আহারে চোর বেচারা
প্রকাশিত: মে ১৭, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 53 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ
আমির হামযা
(মে – ২০১৮)
……………

রাত প্রায় ১২:৩৭। সবেমাত্র বইপত্রের পাঠ সাঙ্গ করে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছি। এ আর এমন কী রাত। সবে তো রাতের শুরু। ফেসবুকে লগ ইন করতে নেবো, ঠিক তখনি দুম করে একটা শব্দ হলো। যেনো কারো গায়ে লেগে অসাবধানতাবশত একটা কিছু পড়ে গেলো। ব্যাপার কী! এইসময় তো বাড়ির সবাই ঘুমালপুরে চলে গেছে।তাহলে শব্দ করলো কে!? কারো একটা চুপিচুপি চলার আওয়াজও আসছে! নির্ঘাত সন্ধার চোরটা আবার এসেছে। সন্ধায়ও যখন বাড়িতে একা ছিলাম তখন শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেছিলাম চোরটাকে পালিয়ে যেতে। সাহস কতো আবার এসেছে রাতের বেলা! আইজ চান্দু তুমি পালাইবা কই। আইজ তোমারে মাইরালামু।
চুপি চুপি রুমের দরজা খুলতে গেলাম। দেখি পাশের রুম থেকে আব্বু আম্মু বের হয়ে গেছে। আমি কিছু বলতে নেবো, আম্মু শব্দ না করে চুপচাপ দাঁড়াতে বল্লো। আজ আব্বু আম্মুই ওর ব্যবস্থা করবে। আমি একটা কোনে দাঁড়িয়ে ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে দেখতে থাকলাম কি হয়।
আব্বু চুপিচুপি গিয়ে কিচেনের গেটটা টেনে বাইরে থেকে আস্তে করে লাগিয়ে দিলো। তারপর বললো “পাইসি আজকে”। ভিতর থেকে বেশ হুড়মুড়ানো শব্দ হলো। কেউ যেনো বেরিয়ে আসতে চাইছে। আম্মু বললো, “প্রায়ই আমার জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। আজকে আর ছাড়বানা। মেরে ফেলো একেবারে।” আমি চোখ বড় বড় করে ঘটনা দেখছি। সত্যি সত্যি মেরে ফেলবে মনে হচ্ছে! আম্মু একটা বড় লাঠি হাতে নিল। আব্বুকে একটা লোহার রড দিলো। বিরাট একটা গরু জবাই করা ছুরি নিয়ে এসে আমার হাতে ধরিয়ে দিলো। আমি আৎকে উঠলাম, আল্লাহ আমাকেই আবার এটা দিয়ে জবাই করতে বলবে নাকি!
আব্বু রড হাতে দরজাটা খুলে ভিতরে চলে গেলো। আম্মু বাইরে থেকে দরজা ধরে রেখেছে। যাতে পালাতে না পারে চোরটা। আর সাবধান থাকতে বলছে আব্বুকে, যদি পালটা এ্যাটাক করে! ভিতরে প্রায় ধস্তাধস্তি চলছে। টান টান উত্তেজনা নিয়ে আমরা বাইরে অপেক্ষা করছি। বিচিত্র রকমের আওয়াজ আসছে। আব্বু তাড়াতাড়ি একটা বস্তা দিতে বল্লো। আমি এনে দিলাম, আম্মু সেটা দরজা একটু ফাক করে পাস করলো। যদিও বস্তা ব্যবহারের প্রয়োজন পরেনি শেষ পর্যন্ত। আম্মু বারবার চিল্লাইতেই আছে, কি হচ্ছে! আব্বুর লাগলো নাকি! ধরতে পারলো কিনা! লাঠি, ছুরি দেবে কিনা! আব্বু বল্লো,”চুপ করো, নাহলে তোমাকেই ঢুকায় দিবো” আম্মু চুপ করে গেলো। আব্বু এবার বড় ছুরিটা চাইলো। আম্মু আমার হাত থেকে ছুরিটা নিয়ে ভিতরে আব্বুকে দিলো।ভিতর থেকে হাড়ি পাতিল পড়ার আওয়াজ আসছে। চোরের ফোস ফোস করার শব্দ হচ্ছে। চিৎকার করছে আঘাত পেয়ে! বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আহ, কী কষ্টের! মাঝরাতে একটা প্রাণ হত্যা!
একপর্যায়ে আম্মু দরজা খুলে ভিতরে উঁকি দিলো। আমিও দৌড়ে গেলাম দেখতে। সিলিন্ডারের পাশে পড়ে ছটফট করছে রক্তাক্ত দেহটা। চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে গেছে।। টকটক করে বড় বড় চোখ করে আব্বুর দিকে চেয়ে আছে, আর ক্ষীণ স্বরে আর্তনাদের মতো করছে! আব্বুকে দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনিও কষ্ট পেয়েছেন খুনটা করতে। যতই হোক একটা প্রাণ নেয়া বলে কথা! কিভাবে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আব্বুর দিকে। অবশেষে প্রাণ ত্যাগ করলো। আব্বু একরকম যুদ্ধ করেই খুনটা করলো! প্রায় ২০ মিনিটের একটা ছোটখাটো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। যাতে আব্বুর হাতে সামান্য একটু লেগেছে অস্ত্রচালনায়।
আম্মু নাক মুখ কুচকে বল্লো, “চারদিক রক্তে ভাসাইলো। এখন পুরো কিচেনটা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা লাগবে। উফ অসহ্য।” আব্বু বল্লো, “এই ছুরিটা দিয়ে দুজনকে খুন করা হলো। যাইহোক এবার লাশটা কই ফেলবো বলো!” তারপর আম্মুর আদেশ মতো আমি গেট খুল্লাম বাইরের, আর আব্বু একাই বিশালদেহী লাশটা নিয়ে বাইরে জঙ্গলের মতো একটা জায়গায় ফিক মারলো।কেউ জানতেও পারলো না, আমরা একটা খুন করলাম। একটা বড়সড় ইঁদুর মেরে ফেল্লাম।যেটা রোজ বাড়িতে এসে চোরের মতো খাবারদাবার, সাবান, টুকটাক ছোটখাটো জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যেতো। অবশেষে ওটাকে মারা গেলো। তাও একটা খুন করা হলো! ইঁদুর হলেও তো ওটা একটা প্রাণীই! ওর ও তো ঘর সংসার আছে! গর্তে বউ বাচ্চা রেখে এসেছিলো বা হয়তো বর বাচ্চা!! আহারে বেচারা।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *