লুকোচুরি
প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৫, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 81 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখক: মো:আবু রায়হান রাকিব
……………………..

সবে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া এক তরুন “তাহমিদ”।
ক্লাস ও অন্যান্য অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ভার্সিটির কাছাকাছি এক ফ্ল্যাটে ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া নেয়।
প্রথম মাসেই ভালো পরিচয়ের সুবাদে বাড়িওয়ালার মেয়েকে পড়ানোর দায়িত্ব পেয়ে যায়। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি।
মধ্যবিত্ত পরিবারের তাহমিদের কাছে টিউওশনিটা তেমনি।
যাহোক…মা বাবার স্বপ্নাতুর চোখের আকুতি রক্ষার্থে তাহমিদের ধ্যান জ্ঞান বেড়ে উঠে পড়ালেখা কে ঘিরে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়মমাফিক ব্রাশের তান্ডব
বের হয়ে রহিম মামার দোকানে চা-পরটা
সারাদিন ভার্সিটি আর টিউওশনি…রাতে অনলাইনে কিছুক্ষন.. তারপর ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যাওয়া…
এ ছিলো তাহমিদের নিত্যকার রুটিন।
ছুটির দিনে বন্ধু বান্ধবের সাথে কিছুটা সময় কাটানো।

কে জানতো তাহমিদের অগোচরেই তাকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছিলো এক মেঘবালিকা।

কিছুদিন পরেই…
রাতভর ঝুম বৃষ্টি।
সকাল ঘুম থেকে উঠে তাহমিদ।
ভার্সিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস থাকায় কোনোমতে ব্যাগ গুছিয়ে টি শার্ট পরেই রওনা হয় ভার্সিটির জন্য।
গেট পেরুতেই বৃষ্টিতে কাকভেজা সে। তারপরও সে গেলো…
দিনভর কাজ শেষে বিকালে ছাদে তাহমিদ
আকাশটা এখন পরিষ্কার, দু একটা মেঘের দল এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে…
হঠাৎ ছাদের কোণে ফুলের টব টা তে কিছু একটা দেখতে পেলো সে। একটা ছাতা পাশে এক টুকরো কাগজ আর
তাতে লিখা..
“”””শ্রাবণের মেঘ আপনার উপর ঝাপিয়ে পডুক তা কিন্তু আমার একদম সহ্য হয়না। ছাতা সাথে রাখবেন। আজ সকালের মত যেনো আর না হয়।”””
মাথায় হাজারো চিন্তা তাহমিদের কে হতে পারে সে?
পরের কয়েকদিন এর ব্যাস্ততায় সব ভুলে গেলো সে।
দিন কয়েক পর…
তাডাহুডোয় সেদিন সকালের নাস্তা করা হয়ে উঠেনি তাহমিদের।
ফলাফল..অসুস্থ হয়ে পডলো সে। রাতে অসুস্থতা সম্পর্কিত ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে আনমনে ওইদিনের ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে লাগলো।
মধ্যবিত্ত পরিবারের তাহমিদের মাথায় আবেগ আর ঠিকেনা। কিছুক্ষন পর আবার স্ট্যাটাসে কিছু কমেন্ট এর রিপ্লাই দিয়ে রাতের খাবার টা খেয়েই ঘুমিয়ে পডে সে।
অসংখ্য লাইকের আর রিয়্যাক্টের ভিতরে একটা লাভ রিয়েকট টা চোখ এড়িয়ে যায় তার।

সকাল সকাল…
শুক্রবার আজ। তাহমিদের তেমন ব্যাস্ততা নেই।
দরজা খুলে এদিক ওদিক হাটাতে ব্যাস্ত।
হঠাৎ দেখলো সিড়ির প্রথম ধাপে একটি বাক্স।
উপরে আগের বারের মতোই একটা চিরকুট।
“”আপনার সেই নজরকাডা হাসিটার জন্য সুস্থ থাকাটা খুব জরুরী…””””
আবারো চরম সন্দেহে পতিত তাহমিদ।
কে সে?
ছয়তলা ফ্ল্যাটের অসংখ্য পরিবারের অসংখ্য মানুষ।
কে এই লুকোচুরি খেলা মানবী?
উত্তর খুজে পায়না তাহমিদ।
বাড়ী ওয়ালার মেয়েটি নজরকাড়া। টিচার খাতিরে আর বাস্তবতায় দগ্ধ তাহমিদ তাকে ও সন্দেহের তালিকায় রাখতে চায়না।মেয়েটির আচরণও তো তেমন নয়!!!

মাসখানেক পর..
দুপুরে টিউওশনির দৌড়ে থাকা তাহমিদ ছাদে শুকোতে দেওয়া কাপড় গুলো আনতে ভুলে যায়।
যখন মনে পড়ে তখন সন্ধ্যা।
ছুটে যায় ছাদে।
অনেক খুজাখুজি করেও পায়না তার শার্ট, পাঞ্জাবী আর টি শার্টগুলো।
বাড়িওয়ালা কে বলতে যাবে এমন সময় দেখতে পায় সিড়িরুমের টেবিলে তার কাপডগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা।
রুমে এসে বিছানায় ছুড়ে ফেলতেই ভাজ থেকে বেরিয়ে পড়ে একটা রঙিন চিঠি। তাতে লেখা…

“””আপনার স্পর্শধন্য কাপড় গুলোকে ভাজ করতে পারা সত্যিই আমার সৌভাগ্য”””
মাথা ভারী হয়ে উঠে তাহমিদের।
আবারো ধাধার ফাদে…

অনেক সময় কেটে গেছে এর পর।
ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ।
পূর্বের ঘটনাগুলোও স্মৃতি থেকে আবছা আবছা হয়ে যায় তাহমিদের।

খরচ বৃদ্ধি আর পারিবারিক চাপে নাভি:শ্বাস তাহমিদের।
নিজের ক্যারিয়ারের চিন্তায় তার কপালে ভাজ।
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয় বাসা ছেড়ে দেওয়ার।
সেদিন রাতেই বাড়িওয়ালা কে জানিয়ে দেয় ব্যাপারটা।
পরদিন জিনিসপত্র প্রায় গুছিয়ে ফেলা হয়েছে তার।
হঠাৎ…
ফোনে একটা মেসেজ।
অজানা নাম্বার।
“””একটু ছাদে আসবেন প্লিজ…..????””””

ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ছাদে যায় তাহমিদ।
এদিক ওদিক কাওকেই দেখতে পেলোনা সে।
লম্বা একটা নি:শ্বাস ছেড়ে রেলিং ধরে ডুবন্ত সূর্যটার দিকে তাহমিদের দু চোখ।
হঠাৎ…
পেছন থেকে পায়ের আর সাথে ডুকরে কান্নার শব্দ ভেসে আসে।
তাহমিদ অপ্রস্তত…
তাহমিদের চোখ যেনো বিশ্বাসই করতে পারছিলোনা
এই যে রিয়া। তার ছাত্রী..তার অরাধ্য রাজকুমারী।
রিয়া:প্লিজ আমার স্বপ্নগুলোকে বাঁচতে দিন।
আপনার হাসি..ব্যাক্তিত্ব, আপনাকেই আমি আমার পূজনীয় করে রেখেছি। আপনাকে আমি ভালোবাসি
নি:শব্দে চোখ বেয়ে জল নেমে আসে তাহমিদের।
চারিদিকে এক অপার্থিব সৌরভ ছড়িয়ে পড়ে।

সেদিনের লালিমা ছড়ানো সূর্যটাও দুই হৃদয়ের মিলনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলো।

সম্পর্কিত পোস্ট

ঈদের ঈদ

ঈদের ঈদ

লেখক: রাসেল আহমদ রস (জুন - ২০১৮) ............ মেয়ে: আব্বু এই নতুন জামা আমার জন্য? বাবা: হ্যাঁ মা, এইটা তোমার জন্য! সুন্দর না? মেয়ে: তোমারটা আর আম্মুরটা কই? বাবা:...

আপনাকে কি “বাবা” ডাকতে পারি?

আপনাকে কি “বাবা” ডাকতে পারি?

লেখকঃ Shopno Balika (এপ্রিল - ২০১৮) ............... অনেকদিন হলো রিকশা চালাই। নানা রকম প্যাসেঞ্জার ওঠে। মাঝে মাঝে খুব অদ্ভুত প্যাসেঞ্জার পাই। এই যেমন গত বছরের ঘটনা। সীটে বসেই কেমন অস্থির হয়ে গেলো মানুষটা। মনে হচ্ছিলো কিছু একটা নিয়ে খুব পেরেশানিতে আছে বেচারা। প্রায়...

স্বপ্নার স্বপ্ন

স্বপ্নার স্বপ্ন

গল্প লেখকঃ Md Si Rana (এপ্রিল - ২০১৮) ............... বিলাশপুর গ্রামের এক দরিদ্র ভ্যানচালকের মেয়ে স্বপ্না। প্রচণ্ড বুদ্ধিমত্তার অধিকারী স্বপ্না। ছোটবেলা থেকেই ওর স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। এত গরিব ঘরের মেয়ে হয়েও এই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখার জন্যই মূলত ওর ডাকনাম স্বপ্না।...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *