বিপদেই বন্ধুর পরিচয়
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮
লেখকঃ

 115 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখিকা: আফরোজা আক্তার ইতি

আজ প্রায় আড়াই বছর পর রাফসানের সাথে দেখা হল। লাল রঙের চকচকে, এক বিশাল পাজেরো গাড়ির সামনে সে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে কালো সানগ্লাস। যে কেউ প্রথম দেখায় তাকে নির্ঘাত অন্ধ ভেবে ভুল করতে পারে। এতো কাঠফাটা রোদেও সে বাবুসাহেবের মত স্যুট-টাই পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়িয়ে আছে বললে ঠিক ভুল হবে। এক পা বাড়িয়ে রেখেছে এক মুচির সামনের পিঁড়িতে। মুচি তার পায়ের কালো স্যু গুলো কালি দিয়ে ঘষে চকচকে করার চেষ্টা করছে। জুতোর কালির চেয়েও বেশ কালো হয়ে আছে তার চেহারা! সম্ভবত বাবুসাহেবের এ আচরণ সে মেনে নিতে পারছে না।
আমি সামনে এগোতেই রাফসান ফিক করে হেসে বলল, “আরে, রফিক না!”
আমি না চেনার ভান করে ওর দিকে তাকালাম। তার মুখ হতে কান পর্যন্ত বিস্তৃত হাসি। পান খেয়ে পুরো মুখ লাল টকটকে করে রেখেছে। স্যুট-টাইয়ের সাথে লাল টকটকে মুখ বেশ বেমানান লাগছে। আমি ওকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলাম। বেশ কিছু সঙ্গত কারণেই ওকে আমার পছন্দ না। তাই যতটুকু সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলাম।
রাফসান হাত নেড়ে বলল, “এই রফিক, যাচ্ছিস কোথায়? দাঁড়া না।”
অগত্যা অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও আমি মুচকি হেসে দাঁড়িয়ে পড়লাম। বিরাটভাবে ফেঁসে গেছি, দাঁড়িয়ে পড়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। রাফসান ওর পকেট থেকে পেটমোটা, দামি কালো চামড়ার মানিব্যাগ বের করে বিশটাকা মুচির দিকে ছুঁড়ে দিতে দিতে বলল, “এই নে। একটা জুতা পলিশ করতে এতোক্ষণ লাগে!” এরপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “সব হচ্ছে জোচ্চরের দল, বুঝছিস? খালি কাজে কিভাবে ফাঁকি দিবে এই ধান্দা খুঁজে।” মুচি অসহায় চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সযত্নে তুলে লুঙ্গির কোঁচরে ভরল।
মাথার উপর চড়া রোদ উঠেছে। ঘেমে নেয়ে যাচ্ছি। রাফসান আমার দিকে তাকিয়ে বলল,”যা রোদ! শার্ট পুরো ঘেমে ভিজিয়ে ফেলেছিস। আয়, আমার গাড়িতে আয়। গাড়িতে এসি আছে। কোথায় যাবি নামিয়ে দিব।”
-“না, আজ থাক। আমি হেঁটেই যেতে পারব।”
-“আরে আয় তো। বন্ধুর বেলায় বন্ধু থাকবে না তো কে থাকবে? বিপদেই তো বন্ধুর প্রকৃত পরিচয়।”
আমি গাড়িতে উঠে পড়লাম। গাড়ির এসির ঠান্ডা বাতাসে গা জুড়িয়ে গেল। কি নরম তুলতুলে গদি! পিঠ ঠেকালেই মনে হয় সোফা, চট করে একটু আরামের ঘুম দিয়ে নেই। গাড়িতে হিন্দি গান চলছে। বেশ পুরনো দিনের গান। “ক্যায়সে বানি, ক্যায়সে বানি।” ড্রাইভাররা সাধারণত খুব দ্রুত গাড়ি চালায়, এই ড্রাইভার ধীরে সুস্থে গাড়ি চালাচ্ছে। কিন্তু এতো আরামের মধ্যেও শান্তি খুঁজে পাচ্ছি না। রাফসান হাত পা নেড়ে বকবক করেই চলেছে।
-“রফিক, বিয়ে-শাদি করেছিস?”
-“না।”
-“তুই কি এখনো চাকরিই করিস?”
-“হুঁ। ”
-“চাকরি করিস কেন? আমার মতো ব্যবসা করবি, ব্যবসা। চাকরি করা মানেই চাকরামি করা, পরের অধীনে থাকা। প্রভুর অধীনে থেকে গোলামি করার কোন মানে হয়?”
আমি ঠিক এই আশঙ্কাই করছিলাম। হ্যাঁ, না কিছুই বললাম না। চুপ করে রইলাম। রাফসান অবশ্য আমার উত্তরের অপেক্ষায়ও রইল না। অনর্গল বলতে লাগল, “আমরা কেউই কোন প্রভুর অধীনে নেই। সবকিছু হচ্ছে প্রাকৃতিক নিয়মে। রোদ হচ্ছে, বৃষ্টি হচ্ছে, মানুষ জন্মগ্রহণ করছে, মারা যাচ্ছে। সবকিছুই ন্যাচারাল সিস্টেমে হচ্ছে। এখানে সৃষ্টিকর্তা বলে কিছুই নেই। সবকিছুই নিজের থেকে তৈরি হচ্ছে, নিজের থেকেই ধ্বংস হচ্ছে। এই যে দেখ, সুন্দরবনের গাছগুলোর কথাই ধর। এগুলো কি কেউ ওখানে বুনে দিয়ে এসেছে? কেউই না। একটা প্রাকৃতিক নিয়মেই প্রথমে একটা গাছ বড় হয়। তাতে ফল আসে, সেই ফল ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। একসময় সেই ফল বেশ বড় আর ভারী হয়ে বোঁটা থেকে ছিঁড়ে নরম মাটিতে পড়ে সেখানে গেঁথে যায়। সেটাই মূল হয়ে আস্তে আস্তে চারা হয়, গাছ হয়। সবকিছুই ঘটছে প্রকৃতির নিজস্ব সিস্টেমে। তোর কি ধারণা এখানে আল্লাহ নামের কারো হাত আছে?”
আমি কয়েক সেকেন্ড কিছুই বলতে পারলাম না। ওর দিকে নিষ্পলকভাবে তাকিয়ে রইলাম শুধু। বললাম, “এখানে আমাকে নামিয়ে দে। মসজিদে যাব। যোহরের আজান দিচ্ছে, নামাজ পড়তে হবে।”
রাফসান হাহাকার করে উঠল, “কি বলিস! কতদিন পর দেখা হল, আয় গল্প করি।”
আমি গাড়ি থেকে নামতে নামতে বললাম, “আয় তাহলে একসাথে নামাজটা পড়ে নেই। তারপর গল্পও করা যাবে।”
-“তুই না এখনো সেকেলেই রয়ে গেলি।” দাঁত মুখ খিঁচড়ে কথাটা বলেই ধড়াম করে গাড়ির গেট লাগিয়ে দিল ও। মুহূর্তেই তার বিশাল লাল পাজেরো ফোঁস করে চলে গেল সামনে থেকে।
মসজিদে ঢুকে নামাজ শেষ করে মাত্র দু’হাত তুলেছি মোনাজাত করব বলে। হু হু করে বুক ফেটে কান্না চলে এল। তবে কি আমাদের মাথারর উপর ছায়া বলে কেউ নেই? আমাদের রহমত দেয়ার কেউ নেই? যার সিজদায় মাথা নত করলে শান্তিতে প্রাণ জুড়িয়ে আসে, যার দুয়ারে এক ফোঁটা চোখের পানি ফেললে নিজেকে সমস্ত গুনাহ থেকে মুক্ত মনে হয়, তিনি কি সত্যিই নেই? মোনাজাত শেষে চোখের পানি মুছে ইমাম সাহেবের থেকে কোরআন শরীফ নিলাম। সূরা ইউনুসে এই পুরো পৃথিবী মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন তা স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে। পড়ে মনটা সত্যিই হালকা হয়ে গেল। কি অবুঝের মতই না রাফসানের কথায় এসব ভাবছিলাম। ওর নাস্তিকতার প্রভাব আমার মনকেও ঘুরিয়ে দিচ্ছিল। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে মসজিদ থেকে বের হয়ে অফিসে গেলাম।
অফিস থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেল। আজ ওভারটাইম কাজ করতে হয়েছে। জামা পাল্টে ফ্রেশ হতে যাওয়ার সময় শার্টের বুক পকেট থেকে একটা নীল রঙের ভিজিটিং কার্ড পড়ল।
মেঝে থেকে তুলে নিতেই মনে পড়ল এটা রাফসানের কার্ড। গাড়িতে বসে কথা বলার এক ফাঁকে সে আমার বুক পকেটে এটা ভরে দিয়ে বলেছিল, “নে রাখ। কোন প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করিস। ভালো কোন চাকরির দরকার হলে বা বিজনেসের কথা বলতে চাইলে আমাকে শুধু একটা কল দিবি। আরে বন্ধুর বেলায় বন্ধু থাকবে না তো কে থাকবে? বিপদেই তো বন্ধুর প্রকৃত পরিচয়।”
ভিজিটিং কার্ডে রাফসানের ফোন নাম্বার আর বাড়ির ঠিকানা দু’টোই দেয়া আছে। আমি ফোন নাম্বার ডায়াল করে ওকে কল দিলাম। কিছুক্ষণ পর ওপাশ থেকে এক গম্ভীর গলা শোনা গেল।
-“হ্যালো, কে বলছেন?”
-“আমি রফিক, যার সাথে আজকে আপনার দেখা হয়েছিল।”
-“আরে দোস্ত, তুই! এতো রাতে কি মনে করে?”
-“ভেবে দেখলাম, এতোদিন পর আমাদের দেখা হয়েছে। ওভাবে হুট করে গাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া আমার ঠিক হয় নি। ভাবছি, আমি কাল তোদের বাসায় যাব। একরাত থাকবো, তোর সঙ্গে গল্প করব। কোন আপত্তি আছে?”
-“কোন আপত্তি নাই। তুই তাড়াতাড়ি চলে আয়। মিতু জানলে ভীষণ খুশি হবে।”
-“মিতু কে?”
-“কে আবার! আমার স্ত্রী।”
-“আচ্ছা।” রাফসানের সাথে কথা শেষ করে ফ্রেশ হতে গেলাম।
পরদিন অফিস শেষে খুব তাড়াতাড়িই রাফসানের বাসায় উপস্থিত হলাম। রাফসান আনন্দে গদগদ হয়ে আমাকে পুরো বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখাতে লাগল। আমার মতো ছা-পোষা মানুষের কাছে এই বাড়ি রাজপ্রাসাদ। আমি অবাক হয়ে চারদিক দেখছি। এমন সময় তার এক সার্ভেন্ট এসে আমাদের বলল,”স্যার, খাবার দেয়া হইছে।”
আমরা খেতে বসলাম। রাজপ্রাসাদের রাজকীয় সব খাবার। হয়তো আমি আসবো বলে ভালো ভালো সব খাবার রান্না হয়েছে। আর নয়ত এমনও হতে পারে, এবাড়িতে সবসময়ই ভালো ভালো খাবার রান্না হয়। ক্ষুধার পেট, আমি যতটুকু পারলাম, খেলাম। কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারলাম না। ধনীদের খাবার রাজকীয় হতে পারে, কিন্তু তৃপ্তির হয় না কখনোই।
রাফসানের মুখ থেকেই জানলাম, তার স্ত্রী মিতু সম্পূর্ণ তার বিপরীত চরিত্রের মানুষ। পরহেজগার মেয়ে, নামাজ পড়ে, কোরআনে হাফেজা, পর্দা করে। রাফসান কথার মাঝে বারবারই বিরক্তি নিয়ে বলল, “বুঝলি, ওর এসব আদিখ্যেতা দেখলে ইচ্ছা করে এখনই ডিভোর্স দিয়ে দেই। কিন্তু মিতু যেমন গুণবতী, তেমন রূপবতী। খুব ভালো একটা মেয়ে। ছাড়তে মন চায় না।” রাফসান হড়বড় করতে করতে আরো অনেক কথাই বলল। প্রতিটি কথায় নাস্তিকতার ছোঁয়া। রাতে নাকি তার মদ্যপানের অভ্যাস আছে। গ্লাসের পর গ্লাস খেয়ে নেশায় বুঁদ হয়ে ঘুমাতে গেল।
ঘুমুতে যাবার আগে দু’পাতা কোরআন তিলাওয়াত করা আমার অভ্যাস। গুনগুনিয়ে পড়ছি, এমন সময় দরজা পাশে পর্দার আড়ালে চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ হল, চিকন সুরে কেউ সালাম দিল। আমি সালামের জবাব নিয়ে বললাম, “কে?”
-“আমি আপনার বন্ধুর স্ত্রী। আপনি অতিথি, আসার পর আপ্যায়ন করতে পারি নি। আপনার আতিথেয়তার অসম্মান হবে ভেবেই পর্দার আড়াল থেকে কথা বলছি। আপনার এখানে কোন অসুবিধা হচ্ছে না তো?”
-“আপনাদের রাজপ্রাসাদের এতো সমাদর আমার জন্য অনেক বেশি।”
মেয়েটি হাসল। “বুঝলেন ভাইসাহেব, আল্লাহ আমাকে সবই দিয়েছেন। সুখের কোন কমতি নেই। কিন্তু স্বামীকে কিছুতেই তাঁর পথে আনতে পারছি না, এটাই কষ্ট। সবকিছুতেই আল্লাহর প্রতি তার অবিশ্বাস। আপনি তার বন্ধু মানুষ। তাকে বুঝিয়েন।”
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, “শুধু আমি একা না, আপনাকেও তাকে বুঝাতে হবে।”
মিতু অবাক কন্ঠে বলল, “মানে!”
আমি মিতুকে আমার প্ল্যানটা বুঝিয়ে বললাম। মেয়েটি খুশি হয়ে সায় জানিয়ে চলে গেল।
ফজরের আযান দিচ্ছে। আমি চোখ কচলে ঘুম থেকে উঠে গেলাম। ওজু করতে হবে। মগভর্তি পানি নিতেই মেইন গেটে বিকট চিৎকার শুনতে পেলাম। মগ রেখে দৌড়ে ছুটে গেলাম সেখানে। জগিং স্যুট পড়ে কলাপসিবল গেইট ধরে রাফসান মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে। আমি ওকে দেখে বললাম, “কিরে, কি হয়েছে?” ও ছানাবড়া চোখে আঙুল দিয়ে ইশারা করে বলল, “এটা কোথা থেকে আসল?” আমি ওর ইঙ্গিতের দিকে তাকিয়ে দেখলাম খড়কুটো দিয়ে তৈরি করা মানুষের অবয়বে একটা মূর্তি। খুব সহজ ভঙ্গিতে হাই তুলতে তুলতে বললাম, “কোথা থেকে আসবে আবার? এটা প্রাকৃতিক নিয়মেই হয়েছে।”
রাফসান থতমত গলায় বলল, “এটা কিভাবে সম্ভব? এটা নিশ্চয়ই কেউ বানিয়েছে।”
-“মোটেই না। এটা ন্যাচারাল সিস্টেমেই একরাতের মধ্যে মাটি ফুঁড়ে উদয় হয়েছে।”
-“এটা কোনভাবেই সম্ভব না। এটা কেউ গেইটের সামনে বানিয়ে রেখেছে। নয়ত এটা তো নিজে থেকে তৈরি হতে পারবে না!” রাফসান বেশ জোর গলায় বলল।
আমি ওর কাঁধে এবার হাত রেখে বললাম, “বন্ধু, তুই এটাই বিশ্বাস করতে পারছিস না যে, এই সামান্য খড়কুটোর মূর্তি কোন মানুষ বানায় নি, বরং প্রাকৃতিক নিয়মে সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে তুই এটা কিভাবে বিশ্বাস করছিস যে এই পুরো বিশ্ব- ব্রম্মান্ডের কোন সৃষ্টিকর্তা নেই, সবকিছুই প্রাকৃতিক নিয়মে সৃষ্টি হয়েছে? যেখানে তুই ভাবছিস একটা খড়কুটোরর মূর্তির কোন সৃষ্টিকর্তা আছে, তাহলে কেন একবারো ভাবছিস না পুরো পৃথিবী সুনিপুণ ভাবে গড়ে ওঠার পেছনেও একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন?”
রাফসান কয়েক মিনিট কিছুই বলতে পারলো না। শুধু হতভম্ব হয়ে অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর অস্ফুট স্বরে বলল, “তার মানে তুইই—?”
আমি শান্ত গলায় বললাম, “হ্যাঁ, আমিই এই খড়কুটোর মূর্তির বানিয়েছি। যখন তুই রাতে ঘুমোচ্ছিলি।”
লজ্জায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল রাফসান। বেশ কিছুক্ষণ পিনপতন নীরবতা। নীরবতা ভেঙে আমিই বললাম,”চল, নামাজ পড়তে যাই। এখনো ফজরের ওয়াক্ত আছে। দু’জন ওজু করে নেই।”
অপরাধীর মত কাঁচুমাচু হয়ে রাফসান বলল, “আমি যে নামাজ পড়তে জানি না রে।”
আমি মুচকি হেসে ওর কাঁধে হাত রেখে বললাম, “আমি শিখিয়ে দিব। আরে বন্ধুর বেলায় বন্ধু থাকবে না তো কে থাকবে? বিপদেই তো বন্ধুর প্রকৃত পরিচয়।”

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৮ Comments

  1. আখলাকুর রহমান

    হল – হলো (সাধারণত ব্যবহৃত হয়। “হল” শব্দের প্রয়োগ অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়)

    স্যুট-টাই পড়ে – পরে

    মন চায় না – চাই (যেহেতু কথাগুলো রাফসান বলছিল। তাই হ্রস ই কার হবে)

    ব্রম্মান্ডের – ব্রক্ষ্মাণ্ড

    খড়কুটোরর – খড়কুটোর

    গল্পে লজিক ছিলো বলতে হবে। নাস্তিক বন্ধুকে ইসলামের পতাকা তলে আনার সফল প্রয়াস।
    অনেক ভালো লিখেছেন।
    শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।

    Reply
    • আফরোজা আক্তার ইতি

      অনেক ধন্যবাদ ভাই। আমি একটা মন্তব্যের আশায় ছিলাম।
      ধন্যবাদ ভুল-ত্রুটি গুলো সংশোধন করে দেয়ার জন্য। এছাড়াও গল্পের মর্মার্থ বুঝতে পারার জন্য আরো শুকরিয়া।
      তবে সেটা ‘মন চায় না’ ই হবে। কারণ আমরা যেটাতে অনিচ্ছুক হই সেটাতে বলি, “আমার স্কুলে যেতে মন চায় না।” এটা বলি না যে, “আমার স্কুলে যেতে মন চাই না।”
      আবারো ধন্যবাদ ভাই।

      Reply
  2. Shahadat Abin

    মুগ্ধ হয়েছি গল্পটা পড়ে,,বেশ ভালো লাগলো

    Reply
  3. রেজাউল করিম

    বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। অসাধারন প্রকাশ। অনেক শুভ কমনা রইল।

    Reply
    • আফরোজা আক্তার ইতি

      অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের দোয়া কামনা করছি।

      Reply
  4. মাহফুজা সালওয়া

    অসাধারণ থিম + লেখনী!
    মুগ্ধকর উপস্থাপন।
    বানানে অল্পকিছু ত্রুটি আছে, ব্যাপার না।
    আল্লাহ আপনার লেখাকে সাদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে কবুল করুন, এই দোয়া রইল।
    গল্পের নাম নির্বাচনে আরো দক্ষ হতে হবে,কারণ এই নামই কিন্তু পাঠকের প্রধান আকর্ষণ!!!
    শুভকামনা আপনার জন্য।

    Reply
    • আফরোজা আক্তার ইতি

      অসংখ্য ধন্যবাদ আপু। আসলে গল্পের জন্য কোন নাম খুঁজে পাচ্ছিলাম না।যেহেতু এই নামটিই গল্পের সাথে মানানসই হয় তাই এটিই রেখেছি।
      আবারো ধন্যবাদ আপু।

      Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *