স্যার, রাগী হলেও মানুষটা কিন্তু ভালো।
–এটা ঠিক বলেছো, আর হ্যাঁ আমাকে স্যার বলার প্রয়োজন নেই, তোমার রফিক কাক্কু আমাকে ভাই বলে ডাকে, অতত্রব তুমি আংকেল বলে ডাকতে পারো..
—জ্বি আচ্ছা
–আর ভালো কথা, তোমার রফিক কাক্কু তোমার সম্পর্কে আমাকে বলেছে, তুমি একটা শিক্ষিত ছেলো, তোমার এ কাজ মানায় না, তোমার যোগ্যতা জানার পর নিজের কাছে আপরাধী মনে হচ্ছে।তাছাড়া তোমার মধ্যে সততা, নিষ্টা, পরিশ্রম করার মানসিকতা আছে,
সেটা অানিলা আমাকে টেলিফোনে বলেছে,
–তুমি কাল থেকে আমার অফিসে জয়েন করতে পারো ম্যানেজার পোস্টে ,(আনোয়ার সাহেব)
–আপনি যা ভালো মনে করেন…
–তাহলে তোমার প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র নিয়ো আসো …
——-জ্বি —আচ্ছা.
.
,।
,।
আজ দুই মাস পর গ্রামে আসলাম, তবে খুব দ্রুত চলে যেতে হবে, অানোয়ার সাহেব বলেছে কালকের মধ্যে সব পেপার জমা দিতে হবে, মায়ের হাতে টাকা তুলে দিয়ে রওনা হলাম, ভালবাসার নীড়ের উদ্দেশ্য…
.
তবে ভালোবাসার নীড়ে গিয়ে জানতে পারলাম আনোয়ার সাহেব বাসায় নেই, পাবনা শহরে হামিদ রোড়ে আনোয়ার সাহেবের অফিসে গেলাম,
—আংকেল, আমি সমস্ত কাগজ-পত্র নিয়ে এসেছি, (আমি)
–লিয়ন, আই এম স্যরি, তোমাকে দুংখ দেওয়া জন্য,(আনোয়ার সাহেব)
–কিছু বুজলাম না?(আমি)
—আমি মনে করেছিলাম, তোমাকে চাকুরী দিলে আনিলা খুশি হবে, কিন্তু যখন এই কথা তাকে জানালাম তখন, আমার উপর কি রাগ, ঘরের দামি-সব জিনিস পত্র ভেঙ্গে একাকার,ওই চায় না তুমি চাকুরী করো…(আনোয়ার সাহেব)
—ও আচ্ছা
–কিছু মনে করো না বাবা, তেমার জন্য বাড়িতে আনিলা ওয়েট করছে যাও দেখা করো…
আমার বডির্গাড থেকে স্বপ্নের ম্যানেজার হওয়া হলো না, কতো স্বপ্ন বুনেছিলাম কিছু সময়ের মধ্যে….
মন একদম খারাপ হয়ে গেল, আসলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানের স্বপ্ন দেখাও অপরাধ, স্বপ্নটা মূহুর্তে মধ্যে মলিন হয়ে গেলো…ম্যানেজার হওয়া আমার হলো না।
.
ভালোবাসার নীড়” বাড়ীতে যেতেও ইচ্ছা করছে না,…
..আমি এখন আনিলা ম্যডামের সামনে দাড়িঁয়ে ..
—লিয়ন, তুমি আব্বুর কাছে চাকুরীর কথা বলছো কেন?তোমার সম্যসা হচ্ছে এখানে?বলে তোমার বেতন বাড়িয়ে দেই। (আনিলা ম্যডাম)
–না ম্যডাম, আমার সম্যসা হচ্ছে না, বেতন বাড়াতে হবে না, আমি যথেষ্ট বেতন পাই, আর আপনার আব্বুকে আমি চাকরীর কথা বলে নাই, ভদ্র লোক নিজ থেকে বলছে…(আমি)
—তুমি এ বিষয়ে আর কথা বলবে না,চলে এখন আমি বের হবো।
—চলুন ম্যডাম, কফিল সাহেবকে গাড়ী বের করতে বলি? …
— জ্বী না, গাড়ী তুমি চালাবে, আজ তোমার গ্রামের বাড়ী যাবো…
–ওকে ম্যডাম

গাড়ী চলছে, তার আপন গতিতে,আমরা এখন পাবনা -কাশিনাথপুর হাইওয়ে রোডে…
আনিলা ম্যডাম কিছু হয়তো চিন্তা করছে, মুখে অস্থিরতার ছাঁপ.,তাছাড়া গাড়ীতে উঠার পর কোনো কথা বলেনি এখন পর্যন্ত .
এমন সময় ম্যডামের ফোনে কল আসলো
–জ্বী আপু
-চুপ (কারণ ফোনে ওপাশের কথা আমি শুনতে পাচ্ছি না)
–ওকে আপু….
ফোন রেখে দিয়েছে ম্যডাম, লিয়ন গাড়ী ঘুড়াও *তোমাকে আজ আমার পছন্দর জায়গা নিয়ে যাবো।
–হঠাৎ কি এমন হলো যে মত পাল্টালো, মেয়েদর মন গিরগিটির মতো, ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়, এদের মন বুঝার ক্ষমতা বিধাতা পুরুষ জাতিকে দেয় নি…….
.
.
.
গাড়ীটা পাবনা শহরের বুকে চলছে, বুলবুল কলেজের পাশে জুবলীতে গাড়ী থামাতে বললো ম্যডাম।
পাবনা শহরে এই জায়গা আমারো খুব পছন্দ, মনোরম পরিবেশ,
এখানে আবার কাপল ছাঁড়া আসা নেহাত বেকামীর কাজ, জোড়ায় জোড়ায় পাখী বসে থাকে।
–লিয়ন, জায়গাটা আমার খুব পছন্দ
–জ্বী ম্যডাম, আমারও
–তুমি আমাকে ম্যডাম,ট্যডাম বলবে না, আমাকে আনিলা বলে ডাকবে।আমি তোমার অনেক ছোট্ট।
–তা সম্ভব নয় ম্যডাম..
–কেনো?
–আপনি মালিক পক্ষ, লোকে খারাপ বলবো..
–তুমি লোকের চাকরী করো, না আমার?
—আপনার
—তাহলে আমার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে…
–জ্বী ম্যডাম
—আবার ম্যডাম?
–ওকে, আনিলা
–গুড বয়
–আনিলা, সবাইকে দেখি, কিন্তু আপনার আম্মু কোথায়?তাকে দেখি নাই কোনোদিন (আমি)
–তুমি নেক্স টাইম-আম্মুর কথা বলবে না.তিনি আমাদের কাছে…..
কিছু বলতে গিয়ে বললেন না।
ম্যডামের আম্মুর কথা জিজ্ঞাস করতো কেমন যেন হয় গেল (কিছু একটা রহস্য আছে নিশ্চয়)
–লিয়ন চলো বাসায় যাবো,
–ওকে
গাড়ী আবার চলছে….
ম্যডাম আমাকে কিছু একটা বলতে চেয়েছিলো, কিন্তু ম্যডামেরর আম্মুর কথা স্বরণ করার জন্য হয়তো মুড অফ হয়ে গেছে, এজন্য বলতে পারি নি।
.
.
আমার কাজ সারাদিনে ওইটুকু, যখন ম্যডাম বাসা থেকে বের হবে, তার সঙ্গে যাওয়া,
(আমরা মতো প্রতিটা বফ, তার গফের বডির্গাড, কারণ কোথায়ও গফ বের হলে বাবা-মায়ের থেকে এক ধরণে বিশেষ চিন্তায় থাকে তার বফ, আর ডেটিংয়ের কথা নাই বললাম)
.ছয় মাস….
.
.
রাত বারোটা …
আজ আকাশটা মেঘাচ্ছন্ন, তবুও আকাশের কষ্টটার মাঝে নিজেকে খুজে পাই, নিজের আপন মানুষ দুরে থাকলে, আকাশের মেঘের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় শুনেছি, তাই আমিও তাকে খোঁজার চেষ্টা করি.
ছঁদের এক পাশে বসে নিকোটিনের কালো ধোঁয়ার সাথে কষ্ট গুলোকে উড়িয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চলছে অবিরাম।
..
কিন্তু
–মনে হচ্ছে ছাঁদের অপর পাশে কেউ কথা বলছে, কিন্তু এতো রাতে ছাঁদে কেউতো আসে না শুধু আমি ছাঁড়া…
–আগ্রহ নিয়ে সামনে পা বাড়ালাম,,,,
এতো আনিলা ম্যডাম, হয়তো বফের সাথে কথা বলছে, আমি থাকলে হয়তো বিরক্ত হবে, এজন্য চলে আসার জন্য পা বাড়ালাম, কিন্তু একটা কথা শুনে পা থমকে গেলো….
–আপু, ছেলেটা খুব হ্যান্ডসাম , তোমাকে তো বলা হয়নি শোনো, সেদিন কলেজ থেকে বাসায় ফিরছিলাম, ছেলেকে কফিল চাচা গাড়ী দিয়ে ধাক্কা দেয়, কিন্তু ছেলেটা কোনো প্রতিবাদ করে নাই, উল্ট আমি ঝারি দেই, তবুও কিছু বলেনি, চেহারার মধ্যে খুব সরলতা ও মায়া অাছে, আসলে ছেলেদের চেহারা মধ্যেও যে মায়া আছে, তা ওকে না দেখলে বুজতে পারতাম না, সিনেমায় দেখি নায়ক-নায়িকার ধাক্কা লেগে প্রেম হয়, আর আমার ভালোবাসা নায়কের সাথে গাড়ীর, আমি ওর প্রেমে পড়ছি আপু ….হা হা হা…(আনিলা ম্যডাম)
ওপাশের কথাগুলো শোনা যাচ্ছে না,
ওখানে থেকে বিভান্ত করতে চাইলাম না।
তাই আমি রুমে চলে আসলাম, তাহলে সেদিন রাস্তায় আনিলা ম্যডামেরর গাড়ী আমাকে ধাক্কা দেয়েছিলো,….
ঘুমিয়ে পড়লাম, সকাল হলে চলে যাবো, আমার জান পাখি আমার কাছে ফিরে আসবে, এখানে থাকলে আনিলার প্রেমে সাড়া দিকে হবে।
..
.
.
আব্বু লিয়ন কোথায়?সকাল থেকে লিয়নকে খুজেঁ পাচ্ছি না, আমি কলেজ যাবো।(আনিলা)
—রুমে আছে হয়তো (আনোয়ার সাহেব)
–কোথায়ও নেই, আমি সব জায়গায় খুজেঁ দেখেছি।
–তাহলে হয়তো চলে গেছে…
ছেলেটা খুব কষ্ট পেয়েছে, ম্যানেজার চাকরীটা না করে দেওয়ার পর, খুব আশা করেছিলো, তাছাড়া নতুন ম্যানেজার ছয় মাসে প্রচুর টাকার হিসাব গর-মিল করেছে।(আনোয়ার সাহেব)
—আনিলা ভাবছে, রাতে যখন আপুর সাথে কথা বলছিলাম,তখন ছাঁদে কারো আওয়াজ অনুভব করেছিলাম, তখন লিয়ন ছিলো নাকী? ও কথাগুলো শুনলো কি ভাববে।
–অাফা মনি, লিয়ন বাবাজি সকালে তার গ্রামের বাড়ী চলে গেছে, আর বলে গেছে চাকরী সে করবে না। (কফিল চাচা)
….কথাটা শুনার পর কফিল চাচাকে রেখে একাই গাড়ী নিয়ে রওনা হয় লিয়নো বাসার উদ্দেশ্য,কিছুক্ষণের মধ্যে
কাশিনাথপুর লিয়নের বাড়ীতে পৌছে গেলো আনিলা….
এইতো লিয়ন দাড়িয়ে আছে…
—তুমি কাউকে কিছু না বলে চলে আসছো কেন?(আনিলা)
–ম্যডাম, আমি ওই কাজ আমি করবো না
–কিন্তু কেন?
—-আপনি যেটা আমাকে নিয়ো ভাবছেন সেটা সম্ভম নয়, আপনাদের সম্মান রক্ষা করার জন্য আমি চলে আসছি। আপনি এখন আসতে পারেন।
—— বুজছি কাল রাতে আর্ড়ি পেতে সব শুনছো।
—-হুম।
—আরে বোকা সেটা তুমি নয়, একটা ছেলে কথা বলছি, আমাদের বাড়ীর সম্মানের কথা তোমাকে ভাবতে হবে না।
–সত্যি?
—আরে বোকারাম সত্যি (চান্দু ঠেলা পড়ে বুঝবা)
—তাহলে চলুন….
.
.
.
.
এদিকে আম্মু আমার জন্য মেয়ে দেখা শুরু করে দিয়েছে আমাকে না জানিয়ে বেশ কিছু মেয়ে দেখছে আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য, এর মধ্যে একটা মেয়ে তার খুব পছন্দ হয়েছে, নাম নীলা,দেখতে নাকী বম্বে নায়িকার মতো, কিন্তু আমার জান পাখী ছাড়া আমি কাউকে বিয়ে করবো না। জান-পাখির কথা আমার আম্মুও জানে, কিন্তু আম্মু বলে আমার জান-পাখি আর নাকী ফিরবে না। পাখীর মতো উড়ে গেছে আর ফিরবে না।তবে আমার অাস্থা শতো ভাগ।.
.
.
আজ বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে, আনিলা ম্যডাম আগের মতো তেমন কথা বলে না, আগের মতো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয় না।তবে আজ একটা গুরুত্বপুর্ণ কথা বলবে বলেছে।
–লিয়ন, কাল বড় আপু আসবে,আপুকে রিসিভ করতে এয়াপোর্টে যাবো, রেডি থেকে….(আনিলা ম্যডাম)
—-জ্বী ম্যডাম …
বুজলাম এটাই তাহলে গুরুত্বপুর্ণ কথা।
.
আজ সকাল থেকে বাড়ীতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, বাড়ীর বড় মেয়ে আজ চার বছর পর বাড়ী ফিরবে।সবার মধ্যে আলাদা অনুভূতি কাজ করছে।
.
.
আমি এবং আনিলা ম্যডাম এয়াপোর্টে অপেক্ষা করছি,
আনোয়ার সাহেব আসতে পারে নাই, (বড়লোকের এটা বড় সম্যসা টাকার পিছনো দৌড়ানোর কারণে, কাছের মানুষগুলো অবহেলিত হয়,)
.
—একটা মেয়ে এয়াপোর্টের ভেতর থেকে বের হচ্ছে, মেয়েটাকে দুর থেকে খুব চেনা মনে হচ্ছে, হ্যাঁ খুব চেনা, আমার….
–ইতিমধ্যে আনিলা ম্যডাম ওই মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরেছে, বুজলাম এই আনিলার বড় আপু, কিন্তু এটাতো তুসি, আমার—-
—আপু, এই হলো লিয়ন, যার কথা তোমাকে বলছিলাম, (আনিলা)
—-এই তোর হিরো, সত্যি দেখতে খুব দারুণ, একদম হিরোদের মতো….(তুসি)
.
তুসিকে অনেক সুন্দর লাগছে, এতো বছর বিদেশে থাকলেও বিদেশিনীদের ছাঁপ লাগে নাই, মোটা ফেমের চশমা, খোলা চুলে একদম বাঙ্গালী নারীদের মতো দেখতে লাগছে।.
.
আপনার হয়তো ভাবছেন এই মেয়েকে আমি চিনি কিভাবে??
হ্যাঁ, এই সেই মেয়ে যার জন্য চার বছর অপেক্ষা করছি, যার জন্য আনিলার প্রস্তাব প্রত্যখান করে দিয়েছি, কলেজে মেয়েদর দিকে তাকায়নি.,এই আমার জান-পাখি..
.
কিন্তু এতো বছর পর দেশি ফিরছে তবুও আমাকে জানায়নি, কিন্তু কথা ছিলো দেশি ফিরে সবার প্রথম আমার সাথে দেখা করবে, কিন্তু আমার চিনলোই না….
.
গাড়ী নিয়ে আমরা এয়াপোর্ট থেকে বের হয়েছি অনেক অাগেই, এখন বঙ্গবন্ধু সেতু উপর, তাদের দু-বোনের কথা যেন শেষ হবার নয়, যতো কথা আমাকে নিয়ে, আনিলার সাথে কখন কি করেছি,কোথায় ঘুড়ছি, সব একাধারে বলছে আনিলা, তুসি শুধু শুনছে,
আমি মাঝে মধ্যে গাড়ী আয়না দিয়ে তুসিকে দেখছি, সত্যি মেয়েটা অাগের থেকে অনেক সুন্দর হয়েছে, তবে চেহারার মধ্যে মায়া এখনো আছে, চোখে কাজল দেওয়ায় বড্ড ভালো লাগছে, আচ্ছা তুসি কি এখনো বাচ্চাদের মতো বায়না ধরে?
ধুর আমি কি ভাবছি এগুলো. হয়তো তার মনেই নেই, সে আমাকে ভূলে গেছে ……
বাসায় আসার পর সোজা দু-বোন ঘরে, আমার দিকে তুসি একটু ফিরেও দেখলো না….
.
.
আম্মুর ফোন,
–বাবা, আমরা নীলাকে আংশটি পড়িয়ে এসেছি, তোর ছবি দেখে নীলার পরিবারের সবাই পছন্দ করেছে (আম্মু)
—আমি এখন বিয়ে করবো না আম্মু
–তা বললে কি হবে?সব পাকাঁ কথা দেওয়া হয়েছে গেছে।
—ফোনটা কেটে দিলাম এখন কথা বলতে ভালো লাগছে না, পাঁকা কথা বলে কিছু আছে নাকী? তুসি আমার সাথে পাঁকা কথা দিয়েছিলো, সে আমাকে ভূলে যাবে না।কিন্তু এখন চিনতেও পারে না।
.
.
রাত বারোটা
আকাশের দিকে তাকিয়ে নিকোটিনেরর সাথে মনের কষ্ট গুলো উড়িয়ে দেওয়া ব্যর্থ চেষ্টা করছি,কিন্তু ভূলতে পারছি না, বিদেশে যাওয়া আগে তুসির দেওয়া প্রতিশ্রুতি গুলো, কেন আমাকে দীর্ঘ চার বছর তার জন্য অপেক্ষা করতে বললো…..
.
.
হঠাৎ পেছনে কারো উপস্থিত অনুভব করলাম,ঘুড়ে তাকিয়ে দেখি তুসি…
তুসি, তুমি এখানে??
–কিছু না বলে অামাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো, ফুপিঁয়ে ফুপিঁয়ে কান্না করছে, আমিও তাকে আমার বুকে মাথা রাখার জায়গা করে দিলাম। তার কান্না অবিরাম চলছে……….
–আরে পাগলী তুমি কান্না করছো কেন?
—চুপ! একটা কথাও বলবো না, তোমার এতো স্যমসা হচ্ছে, তুমি আমাকে একটিবারও জানাবে না?(তুসি)
—কই আমার কোনো সম্যসা হচ্ছে না (আমি)
—চারটা বছর, তোমার মনে আছে? চারটা বছর তোমাকে ছাঁড়া একা থাকতে হয়েছে।(তুসি)
—তুমি নিজেই আমাকে একা করে চলে গেলে,এখন তুমি বলছো?আমি তোমাকে তোমাকে ছেঁড়ে যাইনি।.
.
.
(এভাবে চলছে, অনেক বছরের না বলা সব মনের কথা গুলো)
আপনারা হয়তো ভাবছেন, এই মেয়েটা গল্পে নতুন চরিত্র হলো কিভাবে?
তাহলে শুনোন..
এই মেয়ে হলো আমার জান -পাখী, আপাদের কাছে নতুন হলোও, আমার চির-চেনা সঙ্গী।.
শুনুন…….
চার বছর পূর্বে?.
.আমি কলেজের ক্লাস করে বের হচ্ছিলাম, তখন একটা মেয়ের কন্ঠ ঘুড়ে তাকালাম, আমি কলেজের কোনো মেয়ের সাথে কথা বলি না, তাই কোনো মেয়ে ডাকার প্রশ্নই আসে না।.
.
এই যেন শুনছেন, (অপরিচিত একটা মেয়ে)
–জ্বী, আমাকে বলছেন?(আমি)
–হ্যাঁ,তোমাকে বলছি, তুমি লিয়ন হলে তোমাকেই বলছি.আশে-পাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না তো।
–জ্বী বলুন
–আমি তোমাকে ভালোবাসি(মেয়েটা)
–মানে কি? আর আপনি কে?
–আমি তুসি, আর আমি তোমাকে ভালোবাসি মানে ভালোবাসি,, আর তোমাকেও আমাকে ভালোবাসতে হবে,
–বালতির মুল্লুক নাকী?
—বালতি মুল্লুক, মগের মুল্লুক, বদনার মুল্লুক, সব মুল্লুক তোমার কোনো স্যমসা?
—-জ্বি স্যমসা (এই মেয়েটা দেখছি বাংলাদেশের সব অপারেটর নের্টওয়াক থেকে ফাস্ট, একদম 5G)
–কোন সম্যসা বলো, তোমার গফ আছে?থাকলে ব্রেকআপ করে দাও।
–আমিও পুরাই তাজ্জিব, মেয়েটা বলে কি..!!
–হুম আমি বলি না করি, চলো আমার সাথে, তা না হলে ইভর্টিজিং এর মামলা দিবো। (তুসি)
— মামলা “এই জিনিসট খুব ভয় পাই, আমার আব্বু যে রাগি “আমাকে মেরেই ফেলবে।
তাই মামলার ভয়ে, সেদিন তুসির সাথে ঘুড়তে গেলাম…
.
.
তারপর থেকে মেয়েটা আমার পিছনো আঠার মতো লেগে ছিলো, কিছু না করলেই মামলার ভয়,
(কেউ যখন কারো দূর্বল পয়েন্ট ধরতে পারে, তাহলে বার বার সেটাতে আঘাত করবে।)
আমি এতো বড় হিরো না যে, মেয়েটার পবিত্র ভালোবাসা প্রত্যখান করবো, আমার জন্য বলতে গেছে পুরা পাগল, টানা টানা হরিণির মতো চোখে যখন কাজল পড়তো, তখন অসম্ভ সুন্দর লাগতো মেয়েটাকে, সাথে ফ্রি ছিলো খায়রোন সুন্দরীর চুল….
.
.
তুসির সাথে ঘুড়তে ঘুড়তে এক সময় আমি তুসির প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ি এবং ভালোবাসতে শুরু করি। তখন আমার আব্বু দুনিয়াতে বেঁচে ছিলো,.
.
আমদের সম্পর্ক খুব সুন্দর ভাবে চলতে থাকে, কেউ কারো উপর কোনো অভিযোগ করার সুযোগ পেতাম না, কিন্তু নানান ভাবে তুসি আমাকে ভালোবাসার পরীক্ষা নিতো, যা অামি এক অক্ষরও বুঝতাম না,কিন্তু প্রতিবার আমি জিততাম..
তাই রেগে গিয়ে তার পরীক্ষার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতো।আমিও প্রস্তুত থাকতাম….
এভাবেই চলতে থাকে মাষ্টারি-শিক্ষার্থী খেলা…
.
.
–কিন্তু সম্যসা হলো যখন ইন্টারমিডিয়েট শেষ করলাম, তুসির পরিবার তুসিকে বিদেশে পাঠিয়ে দিলো, কিন্তু আমি তুসিকে ছাঁড়তে চাইতাম না, তুসিরও খুব একটা ইচ্ছা ছিলো না, কিন্তু পরিবারের জন্য, যেতে হয়েছে ছিলো,
যাওয়ার অাগে তুসি আমাকে কথা দিয়েছিলো, তুসি আমাকে কখনো ভূলে যাবে না, ও সব সময় যোগাযোগ রাখবে এবং দেশে ফিরে সর্বপ্রথম আমার সাথে দেখা করবে।.
.
.
কিন্তু এর মধ্যে তুসির কিছু শর্ত ছিলো, শর্ত গুলো এমন….
১,- প্রথম মতো কোনো মেয়ের দিকে তাকানো যাবে না, মেয়েদের সাথে ঘুড়তে যাওয়া যাবে না এবং মেয়েরা প্রপোজ করলে, এড়িয়ে চলতে হবে।
২,-প্রতিদিন ইমো তে ভিডিও কল করতে হবে।
৩-প্রতিবার বিশেষ দিনে, (বার্থডে, প্রথম দেখা ইত্যাদি) সবার আগে উইশ করতে হবে।
৪- সে দেশে ফিরে আসার মধ্যে নিজের ক্যারিয়ারটা গড়ে তুলতে হবে।
—-
কিন্তু আমি এগুলো একটা শর্ত পূরণ করতে পারি নাই, প্রথম তিন বছর সব ঠিক-ঠাক চলছিলো, কিন্তু আব্বু যে রাতে হাসপাতলে নিয়ে যাই এবং তিনি ইন্তেকাল করেন, ওই দিন তুসির জন্মদীন ছিলো, তাই সেদিন তাকে উইশ করতো পারি নাই, কিন্তু পরে অনেক বার যোগাযোগের চেষ্টা করছি, কিন্তু তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি …।
.
.
.বর্তমানে…..
এই পাগলী এবারতো কান্না থামাও, (আমি)
–বলো, আমাকে ক্ষমা করছো কি না?(তুসি)
–কিসের জন্য? তুমি কোনো অপরাধ করো নাই আমার কাছে (আমি)
(এবার তুসি আমার বুকের উপর থেকে মাথা তুলে চোখ মুচতে, মুচতে বলছে)
–আমি অনেক বড় অপরাধ করছি, তুমি আমাকে শাস্তি দাও, জানি এই অপরাধের কোনো ক্ষমা হবে না। (তুসি)
–তুমি কি বলছো এসব হুম(আমি)
–সেদিন তোমাকে আমি ভূল বুঝেছি, আমি ভাবছিলাম, হয়তো এতো বছর দুরে আছে বলে, এ জন্য তুমি সব কিছু ভূলে গেছো।(তুসি)
–কোন দিন?(আমি)
—লাস্ট বছর যখন আমার জন্মদীন ছিলো, তুমি আমাকে উইশ করতে ভূলে গেয়েছিলে..(তুসি)
–আমি কিছুই….(আমি)
(মাঝ পথে কথা থামিয়ে দিলো)
–থাক বলতে হবে না, পড়ে আমি সব কিছু শুনেছি, সেদিন অাক্কেল হাসপাতলে ছিলো, এবং ওদিন রাতে অাক্কেল ইন্তেকাল করেন, পড়ে আমি সব কিছু আনিলার কাছে শুনতে পেরেছি, ওই দিন তুমি যখন আমাকে উইশ করলে না, আমি অনেক কান্না করেছি, আমার মরে যেতে ইচ্ছা করেছিলো, ভাবছিলাম তুমি হয়তো আমাকে এখন আর ভালোবাসো না, তাই সিম পাল্টে ফেলি (তুসি)
—তোমার সাথে অনেক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারি নাই (আমি)
–আমি আনিলার কাছে শুনতে পাই, তোমাকে আনিলার বডির্গাড হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, কারণ আনিলাকে তোমার সম্পর্কে সব কিছু বলেছিলাম, তোমার ছবিও দেখাইছিলাম, যখন আনিলা তোমার বায়োডাটা পড়েছে, তখন তোমাকে চিনতে পেরে আমার পুরো বিষয়টা জানায়, তখন দ্বিতীয় বার আবার মরতে ইচ্ছা হয়েছিলো, কারণ তখন থেকে নিজের মধ্যে অপরাধ বোধ কাজ করতে শুরু করে, অনেক বার চেষ্টা করেছি, তোমার সাথে যোগাযোগ করার, কিন্তু সাহস হয়নি…
কিন্তু আনিলার মাধ্যমে তোমার প্রতিটা পদক্ষেপের খবর আমি পেয়েছি, তোমাকে সেদিন জুবলীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো কোনো জানো?(তুসি)
—না, কোনো?(আমি)
–কারণ ওই তারিখে, তোমার সাথে বিদেশ যাওয়ার সময় শেষ কথা ছিলো, শর্তগুলো ওখানে বসে দিয়েছিলাম।(তুসি)
–আমি তোমার একটা শর্তেও রাখতে পারি নাই, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও (আমি)
–লিয়ন, তুমি সত্যি অনেক বোকা, কে বলছে তুমি আমার শর্ত পূরণ করো নাই (তুসি)
–হুম, পারি নাই তো, তোমার কথা মতো বিশেষ দিনে উইশ করতে পারি না,, চার বছরের শেষ বছর ভিডিও কল করতে পারি নাই, ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারি নাই, তাহলে কি পারলাম(আমি)
—তুমি আমার প্রথম শর্ত পূরণ করেছো, তুমি কলেজের কোনো মেয়েকে পাত্তা দাওনি, এমন কি যখন আনিলা তোমাকে প্রপোজ করলো, তখন তাকে তুমি না করে দাও, এটা যেনে যে আনিলা এতো বড়লোকের মেয়ে, যেখানে তুমি আমার আসল পরিচয়টা জানতে না, জানতে আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, আনিলাকে আমি নিজেই তোমাকে প্রপোজ করতে বলি, এটা দেখার জন্য যে তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো কি না? এমনি তোমার টাকার লোভ আছে কি না, অবশ্য আমি জানতাম, তুমি এমন নয়, যখন জানলাম তুমি আনিলাকে না বলে দিয়েছো,
জানো লিয়ন, তখন তোমার প্রতি শ্রদ্ধা আমার দ্বিগুন বেড়ে গেছে। (তুসি)
—তার মানে আবার পরীক্ষা?(আমি)
—হুম, তবে বরাবরের মতো এবারও তুমি ফাস্ট(তুসি)
—কতো-দিন আর পরীক্ষা নিবো?(আমি)
–তুমি যদি সুযোগ দাও, তাহলে আজীবন(তুসি)
—হুম, অবশ্যই দিবো,, মাস্টারনী
(এবার আমি আমার জান-পাখীকে খাঁচায় বন্দি করে ফেললাম, বুকের খাঁচায়)
—আমি আব্বুকে তোমার কথা বলেছি, আব্বু বিদেশ থেকে ফিরে আসলে তোমার সাথে কথা বলবে, তাছাড়া তোমাকে আব্বুর খুব পছন্দ,তোমার সততা, নিষ্টা সব কিছু আব্বুকে মুগ্ধ করেছে।
তুসিকে বুকের মাঝে রেখে জোংস্ন্যা রাতের বাকী সময়টুকু পরর্বতী জীবনের পরিকল্পনা করে কাটিয়ে দিলাম।
.
.
.
.আনোয়ার সাহেব বিদেশে থেকে এসে আম্মুর সাথে কথা বলেছে, কিন্তু স্যমসা হলো একটা, একি নীলাকে আম্মু আমার বিয়ের জন্য আংশটি পড়িয়ে রাখছে, নীলার পরিবার থেকে বিয়ের জন্য অনেক চাপ দিচ্ছে, কারণ তাদের সব আত্বীয় স্বজনদের নাকী বিয়ের কার্ড দেওয়া হয়েছে।

তখন আনোয়ার সাহেবের হস্তক্ষেপে নীলার পরিবার চুপ করে থাকে এবং নীলার অন্য জায়গায় বিয়ের ব্যবস্থা এবং সর্ম্পণ খরচ আনোয়ার সাহেব বহন করে। নিদিষ্ট দিনে নীলার বিয়ে শেষ হয়।
নীলার হাজব্যন্ডকে আনোয়ার সাহেবের কোম্পানীতে চাকুরী দিয়ে দেয়…..
.
,।
দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে আমাদের বিয়ে (তুসি, লিয়ন)সর্ম্পন হয়, কারণ আনোয়ার সাহেব বড় লোক হলেও মানুষটা খুব ভালো, তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই….
একদম তুসির মতো….
আমাদের বিয়েতে তিনি দ্বিমত করে নাই এবং আমার পরিবারের দ্বিমত থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না।
.
আজ সেই শুভ মাহেন্দ্রক্ষণ সময়, মানে বিয়ে…
.
.
অবশেষ বাসার ঘর…
–তুসি, এই দিকে আসো,
–না, আমার লজ্জা করছে,
— আমি নিজেই তুসিকে কাছে টেনে নিয়ে, মাথার ঘোমটা সরিয়ে, আলতো করে চুমু এঁকে দিলাম, তারপর আস্ত করে বিছানায় শুয়ে দিলাম(বাকী অন্ধকারের জন্য বলতে পারলাম না, লাইট চলে গেছে,)
—(বাকীটা বুঝে লন মিয়া)
.
.
বডির্গাড থেকে আমার ম্যানেজার হওয়া আর হলো না, তবে পুরো মালিক হাবার সম্ভবনা আছে, কারণ আনিলার ভাব-গতি ভালো না, এখনো প্রপোজ করে। (দৃষ্টামী)।
…….সমাপ্ত……..
.
.
.
বি দ্র :(অল্পতে হতাশ হবেন না, খারাপ সময় শিক্ষা হিসেবে নিয়ে, ভালো সময়ের অপেক্ষা করুন)
লেখা :Repon Hossain Leon….

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *